ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে মাহফিলে কমলার হালি ৫০ হাজার, খেজুর কেজি ৩০ হাজার কালীগঞ্জে ক্যাফে শীতলক্ষ্যা ফুড পার্কের শুভ উদ্বোধন হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত ধামইরহাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবসিক কোয়াটারে দুঃসাহসিক চুরি  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক বিদ্যাকুটে বশির সমর্থকদের বিশাল মিছিল, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা নবীনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আজ কাচাড়ীপাড়া, কাল ভাটির দুই গ্রাম—তিস্তার ভাঙনে আতঙ্ক

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 90 বার পড়া হয়েছে

তিস্তার ভাঙন যেন থামছেই না। নদীর তীব্র স্রোতের ধাক্কায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালীর কাচাড়ীপাড়া এখন চরম ঝুঁকিতে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ি, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ক্লিনিকসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
‎
‎ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরের ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিস্তা নদীর তীরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
‎
‎স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টের মধ্যে কাচাড়ীপাড়া সবচেয়ে উজানে। ফলে তিস্তার স্রোতের প্রথম আঘাত আসে এই পয়েন্টে। এটি রক্ষা করা না গেলে ভাটিতে থাকা অন্য দুটি এলাকাতেও ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
‎
‎মানববন্ধনে স্থানীয় মনিরুজ্জামানসহ কয়েকজন বলেন, কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা গেলে ভাটির দুটি ভাঙনপ্রবণ এলাকাও অনেকটা নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা নদীতে বিলীন হবে। এতে কয়েক হাজার পরিবার শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে পারে।
‎
‎এলাকাবাসীর দাবি, এবার তিস্তার পানি প্রথম বাড়ার সময়ই কাচাড়ীপাড়ায় ভাঙন শুরু হয়। তাদের হিসাবে, ওই সময় প্রায় ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আরও ৫০টির বেশি পরিবার বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছে।
‎
‎স্থানীয়রা বলছেন, এখনই কাচাড়ীপাড়া পয়েন্টে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎এদিকে চর নোহালীর ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎
‎এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সময় যত গড়াবে ততই বাড়বে তিস্তার গ্রাস। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন। তাই ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে দ্রুত জিওব্যাগ সরবরাহ ও নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎

এই নিউজটি শেয়ার করুন

আজ কাচাড়ীপাড়া, কাল ভাটির দুই গ্রাম—তিস্তার ভাঙনে আতঙ্ক

প্রকাশের সময় : ০৩:১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিস্তার ভাঙন যেন থামছেই না। নদীর তীব্র স্রোতের ধাক্কায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালীর কাচাড়ীপাড়া এখন চরম ঝুঁকিতে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ি, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ক্লিনিকসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
‎
‎ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরের ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিস্তা নদীর তীরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
‎
‎স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টের মধ্যে কাচাড়ীপাড়া সবচেয়ে উজানে। ফলে তিস্তার স্রোতের প্রথম আঘাত আসে এই পয়েন্টে। এটি রক্ষা করা না গেলে ভাটিতে থাকা অন্য দুটি এলাকাতেও ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
‎
‎মানববন্ধনে স্থানীয় মনিরুজ্জামানসহ কয়েকজন বলেন, কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা গেলে ভাটির দুটি ভাঙনপ্রবণ এলাকাও অনেকটা নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা নদীতে বিলীন হবে। এতে কয়েক হাজার পরিবার শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে পারে।
‎
‎এলাকাবাসীর দাবি, এবার তিস্তার পানি প্রথম বাড়ার সময়ই কাচাড়ীপাড়ায় ভাঙন শুরু হয়। তাদের হিসাবে, ওই সময় প্রায় ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আরও ৫০টির বেশি পরিবার বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছে।
‎
‎স্থানীয়রা বলছেন, এখনই কাচাড়ীপাড়া পয়েন্টে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎এদিকে চর নোহালীর ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎
‎এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সময় যত গড়াবে ততই বাড়বে তিস্তার গ্রাস। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন। তাই ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে দ্রুত জিওব্যাগ সরবরাহ ও নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎