ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আমের মুকুলের রাজত্ব

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজারে প্রতিনিধি:
জ্যৈষ্ঠে মাসে পাকা আম দেখলে জিভে জল আসেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না তাও বিরল। কারো কাছে মিষ্টি আম প্রিয়, আবার কারো কাছে টক প্রিয়। আমাদের দেশে জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত আমের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও গ্রামাঞ্চলে বৈশাখ মাস থেকেই শুরু হয় আম পাঁকা। এ বছর শীত বিদায়ের সাথে সাথে অর্থাৎ ফাল্গুন মাসের শুরু থেকেই প্রতিটি আম গাছে মুকুল ধরতে শুরু করে। বিগত বছরের তোলনায় এ বছর রেকর্ড সংখ্যক মুকুল ধরেছে গাছ গুলোতে। মুকুলের ভারে অনেক জায়গায় গাছ নুঁয়ে পড়তেও দেখা যায়। গাছের শাখায় শাখায় আমের মুকুলের কারনে অনেক গাছের পাতাগুলোও আড়াল হয়ে গেছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের ফুটপাত,বাড়ির সীমানা ও ফসলী ভুমিতে লাগানো আমগাছ গুলো দৃষ্টি কেড়েছে। দেখা যায় অধিকাংশ আমগাছ গুলোতে প্রচুর পরিমাণ মুকুল দুলছে। নজরকাড়া এমন দৃশ্য এই সময়ের প্রকৃতিতে যেন জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা। বেশিরভাগ আম গাছে মুকুল দুলানোর দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। গত বছরের তুলনায় এবছর আম গাছে মুকুল বেশি আসায় খুশি সংশ্লিষ্টরাও। তবে পোঁকা-মাকড় আর বৈরি আবহাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গাছ থেকে মুকুল ঝরে যায় কী না তারও শঙ্কা অনেকের। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন,গাছ গুলোতে পোঁকাড় আক্রমণ রোধে নিয়মিত স্পের ব্যবহার বাড়ালে এটি কিছুটা রোধ করা সম্ভব।
একটা সময় ছিলো যখন মিষ্টি আর ভাল স্বাদের কারণে রাজশাহী আর চাপাইনবাবগঞ্জের আমের জন্য নির্ভরশীল থাকতে হতো এ অঞ্চলের মানুষদের। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলাসহ পুরো জেলায় রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের নানান জাতের আর নানান স্বাদের মিষ্টি আমের চাহিদা অনুযায়ী এখনো প্রচুর আমদানী হয়ে থাকে। এর সাথে তাল মিলিয়ে মৌলভীবাজারেও এখন অনেকে শুরু করেছেন বাণিজ্যিকভাবে আমচাষ। হাড়িভাঙ্গা,বারি-৪,আমরূপালীর মতো আমও এখন ব্যাপক চাষ হচ্ছে জেলায়। প্রতি বছর এখানকার উৎপাদিত আমগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে উপজেলায় মোট ২৫০টি আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে এ বছর আমগাছ গুলোতে প্রচুর পরিমাণের মুকুল ধরেছে। বাগান গুলোতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়মিত তদারকি ও সহায়তা দিয়ে আসছেন বলে জানান, সদর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দীন।
জানা যায়, সদরের গিয়াসনগর ইউনিয়নের শাহ কাদেরীয়া এগ্রো ফার্ম,ট্রপিখানা হিল রিসোর্ট, কামালপুর ইউনিয়নের উমরপুর, নতুন ব্রীজ, ত্রৈলক্ষবিজয়,মোস্তফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়, হাওর বেষ্টিত আনারস আর আম-কাঠালের জন্য বিখ্যাত জগন্নাথপুর, জগৎসী, গিয়াসনগর ইউনিয়নের গোমড়া ও নিতেশ্বর এলাকায় এখন বাণিজ্যি ভাবে চাষ হচ্ছে আম। ভাল ফলন ও লাভজনক হওয়ায় উদ্যেক্তরাও খুশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় মোট ৪ হাজার ২শ ১৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ধরা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এবছর আমের মুকুল বেশি আশায় উৎপাদন লক্ষমাত্রা আরও বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
কৃষি উদ্যেক্তা ও ট্রপিকানা হিল রিসোর্টের স্বত্তাধিকারী ডা: আব্দুল মানান জানান,তাঁর বাগানে ভিয়েতনামের বারো মাসী প্রজাতির আম, হাড়িভাঙ্গা, ফজলী ও আমরূপালী জাতের সর্বমোট ৪শত ৫০টি আমগাছ রয়েছে। এসব গাছে এবছর প্রচুর পরিমাণ মুকুলও ধরেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভানা দেখছেন এই কৃষি উদ্যেক্তা। তিনি জানান, ২০২২ সালে আমের ফলন খুব একটা ভাল হয়নি।
Facebook Comments Box
ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আমের মুকুলের রাজত্ব

প্রকাশের সময় : ১১:০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
তিমির বনিক,মৌলভীবাজারে প্রতিনিধি:
জ্যৈষ্ঠে মাসে পাকা আম দেখলে জিভে জল আসেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না তাও বিরল। কারো কাছে মিষ্টি আম প্রিয়, আবার কারো কাছে টক প্রিয়। আমাদের দেশে জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত আমের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও গ্রামাঞ্চলে বৈশাখ মাস থেকেই শুরু হয় আম পাঁকা। এ বছর শীত বিদায়ের সাথে সাথে অর্থাৎ ফাল্গুন মাসের শুরু থেকেই প্রতিটি আম গাছে মুকুল ধরতে শুরু করে। বিগত বছরের তোলনায় এ বছর রেকর্ড সংখ্যক মুকুল ধরেছে গাছ গুলোতে। মুকুলের ভারে অনেক জায়গায় গাছ নুঁয়ে পড়তেও দেখা যায়। গাছের শাখায় শাখায় আমের মুকুলের কারনে অনেক গাছের পাতাগুলোও আড়াল হয়ে গেছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের ফুটপাত,বাড়ির সীমানা ও ফসলী ভুমিতে লাগানো আমগাছ গুলো দৃষ্টি কেড়েছে। দেখা যায় অধিকাংশ আমগাছ গুলোতে প্রচুর পরিমাণ মুকুল দুলছে। নজরকাড়া এমন দৃশ্য এই সময়ের প্রকৃতিতে যেন জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা। বেশিরভাগ আম গাছে মুকুল দুলানোর দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। গত বছরের তুলনায় এবছর আম গাছে মুকুল বেশি আসায় খুশি সংশ্লিষ্টরাও। তবে পোঁকা-মাকড় আর বৈরি আবহাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গাছ থেকে মুকুল ঝরে যায় কী না তারও শঙ্কা অনেকের। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন,গাছ গুলোতে পোঁকাড় আক্রমণ রোধে নিয়মিত স্পের ব্যবহার বাড়ালে এটি কিছুটা রোধ করা সম্ভব।
একটা সময় ছিলো যখন মিষ্টি আর ভাল স্বাদের কারণে রাজশাহী আর চাপাইনবাবগঞ্জের আমের জন্য নির্ভরশীল থাকতে হতো এ অঞ্চলের মানুষদের। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলাসহ পুরো জেলায় রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের নানান জাতের আর নানান স্বাদের মিষ্টি আমের চাহিদা অনুযায়ী এখনো প্রচুর আমদানী হয়ে থাকে। এর সাথে তাল মিলিয়ে মৌলভীবাজারেও এখন অনেকে শুরু করেছেন বাণিজ্যিকভাবে আমচাষ। হাড়িভাঙ্গা,বারি-৪,আমরূপালীর মতো আমও এখন ব্যাপক চাষ হচ্ছে জেলায়। প্রতি বছর এখানকার উৎপাদিত আমগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে উপজেলায় মোট ২৫০টি আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে এ বছর আমগাছ গুলোতে প্রচুর পরিমাণের মুকুল ধরেছে। বাগান গুলোতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়মিত তদারকি ও সহায়তা দিয়ে আসছেন বলে জানান, সদর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দীন।
জানা যায়, সদরের গিয়াসনগর ইউনিয়নের শাহ কাদেরীয়া এগ্রো ফার্ম,ট্রপিখানা হিল রিসোর্ট, কামালপুর ইউনিয়নের উমরপুর, নতুন ব্রীজ, ত্রৈলক্ষবিজয়,মোস্তফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়, হাওর বেষ্টিত আনারস আর আম-কাঠালের জন্য বিখ্যাত জগন্নাথপুর, জগৎসী, গিয়াসনগর ইউনিয়নের গোমড়া ও নিতেশ্বর এলাকায় এখন বাণিজ্যি ভাবে চাষ হচ্ছে আম। ভাল ফলন ও লাভজনক হওয়ায় উদ্যেক্তরাও খুশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় মোট ৪ হাজার ২শ ১৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ধরা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এবছর আমের মুকুল বেশি আশায় উৎপাদন লক্ষমাত্রা আরও বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
কৃষি উদ্যেক্তা ও ট্রপিকানা হিল রিসোর্টের স্বত্তাধিকারী ডা: আব্দুল মানান জানান,তাঁর বাগানে ভিয়েতনামের বারো মাসী প্রজাতির আম, হাড়িভাঙ্গা, ফজলী ও আমরূপালী জাতের সর্বমোট ৪শত ৫০টি আমগাছ রয়েছে। এসব গাছে এবছর প্রচুর পরিমাণ মুকুলও ধরেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভানা দেখছেন এই কৃষি উদ্যেক্তা। তিনি জানান, ২০২২ সালে আমের ফলন খুব একটা ভাল হয়নি।
Facebook Comments Box