ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জ মোকামে আসছে নতুন জাতের বোরো ধান, দামে খুশি কৃষকরা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রতিদিনের পোস্ট ।। বৃহত্তম পাইকারী ধানের বাজারের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকাম দেশের অন্যতম। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিক্রেতা, ব্যাপারী ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে বৃহৎ এ ধানের মোকাম। কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল থেকে দেশের বৃহত্তম এ মোকামে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত নতুন ধান নিয়ে আসতে শুরু করেছে। আশুগঞ্জের এ ধানের মোকামে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ টন ধান বিক্রি হয়। যুগ যুগ ধরে আশুগঞ্জের সঙ্গে নদীপথে ঐ সব অঞ্চলের অর্থনৈতিক যোগসূত্র তৈরি হয়ে আছে। বিশেষ করে হাওরকে ঘিরেই আশুগঞ্জে প্রতিষ্ঠা হয় সমৃদ্ধ ধানের মোকাম।

চলতি ইরি- বোরো মৌসুমের শুরুতে মোকামে আসতে শুরু করেছে নতুন বোরো ধান। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় বাড়ছে ধানের আমদানি। মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী ও কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী ও কৃষকরা খুশি। এ’বছর বৃষ্টি না হওয়ায় হাওরের ধান ছিল শুকনো। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত সিলেটে ৫৫ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৭০ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৬৭ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৭৩ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৫৮ শতাংশ, নেত্রকোণায় ৭৭ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। হাওর অঞ্চলের ধানের বড় মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরের বাজার। এ মোকামে নৌযোগে ধান আনতে সুবিধা বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ী ছাড়াও হাওরের বড় বড় কৃষকরা এখানে নৌকা যোগে ধান এনে সরাসরি বিক্রি করেন। ফলে মোকাম জমতে একটু সময় লাগে বিশেষত পানি না এলে নৌকা চলতে পারে না। ধান উৎপাদনে ব্যয়ের তুলনায় এবার মোটামুটি ভালো লাভ হবে বলে মনে করেন খালিয়াজুরী সদরের কৃষক রায়হান ইসলাম। তিনি বলেন, একটা জমি আছে ১৭ কাঠার। সেই জমিতে বোরো আবাদ করতে বীজ, রোপণ, সার, সেচ বাবদ ২৫ হাজার টাকার মত খরচ হইছে। এবার কাঠাপিছু শুকনো ধানের হিসেবেই অন্তত পাঁচ-সাড়ে পাঁচ মণ ধান হইছে। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হইছে। এই জমিতে ৯৬ মণ ধান পাইছি। আমরা এই ধান বিক্রি করছি ১০০০ টাকা দরে। এখন পর্যন্ত ১০০ মণ ধান বিক্রি করছি। এইবার বোরো আবাদে ভালো লাভ হইছে। কাঠাপ্রতি গড়ে ১৫০০ টাকা খরচ হয়। ধরেন, ধানের দাম হয় প্রায় ৬০০০ টাকা। তাতে কাঠাপ্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী বলছেন, ধান মাত্র কেনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদমে কেনা শুরু হবে নতুন বোরো ধান। সিংহভাগ এই ধান কিনবে চাল কলগুলো। ধানের দাম বাড়বে দিনে দিনে তাতে করে কৃষক ভাইয়েরা আরও দাম পাবেন।

আশুগঞ্জ মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী আবদুল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। প্রতিমণ নতুন বোরো ধান (বি-আর -২৮ চিকন ৯৫০-৯৮০ টাকা ও বোরো ধান বি-আর-২৯ মোটা ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাতালকল মালিকরা জানান, বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় বেশি দামে ধান ক্রয় করে ব্যবসায়িকভাবে তারা তেমন সুবিধা পাচ্ছে না। তবে মৌসুমের শুরুতেই মোকামে ধানের প্রচুর আমদানী রয়েছে। আশুগঞ্জ উপজেলা অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল শিকদার জানান, আশুগঞ্জ মোকামে নতুন বোরো ধান আসতে শুরু করেছে। প্রতিমণ নতুন বোরো ধান বি-আর -২৮ চিকন ৯৫০-৯৮০ টাকা ও বোরো ধান বি-আর-২৯ মোটা ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের হাওর অঞ্চলের উৎপাদিত ধান আশুগঞ্জের ৪ শতাধিক চাতালকলে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব ধান প্রক্রিয়াজাত করার পর চালে রূপান্তর করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে থাকে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

আশুগঞ্জ মোকামে আসছে নতুন জাতের বোরো ধান, দামে খুশি কৃষকরা

প্রকাশের সময় : ০২:৩২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৩

মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রতিদিনের পোস্ট ।। বৃহত্তম পাইকারী ধানের বাজারের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকাম দেশের অন্যতম। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিক্রেতা, ব্যাপারী ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে বৃহৎ এ ধানের মোকাম। কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল থেকে দেশের বৃহত্তম এ মোকামে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত নতুন ধান নিয়ে আসতে শুরু করেছে। আশুগঞ্জের এ ধানের মোকামে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ টন ধান বিক্রি হয়। যুগ যুগ ধরে আশুগঞ্জের সঙ্গে নদীপথে ঐ সব অঞ্চলের অর্থনৈতিক যোগসূত্র তৈরি হয়ে আছে। বিশেষ করে হাওরকে ঘিরেই আশুগঞ্জে প্রতিষ্ঠা হয় সমৃদ্ধ ধানের মোকাম।

চলতি ইরি- বোরো মৌসুমের শুরুতে মোকামে আসতে শুরু করেছে নতুন বোরো ধান। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় বাড়ছে ধানের আমদানি। মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী ও কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী ও কৃষকরা খুশি। এ’বছর বৃষ্টি না হওয়ায় হাওরের ধান ছিল শুকনো। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত সিলেটে ৫৫ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৭০ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৬৭ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৭৩ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৫৮ শতাংশ, নেত্রকোণায় ৭৭ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। হাওর অঞ্চলের ধানের বড় মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরের বাজার। এ মোকামে নৌযোগে ধান আনতে সুবিধা বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ী ছাড়াও হাওরের বড় বড় কৃষকরা এখানে নৌকা যোগে ধান এনে সরাসরি বিক্রি করেন। ফলে মোকাম জমতে একটু সময় লাগে বিশেষত পানি না এলে নৌকা চলতে পারে না। ধান উৎপাদনে ব্যয়ের তুলনায় এবার মোটামুটি ভালো লাভ হবে বলে মনে করেন খালিয়াজুরী সদরের কৃষক রায়হান ইসলাম। তিনি বলেন, একটা জমি আছে ১৭ কাঠার। সেই জমিতে বোরো আবাদ করতে বীজ, রোপণ, সার, সেচ বাবদ ২৫ হাজার টাকার মত খরচ হইছে। এবার কাঠাপিছু শুকনো ধানের হিসেবেই অন্তত পাঁচ-সাড়ে পাঁচ মণ ধান হইছে। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হইছে। এই জমিতে ৯৬ মণ ধান পাইছি। আমরা এই ধান বিক্রি করছি ১০০০ টাকা দরে। এখন পর্যন্ত ১০০ মণ ধান বিক্রি করছি। এইবার বোরো আবাদে ভালো লাভ হইছে। কাঠাপ্রতি গড়ে ১৫০০ টাকা খরচ হয়। ধরেন, ধানের দাম হয় প্রায় ৬০০০ টাকা। তাতে কাঠাপ্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী বলছেন, ধান মাত্র কেনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদমে কেনা শুরু হবে নতুন বোরো ধান। সিংহভাগ এই ধান কিনবে চাল কলগুলো। ধানের দাম বাড়বে দিনে দিনে তাতে করে কৃষক ভাইয়েরা আরও দাম পাবেন।

আশুগঞ্জ মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী আবদুল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। প্রতিমণ নতুন বোরো ধান (বি-আর -২৮ চিকন ৯৫০-৯৮০ টাকা ও বোরো ধান বি-আর-২৯ মোটা ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাতালকল মালিকরা জানান, বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় বেশি দামে ধান ক্রয় করে ব্যবসায়িকভাবে তারা তেমন সুবিধা পাচ্ছে না। তবে মৌসুমের শুরুতেই মোকামে ধানের প্রচুর আমদানী রয়েছে। আশুগঞ্জ উপজেলা অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল শিকদার জানান, আশুগঞ্জ মোকামে নতুন বোরো ধান আসতে শুরু করেছে। প্রতিমণ নতুন বোরো ধান বি-আর -২৮ চিকন ৯৫০-৯৮০ টাকা ও বোরো ধান বি-আর-২৯ মোটা ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের হাওর অঞ্চলের উৎপাদিত ধান আশুগঞ্জের ৪ শতাধিক চাতালকলে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব ধান প্রক্রিয়াজাত করার পর চালে রূপান্তর করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে থাকে।