ঢাকা , রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

আশ্বাসে সীমাবদ্ধ মালিকপক্ষস; মহাসড়কে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০২:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,নিজস্ব প্রতিনিধি:

বার বার আশ্বাস দিয়েও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় মানবেতর জীবনযাপন করছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের চা শ্রমিকরা। চলমান তলব, রেশন, বকেয়া মজুরি, বোনাস, উৎসব ভাতা, ভবিষ্যত তহবিলের বকেয়া টাকা, চিকিৎসা, স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করণের দাবীতে দফায় দফায় নানা কর্মসূচি পালন করে আসলেও মিলছে না সমাধান। এসব দাবীতে ১৩ দিন ধরে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছে তারা।

গতকাল বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর বাজারে ফের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চা-শ্রমিকবৃন্দ।

চা শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে অবস্থিত ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগান। এ’দুটি বাগানে কাজ করেন ৩৬০ জন চা শ্রমিক।

বাংলাদেশীয় চা-সংসদ ও বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি মোতাবেক তাদের বকেয়া অর্থ মালিকপক্ষ পরিশোধ করছে না। এনিয়ে গত ২৫ জুন চা শ্রমিকদের ৭ দফা দাবী বাস্তবায়ন করার জন্য ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর লিখিত ভাবে জানায় চা শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কর্মবিরতী পালন করে চা শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের দাবী, ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের ৩৬০ জন শ্রমিকের শ্রমচুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ বাবদ ২০১৯-২০ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরের ৮১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, এরিয়া বোনাসের ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করছেনা মলিকপক্ষ। এছাড়া চা বাগান শ্রমিক ভবিষ্যত তহবিলের (পিএফ) ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মালিক পক্ষ পিএফ কার্যালয়ে জমা প্রদান না করার ফলে অবসর প্রাপ্ত শ্রমিকগণ পিএফ অর্থ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে চা শ্রমিকদের রোদ-বৃষ্টিতে বাসস্থানে অবস্থান করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত তারা।

সংকট সমাধানে (১১ জুলাই) বিকেলে শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরে সমঝোতায় বৈঠকে বসে ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেড ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এসময় ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জিকে মাইনুদ্দিন চৌধুরী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ পরিশোধ, ভবিষ্যত তহবিলের টাকা ৩০ আগস্টের মধ্যে পিএফ কার্যালয়ে কিস্তি আকারে জমাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে আশ্বাস দেন । এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে এনিয়ে চুক্তি সই হয়। এরপর ১২ জুলাই থেকে কাজে যোগদেন শ্রমিকরা। ১৮ জুলাই বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় মালিক পক্ষ। পুনরায় নতুন তারিখ হিসেবে ২০ জুলাই বকেয়া টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়া হয়। তবে ২০ জুলাইও বকেয়া দেয়নি মালিকপক্ষ। এছাড়া ১২ জুলাই হতে ২০ জুলাই পর্যন্ত চা শ্রমিকরা বাগানে কাজ করলেও ৮ দিনের দৈনিক তলব (মুজুরী) ও রেশন শ্রমিকদের দেয়নি মালিকপক্ষ। ফলে শুক্রবার (২১ জুলাই) থেকে আবার কর্মবিরতি পালন শুরু করে শ্রমিকরা। গত (২২ জুলাই) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে চা শ্রমিকরা। (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী বাগানের চা শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এসময় চা শ্রমিকদের দাবীপূরণসহ বর্তমান মালিকপক্ষের লিজ দ্রুত বাতিল করে নতুন মালিক নিয়োগ করে বাগান পরিচালনা করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। এসময় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ (৩০ জুলাই) বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়। ফের একইভাবে আশ্বাস ভঙ্গ করে মালিকপক্ষ । ৩০ জুলাই টাকা না দেওয়ায় বুধবার পুন:রায় মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, বালিশিরা ভ্যালীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভাশিষ দাশ, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

Facebook Comments Box
ট্যাগস :

জীবনের শেষ ভোরেও সংবাদপত্র তুলে দিয়েছেন চৌধুরী

আশ্বাসে সীমাবদ্ধ মালিকপক্ষস; মহাসড়কে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০২:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩

তিমির বনিক,নিজস্ব প্রতিনিধি:

বার বার আশ্বাস দিয়েও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় মানবেতর জীবনযাপন করছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের চা শ্রমিকরা। চলমান তলব, রেশন, বকেয়া মজুরি, বোনাস, উৎসব ভাতা, ভবিষ্যত তহবিলের বকেয়া টাকা, চিকিৎসা, স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করণের দাবীতে দফায় দফায় নানা কর্মসূচি পালন করে আসলেও মিলছে না সমাধান। এসব দাবীতে ১৩ দিন ধরে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছে তারা।

গতকাল বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর বাজারে ফের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চা-শ্রমিকবৃন্দ।

চা শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে অবস্থিত ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগান। এ’দুটি বাগানে কাজ করেন ৩৬০ জন চা শ্রমিক।

বাংলাদেশীয় চা-সংসদ ও বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি মোতাবেক তাদের বকেয়া অর্থ মালিকপক্ষ পরিশোধ করছে না। এনিয়ে গত ২৫ জুন চা শ্রমিকদের ৭ দফা দাবী বাস্তবায়ন করার জন্য ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর লিখিত ভাবে জানায় চা শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কর্মবিরতী পালন করে চা শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের দাবী, ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের ৩৬০ জন শ্রমিকের শ্রমচুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ বাবদ ২০১৯-২০ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরের ৮১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, এরিয়া বোনাসের ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করছেনা মলিকপক্ষ। এছাড়া চা বাগান শ্রমিক ভবিষ্যত তহবিলের (পিএফ) ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মালিক পক্ষ পিএফ কার্যালয়ে জমা প্রদান না করার ফলে অবসর প্রাপ্ত শ্রমিকগণ পিএফ অর্থ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে চা শ্রমিকদের রোদ-বৃষ্টিতে বাসস্থানে অবস্থান করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত তারা।

সংকট সমাধানে (১১ জুলাই) বিকেলে শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরে সমঝোতায় বৈঠকে বসে ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেড ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এসময় ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জিকে মাইনুদ্দিন চৌধুরী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ পরিশোধ, ভবিষ্যত তহবিলের টাকা ৩০ আগস্টের মধ্যে পিএফ কার্যালয়ে কিস্তি আকারে জমাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে আশ্বাস দেন । এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে এনিয়ে চুক্তি সই হয়। এরপর ১২ জুলাই থেকে কাজে যোগদেন শ্রমিকরা। ১৮ জুলাই বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় মালিক পক্ষ। পুনরায় নতুন তারিখ হিসেবে ২০ জুলাই বকেয়া টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়া হয়। তবে ২০ জুলাইও বকেয়া দেয়নি মালিকপক্ষ। এছাড়া ১২ জুলাই হতে ২০ জুলাই পর্যন্ত চা শ্রমিকরা বাগানে কাজ করলেও ৮ দিনের দৈনিক তলব (মুজুরী) ও রেশন শ্রমিকদের দেয়নি মালিকপক্ষ। ফলে শুক্রবার (২১ জুলাই) থেকে আবার কর্মবিরতি পালন শুরু করে শ্রমিকরা। গত (২২ জুলাই) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে চা শ্রমিকরা। (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী বাগানের চা শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এসময় চা শ্রমিকদের দাবীপূরণসহ বর্তমান মালিকপক্ষের লিজ দ্রুত বাতিল করে নতুন মালিক নিয়োগ করে বাগান পরিচালনা করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। এসময় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ (৩০ জুলাই) বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়। ফের একইভাবে আশ্বাস ভঙ্গ করে মালিকপক্ষ । ৩০ জুলাই টাকা না দেওয়ায় বুধবার পুন:রায় মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, বালিশিরা ভ্যালীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভাশিষ দাশ, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

Facebook Comments Box