ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে কুরআনের বাণীকে সামনে রেখে ইসলামিক দলগুলোর ঐক্যের প্রতিশ্রুতি নবীনগরে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত আমরা ক্ষমতায় গেলে যুবক ভাইদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো-খাইরুল হাসান কালীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে সার ও বী জ বিতরণ কুলাউড়ায় ভারতীয় ৩ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ কুলাউড়ায় কৃষিজমি থেকে অ’বৈ’ধ’ভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে ১ লাখ টাকা জ’রি’মা’না পরীক্ষার হলে ফোন নিয়ে প্রবেশে শিক্ষার্থীকে আটক করায় শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর লুটপাট; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ নবীনগরকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই – নজু নবীনগরে কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ

ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর লুটপাট; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮২ বার পড়া হয়েছে
print news
128

ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর লুটপাট; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের খাদিমপুর গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজেরা আলী পান্না ও তার ভাই দিলন মিয়ার বাড়িতে দফায় দফায় হামলা,ভাঙচুর,লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ কয়েক দফায় এ ধরনের হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, চলতি বছরের গত ৩০শে এপ্রিল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রবাসী হাজেরা আলী পান্নার বড় ভাই দিলন মিয়া মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হন। ওই ঘটনায় ওসমানীনগর থানার মামলা নং-১৭,তারিখ: ৩০/০৪/২০২৫ দায়ের করা হয়। পরে আরও একটি মামলা নং-৬,তারিখ: ০৭/০৫/২০২৫ দায়ের করা হয়।

সম্প্রতি হাজেরা আলী পান্না যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলে অভিযুক্তরা ফের ভয়ংকররুপে স্বক্রিয় হয়ে উঠে। অপরাধ প্রবণতা সহ হাজেরা আলীর ভূমির উপর লোলোপ দৃষ্টি পড়ে একই এলাকার বাসিন্দা ভূমিখেকো, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজ গোলাম রাব্বানী সুহেলের। দীর্ঘদিন থেকে ভূমি আত্মসাৎ সহ এলাকার অনেক মানুষের জায়গাজমি ভূয়া দলিল কাগজপত্র তৈরী করে নিজের নামে দলিল তৈরীর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করে থাকেন। গত ১৮ই মে (শনিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খাদিমপুর গ্রামের গোলাম রব্বানী সোহেলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হাজেরা আলী পান্না ও দিলন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়ির সাবেক পাহারাদার সুমন আহমদকে পাকা পিলারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরা,মনিটর,ল্যাপটপ, আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী (রড-সিমেন্ট), নিরাপত্তাকর্মীর মোবাইল ও টর্চলাইট লুট করে এবং দু’জন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে বেঁধে নিয়ে যায়। এতে করে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা হবে বলে জানান।

এ ঘটনায় হাজেরা আলী’র সাবেক পাহারাদার সুমন আহমদ বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই।

অভিযোগে নামোল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন গোলাম রব্বানী সোহেল,আওয়ামীলীগ নেতা জুয়েল মিয়া,রনি মিয়াসহ ১১জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজেরা আলী পান্না’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,“আমার অনুপস্থিতিতে বারবার আমার বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন সহ আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি কিন্তুু চতুর প্রতিপক্ষ সুহেল আমাকে সহ আমার পরিবার ও মামলার স্বাক্ষীগণকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন থানা প্রশাসনের কয়েক দূর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতে চলমান রয়েছে। আমাদের কাছে যাবতীয় ডকুমেন্টস রয়েছে তদন্তকালে উত্থাপন করবো। ইদানিং থানা প্রশাসন আমার মামলাগুলোকে ফাইলবন্দী করে আসামীদের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জরিয়ে সত্যকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে এক তরফা আমাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় সহ হুমকি-ধামকি দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রকার হয়রানি করতে থেমে নেই। এতে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হোক। আমারা প্রবাসীরা দেশে গিয়ে নিরাপদ বোধ করি না,দেশে বাড়ি ঘর ও জায়গা জমি কোন কিছুই নিরাপদ না,আমি ওসমানী নগর থানা সহ উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এবিষয়ে সাবেক ইউপি মেম্বার জিতু মিয়া বলেন,এই এলাকার গোলাম রাব্বানী সুহেল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হয়রানি করে আসছেন। ডিসি খতিয়ানের কিছু জায়গাও তিনি নিজের বলে দাবী করে আসছেন। যারাই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন তাদের বিরুদ্ধেই গোলাম রাব্বানী সুহেল নিজে কিংবা তার পক্ষের লোকদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করেন নিরীহ মানুষকে।যারা স্বাক্ষী দেয় তাদের বিরুদ্ধেও তিনি আসামি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন। এতে করে সুহেল একজন এলাকার ত্রাস হিসেবে ইতিমধ্যে সকলের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সুহেলের লোকবল,টাকার অহমিকা ও প্রভাবশালী চক্রের কাছে আমরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছি।টাকার কাছে প্রশাসনের কিছু মামলার তদন্ত অফিসার-ও বিক্রি হয়ে যান, এতে মামলার খামখেয়ালিপনা রিপোর্ট ইতিপূর্বে কিছু সংস্থায় কর্মকর্তারা প্রদান করেন। এতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ ও আইনি সহায়তা পাওয়ার নিমিত্তে দরখাস্ত দিয়েছি।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হাজী আছকর মিয়া বলেন,গোলাম রাব্বানী সুহেলের ভাই গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে দ্রুত বিচার সি,আর মামলা নং-২৯/২০২৫ ইং এর তদন্ত অফিসার সিলেট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র সা-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) হাসিনা আক্তার আঁখি তিনি অভিযুক্ত সুহেল ও কিবরিয়ার যোগসাজশে, প্রভাবশালীদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন উল্টো আমাদের অভিযুক্ত করে। সঠিক ও সুষ্টু তদন্ত ছাড়াই একতরফা মনগড়া ভাবে। এই প্রতিবেদনে অনেক নিরীহ ও নিরপোরাধ মানুষকে অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে যাহা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যাহা আইন পরিপন্থী।

হাজী ময়না মিয়া বলেন,আমাদের এলাকার কিছু যুব সমাজ বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে! একটাই কারণ তা এলাকার সকল মানুষ অবগত রয়েছেন। গোলাম রাব্বানী সুহেলের ভাই সহ সঙ্গীয়রা মিলে খাদিমপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সেই সঙ্গে তার বাড়িতেই মাদক ও হেরোইন বিক্রি,সেবন সহ একটি বাহিনী বেপরোয়া সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। জাল জালিয়াতি করে অনেক গরীব পরিবারের জায়গাজমি আত্মসাৎ করেছে সুহেল গং,গরীব অসহায় মানুষগুলো ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রাননাস ও মামলা হামলার ভয়ে নিঃশব্দে সহ্য করে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম একটি মনগড়া প্রতিবেদন তৈরী করেন, যাহাতে ভূক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। সোহেলের পিতা মুহুরি হওয়ায় আগেকার দিনে জালজালিয়াতি করে ভূয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরী করে মানুষের জায়গাজমি তার নিজের নামে দাবি করে প্রচার প্রচারণা করতেন।

প্রবীণ মুরব্বিয়ান,যুবক ও তরুণ প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে খাদিমপুর এলাকায় প্রত্যক্ষ তদন্তকালে উপস্থিত জনতা গোলাম রাব্বানী সুহেল গংদের আধিপত্য বিস্তার ও অন্যায় অবিচারের বিষয়ে মুখ খুলেন মিডিয়ার মুখোমুখি। ১০/১২ জনের একটি মিডিয়া টিম নিরপেক্ষ তদন্তকালে গোলাম রাব্বানী সুহেল গং দের বক্তব্য গ্রহণ করার অনেক চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায় নি এবং বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলেও তাদের কোনো আত্মীয় স্বজনদেরও মিলেনি। এতে তাদের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইতিপূর্বে হাজেরা আলী পান্না’র বাড়ীর কেয়ারটেকার কামাল হোসেন ১০ই সেপ্টেম্বর সিলেটে কোর্ট হাজিরা দিতে গেলে এসআই শফিক ও একজন সিপাহী গং মিলে কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তাকে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে এবং ৫ দিন জেল হাজতবাসের পর জামিনে বেরিয়ে আসলে তিনি সুবিচার চেয়ে ১৬ই সেপ্টেম্বর ও বিভিন্ন তারিখে পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত আবেদন করেন।

মুরব্বি কামাল হোসেন গংরা বলেন,আমাদের দায়ের করা মামলাগুলোর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই কিন্তু অপরাধী ও আওয়ামীলীগ নেতা সুহেলের পক্ষে মামলাগুলো দিয়ে আমারা নিরীহ লোকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের মারাত্মক ইনজুরি মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকার পরও ঐ আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো আমাদের লোকদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ধরপাকড় পরিচালনা করা হচ্ছে,এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

এই বিষয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমান বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে যা সঠিক সেই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সিলেটের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) রফিকুল ইসলাম জানান,আমরা তদন্তের মাধ্যমে যাবতীয় বিষয় গুলো খতিয়ে দেখছি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে থানা পুলিশ সহ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম কাজ করছে।অবশ্যই ভুক্তভোগী কেউ যাতে অন্যায় ভাবে হয়রানি না হন সেই বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোঃ মোনায়েম মিয়া বলেন,আমরা উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলাও হয়েছে,তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোলাম রাব্বানী সুহেল ও হাজেরা আলী পান্না’র মামলার তদন্ত অফিসার আশীষ চন্দ্র তালুকদার ও বিষ্ণু পদ রায় এবং ওসি তদন্ত-কে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানতে ওসমানী নগর থানায় একটি মিডিয়া টিম উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির আলোকে বিভিন্ন তত্ত্ব উপাত্ত উদ্ঘাটন করার আলোকে ব্যাপক খোঁজ খবর নেওয়া হয়। অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর লুটপাট; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
print news
128

ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর লুটপাট; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের খাদিমপুর গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজেরা আলী পান্না ও তার ভাই দিলন মিয়ার বাড়িতে দফায় দফায় হামলা,ভাঙচুর,লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ কয়েক দফায় এ ধরনের হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, চলতি বছরের গত ৩০শে এপ্রিল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রবাসী হাজেরা আলী পান্নার বড় ভাই দিলন মিয়া মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হন। ওই ঘটনায় ওসমানীনগর থানার মামলা নং-১৭,তারিখ: ৩০/০৪/২০২৫ দায়ের করা হয়। পরে আরও একটি মামলা নং-৬,তারিখ: ০৭/০৫/২০২৫ দায়ের করা হয়।

সম্প্রতি হাজেরা আলী পান্না যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলে অভিযুক্তরা ফের ভয়ংকররুপে স্বক্রিয় হয়ে উঠে। অপরাধ প্রবণতা সহ হাজেরা আলীর ভূমির উপর লোলোপ দৃষ্টি পড়ে একই এলাকার বাসিন্দা ভূমিখেকো, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজ গোলাম রাব্বানী সুহেলের। দীর্ঘদিন থেকে ভূমি আত্মসাৎ সহ এলাকার অনেক মানুষের জায়গাজমি ভূয়া দলিল কাগজপত্র তৈরী করে নিজের নামে দলিল তৈরীর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করে থাকেন। গত ১৮ই মে (শনিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খাদিমপুর গ্রামের গোলাম রব্বানী সোহেলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হাজেরা আলী পান্না ও দিলন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়ির সাবেক পাহারাদার সুমন আহমদকে পাকা পিলারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরা,মনিটর,ল্যাপটপ, আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী (রড-সিমেন্ট), নিরাপত্তাকর্মীর মোবাইল ও টর্চলাইট লুট করে এবং দু’জন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে বেঁধে নিয়ে যায়। এতে করে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা হবে বলে জানান।

এ ঘটনায় হাজেরা আলী’র সাবেক পাহারাদার সুমন আহমদ বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই।

অভিযোগে নামোল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন গোলাম রব্বানী সোহেল,আওয়ামীলীগ নেতা জুয়েল মিয়া,রনি মিয়াসহ ১১জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজেরা আলী পান্না’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,“আমার অনুপস্থিতিতে বারবার আমার বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন সহ আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি কিন্তুু চতুর প্রতিপক্ষ সুহেল আমাকে সহ আমার পরিবার ও মামলার স্বাক্ষীগণকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন থানা প্রশাসনের কয়েক দূর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতে চলমান রয়েছে। আমাদের কাছে যাবতীয় ডকুমেন্টস রয়েছে তদন্তকালে উত্থাপন করবো। ইদানিং থানা প্রশাসন আমার মামলাগুলোকে ফাইলবন্দী করে আসামীদের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জরিয়ে সত্যকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে এক তরফা আমাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় সহ হুমকি-ধামকি দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রকার হয়রানি করতে থেমে নেই। এতে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হোক। আমারা প্রবাসীরা দেশে গিয়ে নিরাপদ বোধ করি না,দেশে বাড়ি ঘর ও জায়গা জমি কোন কিছুই নিরাপদ না,আমি ওসমানী নগর থানা সহ উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এবিষয়ে সাবেক ইউপি মেম্বার জিতু মিয়া বলেন,এই এলাকার গোলাম রাব্বানী সুহেল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হয়রানি করে আসছেন। ডিসি খতিয়ানের কিছু জায়গাও তিনি নিজের বলে দাবী করে আসছেন। যারাই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন তাদের বিরুদ্ধেই গোলাম রাব্বানী সুহেল নিজে কিংবা তার পক্ষের লোকদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করেন নিরীহ মানুষকে।যারা স্বাক্ষী দেয় তাদের বিরুদ্ধেও তিনি আসামি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন। এতে করে সুহেল একজন এলাকার ত্রাস হিসেবে ইতিমধ্যে সকলের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সুহেলের লোকবল,টাকার অহমিকা ও প্রভাবশালী চক্রের কাছে আমরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছি।টাকার কাছে প্রশাসনের কিছু মামলার তদন্ত অফিসার-ও বিক্রি হয়ে যান, এতে মামলার খামখেয়ালিপনা রিপোর্ট ইতিপূর্বে কিছু সংস্থায় কর্মকর্তারা প্রদান করেন। এতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ ও আইনি সহায়তা পাওয়ার নিমিত্তে দরখাস্ত দিয়েছি।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হাজী আছকর মিয়া বলেন,গোলাম রাব্বানী সুহেলের ভাই গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে দ্রুত বিচার সি,আর মামলা নং-২৯/২০২৫ ইং এর তদন্ত অফিসার সিলেট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র সা-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) হাসিনা আক্তার আঁখি তিনি অভিযুক্ত সুহেল ও কিবরিয়ার যোগসাজশে, প্রভাবশালীদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন উল্টো আমাদের অভিযুক্ত করে। সঠিক ও সুষ্টু তদন্ত ছাড়াই একতরফা মনগড়া ভাবে। এই প্রতিবেদনে অনেক নিরীহ ও নিরপোরাধ মানুষকে অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে যাহা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যাহা আইন পরিপন্থী।

হাজী ময়না মিয়া বলেন,আমাদের এলাকার কিছু যুব সমাজ বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে! একটাই কারণ তা এলাকার সকল মানুষ অবগত রয়েছেন। গোলাম রাব্বানী সুহেলের ভাই সহ সঙ্গীয়রা মিলে খাদিমপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সেই সঙ্গে তার বাড়িতেই মাদক ও হেরোইন বিক্রি,সেবন সহ একটি বাহিনী বেপরোয়া সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। জাল জালিয়াতি করে অনেক গরীব পরিবারের জায়গাজমি আত্মসাৎ করেছে সুহেল গং,গরীব অসহায় মানুষগুলো ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রাননাস ও মামলা হামলার ভয়ে নিঃশব্দে সহ্য করে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম একটি মনগড়া প্রতিবেদন তৈরী করেন, যাহাতে ভূক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। সোহেলের পিতা মুহুরি হওয়ায় আগেকার দিনে জালজালিয়াতি করে ভূয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরী করে মানুষের জায়গাজমি তার নিজের নামে দাবি করে প্রচার প্রচারণা করতেন।

প্রবীণ মুরব্বিয়ান,যুবক ও তরুণ প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে খাদিমপুর এলাকায় প্রত্যক্ষ তদন্তকালে উপস্থিত জনতা গোলাম রাব্বানী সুহেল গংদের আধিপত্য বিস্তার ও অন্যায় অবিচারের বিষয়ে মুখ খুলেন মিডিয়ার মুখোমুখি। ১০/১২ জনের একটি মিডিয়া টিম নিরপেক্ষ তদন্তকালে গোলাম রাব্বানী সুহেল গং দের বক্তব্য গ্রহণ করার অনেক চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায় নি এবং বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলেও তাদের কোনো আত্মীয় স্বজনদেরও মিলেনি। এতে তাদের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইতিপূর্বে হাজেরা আলী পান্না’র বাড়ীর কেয়ারটেকার কামাল হোসেন ১০ই সেপ্টেম্বর সিলেটে কোর্ট হাজিরা দিতে গেলে এসআই শফিক ও একজন সিপাহী গং মিলে কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তাকে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে এবং ৫ দিন জেল হাজতবাসের পর জামিনে বেরিয়ে আসলে তিনি সুবিচার চেয়ে ১৬ই সেপ্টেম্বর ও বিভিন্ন তারিখে পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত আবেদন করেন।

মুরব্বি কামাল হোসেন গংরা বলেন,আমাদের দায়ের করা মামলাগুলোর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই কিন্তু অপরাধী ও আওয়ামীলীগ নেতা সুহেলের পক্ষে মামলাগুলো দিয়ে আমারা নিরীহ লোকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের মারাত্মক ইনজুরি মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকার পরও ঐ আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো আমাদের লোকদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ধরপাকড় পরিচালনা করা হচ্ছে,এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

এই বিষয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমান বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে যা সঠিক সেই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সিলেটের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) রফিকুল ইসলাম জানান,আমরা তদন্তের মাধ্যমে যাবতীয় বিষয় গুলো খতিয়ে দেখছি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে থানা পুলিশ সহ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম কাজ করছে।অবশ্যই ভুক্তভোগী কেউ যাতে অন্যায় ভাবে হয়রানি না হন সেই বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোঃ মোনায়েম মিয়া বলেন,আমরা উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলাও হয়েছে,তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোলাম রাব্বানী সুহেল ও হাজেরা আলী পান্না’র মামলার তদন্ত অফিসার আশীষ চন্দ্র তালুকদার ও বিষ্ণু পদ রায় এবং ওসি তদন্ত-কে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানতে ওসমানী নগর থানায় একটি মিডিয়া টিম উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির আলোকে বিভিন্ন তত্ত্ব উপাত্ত উদ্ঘাটন করার আলোকে ব্যাপক খোঁজ খবর নেওয়া হয়। অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।