ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কলার তন্তু থেকে শাড়ি তৈরির উদ্ভাবক ‘রাধাবতী দেবীকে’ সংবর্ধনা

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ (বামসাস) মণিপুরী শাড়ির প্রবর্তক ও কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবীকে সংবর্ধনা দিয়েছে।শুক্রবার (৫ আগস্ট) উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল মাঝেরগাঁও গ্রামে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক নামব্রম শংকর। অনুষ্ঠানের শুরুতে কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবীকে ফুল, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি ও লেখক এ কে শেরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি খোইরোম ইন্দ্রজিৎ, মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সের সভাপতি এল, জয়ন্ত সিংহ, বামসাস কমলগঞ্জ শাখা সভাপতি মাইবম বীরেন্দ্র, মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল, ইবুংহাল সিংহ শ্যামল। এসময় আমন্ত্রিত উপস্থিতি থেকে বক্তব্য দেন কন্থৌজম শিল্পী, অয়েকপম অঞ্জু, ওয়াই রনজিৎ, বৃন্দারানী সিনহা, টি এইচ কৈন্যাহান, হামোম প্রবিত, লৈচোম্বম রাজকুমার, শৈলবাবু সিংহ, হামোম অজিতন।
বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের যুগ্ম সম্পাদক সমরেন্দ্র জানান, আমাদের মণিপুরী সাহিত্য সংসদ থেকে প্রতি বছর গুণীদের সন্মানার্থে সংবর্ধনার আয়োজন করা। এ ধরনের কাজ আমাদের আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে।
কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবী বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম কলাগাছের তন্তু থেকে সুতার উদ্ভাবন করে শাড়ি তৈরি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুশি হয়ে আমাকে এক লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। আমার সঙ্গে থাকা অন্য শিল্পীদেরও সম্মাননা দিয়েছেন। তিনি সব সময় এ বিষয়ে সহযোগিতাও করবেন বলে জানিয়েছেন। ’তিনি আরও বলেন, আজ আমার নিজ এলাকায় বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের নেতৃবৃন্দ আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন তাদের প্রতি আমি চির কৃতঞ্জ থাকবো।
উল্লেখ্য; মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে মণিপুরী জনগোষ্ঠীর গ্রাম ভানুবিল মাঝেরগাঁও। পারিবারিক ইতিহাস ঐতিহ্য হিসেবে ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি মণিপুরী তাঁতবস্ত্র তৈরি করছেন। মাফলার, ওড়না, শাড়ি, গামছা, থ্রি-পিছ তৈরি করতেন। বাড়িতে বিক্রির জন্য না হলেও কোন তাঁতবস্ত্র দোকানের চাহিদা আসলেই তিনি সে হিসেবে মণিপুরী তাঁতবস্ত্র তৈরি করে দিতেন। চলতি বছরের গত এপ্রিল মাসে বান্দরবন গিয়ে কলার তন্তু থেকে শাড়ি বুনন করে ও অতিসম্প্রতি আবার কলার তন্ত থেকে শাড়ি বুনন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে শাড়ি উপহার দিয়ে নতুন করে রাধাবতী দেবী আলোচনায় আসেন।
Facebook Comments Box
ট্যাগস :
জনপ্রিয়

কলার তন্তু থেকে শাড়ি তৈরির উদ্ভাবক ‘রাধাবতী দেবীকে’ সংবর্ধনা

প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ (বামসাস) মণিপুরী শাড়ির প্রবর্তক ও কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবীকে সংবর্ধনা দিয়েছে।শুক্রবার (৫ আগস্ট) উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল মাঝেরগাঁও গ্রামে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক নামব্রম শংকর। অনুষ্ঠানের শুরুতে কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবীকে ফুল, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি ও লেখক এ কে শেরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি খোইরোম ইন্দ্রজিৎ, মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সের সভাপতি এল, জয়ন্ত সিংহ, বামসাস কমলগঞ্জ শাখা সভাপতি মাইবম বীরেন্দ্র, মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল, ইবুংহাল সিংহ শ্যামল। এসময় আমন্ত্রিত উপস্থিতি থেকে বক্তব্য দেন কন্থৌজম শিল্পী, অয়েকপম অঞ্জু, ওয়াই রনজিৎ, বৃন্দারানী সিনহা, টি এইচ কৈন্যাহান, হামোম প্রবিত, লৈচোম্বম রাজকুমার, শৈলবাবু সিংহ, হামোম অজিতন।
বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের যুগ্ম সম্পাদক সমরেন্দ্র জানান, আমাদের মণিপুরী সাহিত্য সংসদ থেকে প্রতি বছর গুণীদের সন্মানার্থে সংবর্ধনার আয়োজন করা। এ ধরনের কাজ আমাদের আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে।
কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবী বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম কলাগাছের তন্তু থেকে সুতার উদ্ভাবন করে শাড়ি তৈরি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুশি হয়ে আমাকে এক লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। আমার সঙ্গে থাকা অন্য শিল্পীদেরও সম্মাননা দিয়েছেন। তিনি সব সময় এ বিষয়ে সহযোগিতাও করবেন বলে জানিয়েছেন। ’তিনি আরও বলেন, আজ আমার নিজ এলাকায় বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের নেতৃবৃন্দ আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন তাদের প্রতি আমি চির কৃতঞ্জ থাকবো।
উল্লেখ্য; মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে মণিপুরী জনগোষ্ঠীর গ্রাম ভানুবিল মাঝেরগাঁও। পারিবারিক ইতিহাস ঐতিহ্য হিসেবে ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি মণিপুরী তাঁতবস্ত্র তৈরি করছেন। মাফলার, ওড়না, শাড়ি, গামছা, থ্রি-পিছ তৈরি করতেন। বাড়িতে বিক্রির জন্য না হলেও কোন তাঁতবস্ত্র দোকানের চাহিদা আসলেই তিনি সে হিসেবে মণিপুরী তাঁতবস্ত্র তৈরি করে দিতেন। চলতি বছরের গত এপ্রিল মাসে বান্দরবন গিয়ে কলার তন্তু থেকে শাড়ি বুনন করে ও অতিসম্প্রতি আবার কলার তন্ত থেকে শাড়ি বুনন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে শাড়ি উপহার দিয়ে নতুন করে রাধাবতী দেবী আলোচনায় আসেন।
Facebook Comments Box