ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে মাহফিলে কমলার হালি ৫০ হাজার, খেজুর কেজি ৩০ হাজার কালীগঞ্জে ক্যাফে শীতলক্ষ্যা ফুড পার্কের শুভ উদ্বোধন হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত ধামইরহাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবসিক কোয়াটারে দুঃসাহসিক চুরি  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক বিদ্যাকুটে বশির সমর্থকদের বিশাল মিছিল, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা নবীনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

গঙ্গাচড়ায় কীটনাশকে ধানক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, জমি নিয়ে উত্তেজনা

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 146 বার পড়া হয়েছে

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহড়া চরে আগাছা দমনকারী কীটনাশক ছিটিয়ে ৫৪ শতক জমির ধানক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনোয়ারুল ইসলাম গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন অভিযুক্ত সেরাজুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাগডহড়া চরে আব্দুর রশিদের ছেলে মনোয়ারুল ইসলামের ৫৪ শতক জমি প্রায় চার বছর আগে বর্গা নেন তাঁর চাচাতো ভাই রজব আলীর ছেলে সেরাজুল ইসলাম। জমি চাষাবাদ ও ফসল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেখানে একটি টিনের ঘরও নির্মাণ করেন তিনি।
‎
‎পরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে মনোয়ারুল জমিটি আর বর্গা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। তবে সেরাজুল জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর দাবি, ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই জমি তাঁর কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।
‎
‎এ নিয়ে বিরোধ বাড়লে স্থানীয়রা সালিসের উদ্যোগ নেন। মনোয়ারুলের অভিযোগ, সেরাজুল স্ট্যাম্পে জমি বন্ধকের একটি জাল কাগজ তৈরি করে সালিসে তা দেখান। পরে সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বাধ্য হয়ে সেরাজুলকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
‎
‎এরপর জমিতে আমন ধান রোপণ করেন সেরাজুল। মনোয়ারুলের দাবি, ধান রোপণের খরচ পরিশোধ করে তিনি জমিটি নিজের দখলে নেন। কিন্তু দুই পক্ষের বিরোধ থেকেই যায়।
‎
‎মনোয়ারুল বলেন, “সেরাজুল নানা কৌশলে স্ট্যাম্পে জাল স্বাক্ষর করে জমি বন্ধকের কাগজ তৈরি করে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়েছে। সালিসের সিদ্ধান্তে বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার পর ধান রোপণের খরচও আমি বহন করেছি। এরপরও সে আগাছা দমনকারী কীটনাশক ছিটিয়ে আমার ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় থানায় অভিযোগ করেছি।”
‎
‎গত ৩০ আগস্ট সকালে ক্ষেত দেখতে গিয়ে ধানগাছ নষ্ট অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান মনোয়ারুল। তাঁর অভিযোগ, আগাছা দমনকারী কীটনাশক প্রয়োগের কারণেই ধানগাছগুলো নষ্ট হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় আব্দুস ছালাম, আনিচুর ও নুর সালামসহ কয়েকজন বলেন, “সেরাজুল মনোয়ারুলের সঙ্গে অন্যায় করছেন। এভাবে ধানক্ষেত নষ্ট করা ঠিক হয়নি।”
‎
‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জমি আমার। আমিই সেখানে ধান চাষ করেছি। মনোয়ারুল জমি দখলে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। সে নিজেই আগাছা দমনকারী কীটনাশক দিয়ে ধানক্ষেত নষ্ট করে আমার ওপর দায় চাপাচ্ছে। এ ঘটনায় আমিও থানায় অভিযোগ করেছি।”
‎
‎স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, দুই চাচাতো ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সহজেই সমাধান করা যেত। কিন্তু কয়েকজনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি জটিল হয়ে এখন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।
‎
‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “দুই পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় কীটনাশকে ধানক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, জমি নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশের সময় : ০৫:২২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহড়া চরে আগাছা দমনকারী কীটনাশক ছিটিয়ে ৫৪ শতক জমির ধানক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনোয়ারুল ইসলাম গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন অভিযুক্ত সেরাজুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাগডহড়া চরে আব্দুর রশিদের ছেলে মনোয়ারুল ইসলামের ৫৪ শতক জমি প্রায় চার বছর আগে বর্গা নেন তাঁর চাচাতো ভাই রজব আলীর ছেলে সেরাজুল ইসলাম। জমি চাষাবাদ ও ফসল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেখানে একটি টিনের ঘরও নির্মাণ করেন তিনি।
‎
‎পরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে মনোয়ারুল জমিটি আর বর্গা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। তবে সেরাজুল জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর দাবি, ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই জমি তাঁর কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।
‎
‎এ নিয়ে বিরোধ বাড়লে স্থানীয়রা সালিসের উদ্যোগ নেন। মনোয়ারুলের অভিযোগ, সেরাজুল স্ট্যাম্পে জমি বন্ধকের একটি জাল কাগজ তৈরি করে সালিসে তা দেখান। পরে সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বাধ্য হয়ে সেরাজুলকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
‎
‎এরপর জমিতে আমন ধান রোপণ করেন সেরাজুল। মনোয়ারুলের দাবি, ধান রোপণের খরচ পরিশোধ করে তিনি জমিটি নিজের দখলে নেন। কিন্তু দুই পক্ষের বিরোধ থেকেই যায়।
‎
‎মনোয়ারুল বলেন, “সেরাজুল নানা কৌশলে স্ট্যাম্পে জাল স্বাক্ষর করে জমি বন্ধকের কাগজ তৈরি করে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়েছে। সালিসের সিদ্ধান্তে বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার পর ধান রোপণের খরচও আমি বহন করেছি। এরপরও সে আগাছা দমনকারী কীটনাশক ছিটিয়ে আমার ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় থানায় অভিযোগ করেছি।”
‎
‎গত ৩০ আগস্ট সকালে ক্ষেত দেখতে গিয়ে ধানগাছ নষ্ট অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান মনোয়ারুল। তাঁর অভিযোগ, আগাছা দমনকারী কীটনাশক প্রয়োগের কারণেই ধানগাছগুলো নষ্ট হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় আব্দুস ছালাম, আনিচুর ও নুর সালামসহ কয়েকজন বলেন, “সেরাজুল মনোয়ারুলের সঙ্গে অন্যায় করছেন। এভাবে ধানক্ষেত নষ্ট করা ঠিক হয়নি।”
‎
‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জমি আমার। আমিই সেখানে ধান চাষ করেছি। মনোয়ারুল জমি দখলে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। সে নিজেই আগাছা দমনকারী কীটনাশক দিয়ে ধানক্ষেত নষ্ট করে আমার ওপর দায় চাপাচ্ছে। এ ঘটনায় আমিও থানায় অভিযোগ করেছি।”
‎
‎স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, দুই চাচাতো ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সহজেই সমাধান করা যেত। কিন্তু কয়েকজনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি জটিল হয়ে এখন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।
‎
‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “দুই পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”