ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে মাহফিলে কমলার হালি ৫০ হাজার, খেজুর কেজি ৩০ হাজার কালীগঞ্জে ক্যাফে শীতলক্ষ্যা ফুড পার্কের শুভ উদ্বোধন হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত ধামইরহাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবসিক কোয়াটারে দুঃসাহসিক চুরি  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক বিদ্যাকুটে বশির সমর্থকদের বিশাল মিছিল, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা নবীনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

চুরির অভিযোগে পিটুনি, ৭ দিন পর প্রাণ গেল যুবকের

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 74 বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ধামরাইয়ে রাইস মিলের মোটরের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে শঙ্কর মণ্ডল নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটুনির সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম কায়েত পাড়া এলাকায় নিজের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। গত ৮ আগস্ট স্থানীয় ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিলে তার নেতৃত্বে শঙ্করকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

মৃত শঙ্কর মণ্ডল ধামরাইয়ের পশ্চিম কায়েত পাড়া এলাকার বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।

মৃতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিল থেকে মোটরের একটি যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরিতে জড়িত থাকার সন্দেহে শঙ্করকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন মিল মালিক। শঙ্করের সঙ্গে তার বাবা ও স্থানীয় অন্য এক ব্যক্তিও মিলে যান। তবে বাবা ও সেই ব্যক্তিকে বাইরে পাঠিয়ে মিলের ভেতরে শঙ্করকে মারধর করেন মিল মালিক। এতেও শঙ্কর চুরির বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি না দিলে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে পরিবার তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেন। আহত অবস্থায় বাড়িতে থাকাকালে সাত দিন পর শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে তার মৃত্যু হয়।

মৃতের বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমার ছেলে আমার সঙ্গে কাজ করে। এরপরও আমার ছেলে চুরি করছে বলে খবর পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আমিসহ তাকে নিয়ে মিলে গিয়েছি। তারপর আমাদের বের করে দিয়ে তাকে ভেতরে মারধর করে। রাতে ছেড়ে দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারা ঢাকায় নিতে বলে। কিন্তু টাকা নেই কীভাবে নেবো। আজ আমার ছেলে মারা গেছে।

মিল মালিক ডেকে নেওয়ার সময় শঙ্করের সঙ্গে মিলে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, শঙ্করের বাবা আমার এলাকার প্রতিবেশী। চুরির বিষয়ে অন্য একজনের কথা অনুযায়ী তাকে ধরে নিয়ে যায়, জিজ্ঞেস করার কথা বলে। তখন আমরা শঙ্কর ও তার বাবাসহ মিলে যাই। তখন বলে, আপনারা বাইরে যান। আমি ও ওর বাবা বাইরে চলে যাই। তখন ভেতরে তাকে মারধর করে। যখন বের করে দেয় তখন ও হাঁটতে পারে না। এরপর আজ তার মৃত্যু হয়।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পরিবারের অভিযোগ, ওয়াজেদ হাজি নামে এক ব্যক্তি রাইস মিলের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগস্ট শঙ্করকে মারধর করে। তাকে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তারা ঢাকায় নিতে পরামর্শ দেয়। তবে আর্থিক কারণে তারা নিতে পারেনি। সকালে তার মৃত্যু হয়। আমরা মরদেহের সুরতহাল করেছি। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

চুরির অভিযোগে পিটুনি, ৭ দিন পর প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে রাইস মিলের মোটরের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে শঙ্কর মণ্ডল নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটুনির সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম কায়েত পাড়া এলাকায় নিজের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। গত ৮ আগস্ট স্থানীয় ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিলে তার নেতৃত্বে শঙ্করকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

মৃত শঙ্কর মণ্ডল ধামরাইয়ের পশ্চিম কায়েত পাড়া এলাকার বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।

মৃতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিল থেকে মোটরের একটি যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরিতে জড়িত থাকার সন্দেহে শঙ্করকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন মিল মালিক। শঙ্করের সঙ্গে তার বাবা ও স্থানীয় অন্য এক ব্যক্তিও মিলে যান। তবে বাবা ও সেই ব্যক্তিকে বাইরে পাঠিয়ে মিলের ভেতরে শঙ্করকে মারধর করেন মিল মালিক। এতেও শঙ্কর চুরির বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি না দিলে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে পরিবার তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেন। আহত অবস্থায় বাড়িতে থাকাকালে সাত দিন পর শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে তার মৃত্যু হয়।

মৃতের বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমার ছেলে আমার সঙ্গে কাজ করে। এরপরও আমার ছেলে চুরি করছে বলে খবর পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আমিসহ তাকে নিয়ে মিলে গিয়েছি। তারপর আমাদের বের করে দিয়ে তাকে ভেতরে মারধর করে। রাতে ছেড়ে দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারা ঢাকায় নিতে বলে। কিন্তু টাকা নেই কীভাবে নেবো। আজ আমার ছেলে মারা গেছে।

মিল মালিক ডেকে নেওয়ার সময় শঙ্করের সঙ্গে মিলে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, শঙ্করের বাবা আমার এলাকার প্রতিবেশী। চুরির বিষয়ে অন্য একজনের কথা অনুযায়ী তাকে ধরে নিয়ে যায়, জিজ্ঞেস করার কথা বলে। তখন আমরা শঙ্কর ও তার বাবাসহ মিলে যাই। তখন বলে, আপনারা বাইরে যান। আমি ও ওর বাবা বাইরে চলে যাই। তখন ভেতরে তাকে মারধর করে। যখন বের করে দেয় তখন ও হাঁটতে পারে না। এরপর আজ তার মৃত্যু হয়।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পরিবারের অভিযোগ, ওয়াজেদ হাজি নামে এক ব্যক্তি রাইস মিলের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগস্ট শঙ্করকে মারধর করে। তাকে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তারা ঢাকায় নিতে পরামর্শ দেয়। তবে আর্থিক কারণে তারা নিতে পারেনি। সকালে তার মৃত্যু হয়। আমরা মরদেহের সুরতহাল করেছি। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।