ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ১০৮ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শান্ত রায় নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অধিক মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত শান্ত রায় ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযুক্ত শান্ত রায় উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

সরে জমিন পরিদর্শনে জানা যায়, শান্ত রাজনীতির পাশাপাশি সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। এলাকায় প্রচলিত আছে, চট্টগ্রামে তার পিতার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান আছে। এর ভিত্তিতে তিনি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন এলাকায়। পরে ব্যাংকরেটের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এতে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে তুলে দিতো শান্তর হাতে। কয়েক বছর ঠিকঠাকভাবেই লেনদেন করছিলেন শান্ত। কিন্তু গত শনিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই। অথচ শনিবার ও রোববার অনেককে টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তাই শুরু হয় কানাঘুষা। তখন বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকা নেয়ার তথ্য। যার পরিমাণ কয়েক কোটি হয়ে যাবে।

শান্ত রায়ের কাছে বাড়াইল গ্রামের হক সাব পান ৪০ লাখ। সুজন মিয়া পান ২০ লাখ। ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পান আব্বাস উদ্দিন। এছাড়া সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস আট লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেব নাথ তিন লাখ, নিলখী গ্রামের খোরশেদ আলম পাঁচ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ৩৯ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান রনি তিন লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের শাহ জালাল ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের মাহফুজুর রহমান তিন লাখ, নরসিংদীর বাদল মিয়া পাঁচ লাখ টাকা পান।

এছাড়া সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদ থেকে ছয় লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম থেকে এক লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন শান্ত।

ভুক্তভোগী হক সাহেব জানান, ‘শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে আমার থেকে প্রায়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন। অন্য কারো থেকে টাকা নিতেন বলে আমার জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার মতো ৩০ থেকে ৪০ জন থেকেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন।’

সুজন মিয়া প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, শান্ত আমার বন্ধু। তার বাবা চট্টগ্রামে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। স্বর্ণ ক্রয় করার কথা বলে কয়েক দিনের জন্য আমার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। গত শনিবার আমার টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ আছে।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলেই আমি আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম।’

অনেকের ধারনা, টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে শান্ত চোরাই পথে ভারত পালিয়ে গেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। শান্ত টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তবে অনেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাসের উপর টাকা দিয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শান্ত রায় নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অধিক মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত শান্ত রায় ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযুক্ত শান্ত রায় উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

সরে জমিন পরিদর্শনে জানা যায়, শান্ত রাজনীতির পাশাপাশি সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। এলাকায় প্রচলিত আছে, চট্টগ্রামে তার পিতার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান আছে। এর ভিত্তিতে তিনি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন এলাকায়। পরে ব্যাংকরেটের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এতে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে তুলে দিতো শান্তর হাতে। কয়েক বছর ঠিকঠাকভাবেই লেনদেন করছিলেন শান্ত। কিন্তু গত শনিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই। অথচ শনিবার ও রোববার অনেককে টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তাই শুরু হয় কানাঘুষা। তখন বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকা নেয়ার তথ্য। যার পরিমাণ কয়েক কোটি হয়ে যাবে।

শান্ত রায়ের কাছে বাড়াইল গ্রামের হক সাব পান ৪০ লাখ। সুজন মিয়া পান ২০ লাখ। ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পান আব্বাস উদ্দিন। এছাড়া সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস আট লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেব নাথ তিন লাখ, নিলখী গ্রামের খোরশেদ আলম পাঁচ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ৩৯ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান রনি তিন লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের শাহ জালাল ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের মাহফুজুর রহমান তিন লাখ, নরসিংদীর বাদল মিয়া পাঁচ লাখ টাকা পান।

এছাড়া সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদ থেকে ছয় লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম থেকে এক লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন শান্ত।

ভুক্তভোগী হক সাহেব জানান, ‘শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে আমার থেকে প্রায়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন। অন্য কারো থেকে টাকা নিতেন বলে আমার জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার মতো ৩০ থেকে ৪০ জন থেকেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন।’

সুজন মিয়া প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, শান্ত আমার বন্ধু। তার বাবা চট্টগ্রামে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। স্বর্ণ ক্রয় করার কথা বলে কয়েক দিনের জন্য আমার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। গত শনিবার আমার টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ আছে।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলেই আমি আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম।’

অনেকের ধারনা, টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে শান্ত চোরাই পথে ভারত পালিয়ে গেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। শান্ত টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তবে অনেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাসের উপর টাকা দিয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১২:১৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শান্ত রায় নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অধিক মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত শান্ত রায় ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযুক্ত শান্ত রায় উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

সরে জমিন পরিদর্শনে জানা যায়, শান্ত রাজনীতির পাশাপাশি সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। এলাকায় প্রচলিত আছে, চট্টগ্রামে তার পিতার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান আছে। এর ভিত্তিতে তিনি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন এলাকায়। পরে ব্যাংকরেটের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এতে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে তুলে দিতো শান্তর হাতে। কয়েক বছর ঠিকঠাকভাবেই লেনদেন করছিলেন শান্ত। কিন্তু গত শনিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই। অথচ শনিবার ও রোববার অনেককে টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তাই শুরু হয় কানাঘুষা। তখন বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকা নেয়ার তথ্য। যার পরিমাণ কয়েক কোটি হয়ে যাবে।

শান্ত রায়ের কাছে বাড়াইল গ্রামের হক সাব পান ৪০ লাখ। সুজন মিয়া পান ২০ লাখ। ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পান আব্বাস উদ্দিন। এছাড়া সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস আট লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেব নাথ তিন লাখ, নিলখী গ্রামের খোরশেদ আলম পাঁচ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ৩৯ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান রনি তিন লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের শাহ জালাল ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের মাহফুজুর রহমান তিন লাখ, নরসিংদীর বাদল মিয়া পাঁচ লাখ টাকা পান।

এছাড়া সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদ থেকে ছয় লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম থেকে এক লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন শান্ত।

ভুক্তভোগী হক সাহেব জানান, ‘শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে আমার থেকে প্রায়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন। অন্য কারো থেকে টাকা নিতেন বলে আমার জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার মতো ৩০ থেকে ৪০ জন থেকেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন।’

সুজন মিয়া প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, শান্ত আমার বন্ধু। তার বাবা চট্টগ্রামে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। স্বর্ণ ক্রয় করার কথা বলে কয়েক দিনের জন্য আমার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। গত শনিবার আমার টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ আছে।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলেই আমি আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম।’

অনেকের ধারনা, টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে শান্ত চোরাই পথে ভারত পালিয়ে গেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। শান্ত টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তবে অনেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাসের উপর টাকা দিয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শান্ত রায় নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অধিক মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত শান্ত রায় ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযুক্ত শান্ত রায় উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

সরে জমিন পরিদর্শনে জানা যায়, শান্ত রাজনীতির পাশাপাশি সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। এলাকায় প্রচলিত আছে, চট্টগ্রামে তার পিতার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান আছে। এর ভিত্তিতে তিনি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন এলাকায়। পরে ব্যাংকরেটের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এতে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে তুলে দিতো শান্তর হাতে। কয়েক বছর ঠিকঠাকভাবেই লেনদেন করছিলেন শান্ত। কিন্তু গত শনিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই। অথচ শনিবার ও রোববার অনেককে টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তাই শুরু হয় কানাঘুষা। তখন বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকা নেয়ার তথ্য। যার পরিমাণ কয়েক কোটি হয়ে যাবে।

শান্ত রায়ের কাছে বাড়াইল গ্রামের হক সাব পান ৪০ লাখ। সুজন মিয়া পান ২০ লাখ। ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পান আব্বাস উদ্দিন। এছাড়া সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস আট লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেব নাথ তিন লাখ, নিলখী গ্রামের খোরশেদ আলম পাঁচ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ৩৯ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান রনি তিন লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের শাহ জালাল ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের মাহফুজুর রহমান তিন লাখ, নরসিংদীর বাদল মিয়া পাঁচ লাখ টাকা পান।

এছাড়া সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদ থেকে ছয় লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম থেকে এক লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন শান্ত।

ভুক্তভোগী হক সাহেব জানান, ‘শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে আমার থেকে প্রায়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন। অন্য কারো থেকে টাকা নিতেন বলে আমার জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার মতো ৩০ থেকে ৪০ জন থেকেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন।’

সুজন মিয়া প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, শান্ত আমার বন্ধু। তার বাবা চট্টগ্রামে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। স্বর্ণ ক্রয় করার কথা বলে কয়েক দিনের জন্য আমার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। গত শনিবার আমার টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ আছে।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলেই আমি আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম।’

অনেকের ধারনা, টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে শান্ত চোরাই পথে ভারত পালিয়ে গেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। শান্ত টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তবে অনেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাসের উপর টাকা দিয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’