ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নাচতে এসে নৌকায় গণধর্ষণের শিকার দুই নৃত্যশিল্পী অহংকার নয়, সম্প্রীতিই শক্তি—দুশো বছরের সাক্ষী ফটিকছড়ি নবীনগরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, ফের আবেদন করতে পারবেন ফল পরিবর্তনকারীরা বাবা কারাগারে যাওয়ার পরই উধাও মা, অসহায় ৩ সন্তান মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা গৃহবধূর করুণ মৃত্যু, শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন পিরোজপুরের প্রধান শিক্ষক ফ্যামিলি কার্ডে যুক্ত হচ্ছে ৪১ লাখ পরিবার, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

তুচ্ছ ঘটনায় শিল্পীদের আদালতে হাজির করা দুঃখজনক

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 62 বার পড়া হয়েছে

তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিনয়শিল্পীদের আদালতে টেনে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধরনের ঘটনাকে শোবিজ অঙ্গনের জন্য ‘গভীর যন্ত্রণাদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। এটা শুধু লজ্জাজনকই নয়, আমাদের বিনোদনজগতের জন্য গভীর যন্ত্রণাদায়কও। এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের শোবিজ অঙ্গন কতটা ভঙ্গুর, হালকা ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

প্রতিটি মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বকে আইনি লড়াইয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকেও ভালো চোখে দেখছেন না এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, যখন দেখি এই সংস্কৃতিকে মানুষ উৎসাহ দিচ্ছে, প্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখছে, তখন হৃদয়টা ভেঙে যায়। প্রতিটি মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বকে আদালতে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই দূরদর্শী মানসিকতা বলা যায় না, বরং এটি সম্পূর্ণ পশ্চাৎমুখী চিন্তার প্রকাশ।

সমাধানের পথ হিসেবে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আলোচনা ও পরিণত মানসিকতার ওপর জোর দিয়েছেন ফারিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বোঝাপড়া, আলোচনা ও পরিণত মানসিকতা প্রয়োজন, প্রকাশ্য অপমান ও অপ্রয়োজনীয় আইনি লড়াই দরকার নেই।’

অবশ্য আদালত ও মামলার অভিজ্ঞতা থেকে নুসরাত ফারিয়াও পুরোপুরি দূরে নন। গত বছরের মে মাসে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করতে হয় তাকে। পরে জামিনে মুক্ত হন এই অভিনেত্রী।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া নুসরাত ফারিয়া বেড়ে উঠেছেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল আর্মি অফিসার হওয়ার। তবে পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় যুক্ত হন রেডিও জকি হিসেবে। সেখান থেকে টেলিভিশনে উপস্থাপনায় পরিচিতি পান তিনি।

২০১২ সালে আরটিভির ‘ঠিক বলছেন তো’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টিভি পর্দায় উপস্থাপক হিসেবে তার অভিষেক হয়। এর আগে এনটিভির ‘থার্টিফাস্ট ধামাকা কক্সবাজার’ অনুষ্ঠানেও কাজ করেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে বলিউডের সংগীতশিল্পী সুনিধি চৌহানের কনসার্ট উপস্থাপনার সুযোগ তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরবর্তীতে উপস্থাপনা থেকে অভিনয়ে পা রাখেন ফারিয়া। ২০১৫ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এসকে মুভিজের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘আশিকি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘হিরো ৪২০’, ‘বাদশা দ্য ডন’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘বস ২’ ও ‘বিবাহ অভিযান’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

বর্তমানে তানজিন তিশাকে ঘিরে আদালতকেন্দ্রিক আলোচনার মধ্যেই নুসরাত ফারিয়ার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিল্পীদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও বিরোধ কতটা সহজে আইনি লড়াইয়ে গড়ানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছেন তিনি।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

তুচ্ছ ঘটনায় শিল্পীদের আদালতে হাজির করা দুঃখজনক

প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিনয়শিল্পীদের আদালতে টেনে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধরনের ঘটনাকে শোবিজ অঙ্গনের জন্য ‘গভীর যন্ত্রণাদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। এটা শুধু লজ্জাজনকই নয়, আমাদের বিনোদনজগতের জন্য গভীর যন্ত্রণাদায়কও। এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের শোবিজ অঙ্গন কতটা ভঙ্গুর, হালকা ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

প্রতিটি মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বকে আইনি লড়াইয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকেও ভালো চোখে দেখছেন না এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, যখন দেখি এই সংস্কৃতিকে মানুষ উৎসাহ দিচ্ছে, প্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখছে, তখন হৃদয়টা ভেঙে যায়। প্রতিটি মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বকে আদালতে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই দূরদর্শী মানসিকতা বলা যায় না, বরং এটি সম্পূর্ণ পশ্চাৎমুখী চিন্তার প্রকাশ।

সমাধানের পথ হিসেবে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আলোচনা ও পরিণত মানসিকতার ওপর জোর দিয়েছেন ফারিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বোঝাপড়া, আলোচনা ও পরিণত মানসিকতা প্রয়োজন, প্রকাশ্য অপমান ও অপ্রয়োজনীয় আইনি লড়াই দরকার নেই।’

অবশ্য আদালত ও মামলার অভিজ্ঞতা থেকে নুসরাত ফারিয়াও পুরোপুরি দূরে নন। গত বছরের মে মাসে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করতে হয় তাকে। পরে জামিনে মুক্ত হন এই অভিনেত্রী।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া নুসরাত ফারিয়া বেড়ে উঠেছেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল আর্মি অফিসার হওয়ার। তবে পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় যুক্ত হন রেডিও জকি হিসেবে। সেখান থেকে টেলিভিশনে উপস্থাপনায় পরিচিতি পান তিনি।

২০১২ সালে আরটিভির ‘ঠিক বলছেন তো’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টিভি পর্দায় উপস্থাপক হিসেবে তার অভিষেক হয়। এর আগে এনটিভির ‘থার্টিফাস্ট ধামাকা কক্সবাজার’ অনুষ্ঠানেও কাজ করেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে বলিউডের সংগীতশিল্পী সুনিধি চৌহানের কনসার্ট উপস্থাপনার সুযোগ তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরবর্তীতে উপস্থাপনা থেকে অভিনয়ে পা রাখেন ফারিয়া। ২০১৫ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এসকে মুভিজের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘আশিকি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘হিরো ৪২০’, ‘বাদশা দ্য ডন’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘বস ২’ ও ‘বিবাহ অভিযান’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

বর্তমানে তানজিন তিশাকে ঘিরে আদালতকেন্দ্রিক আলোচনার মধ্যেই নুসরাত ফারিয়ার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিল্পীদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও বিরোধ কতটা সহজে আইনি লড়াইয়ে গড়ানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছেন তিনি।