ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারী খাল উদ্ধার

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, প্রতিদিনের পোস্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের জিনদপুর-কড়ইবাড়ি নামক স্থানে দুই পাশে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে ভূ’মিদুস্যু সিন্ডেকেটের দখলে থাকা সরকারি খাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খাল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে খালের মাঝে থাকা মাটি ভেকু দিয়ে সরিয়ে খাল উদ্ধার করেন। এ সময় খালের আশেপাশের ভুক্তভোগী উৎসব জনতা আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায়।

জানা যায়, এলাকার কিছু চিহ্নিত ভুমিদুস্যু নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের দুইপাশের সরকারি খাল সংলগ্ন ফসলি জমি ক্রয় করে। ওই ক্রয়কৃত ফসলী জমি বেশী দামে বিক্রী করার লক্ষ্যে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে জমির সামনের অংশে থাকা সরকারী খাল ভরাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

ভূ’মিদুস্যু সিন্ডিকেট এর সদস্য উপজেলার মালাই গ্রামের যুবলীগ নেতা ভূমিদস্যু বিল্লাল হোসেন ও জিনদপুর গ্রামের হাসান উদ্দিন, হুরুয়া গ্রামের আবুল বাশার,আলামিন, নজরুল ইসলামসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খাল ভরাটকৃত অংশসহ সংলগ্ন ফসলি জমি প্রতি শতাংশ ৩ লক্ষ টাকা করে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওই সড়কের পাশে সরকারি খাল ভরাট করার ফলে জিনদপুর, কড়ইবাড়ি, লাউরফতেহপুর, বাড়িখলা সহ আশেপাশের শত শত একর ফসলি জমি শুঁকনো মৌসুমে সেচের অসুবিধায় অনাবাদি থেকে যায়। এবং বর্ষা মৌসুমে বর্ষার পানির সাথে পলি মাটি না আসতে পারায় জমিগুলোর উর্বরতা হারিয়ে যাওয়াসহ খাল ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আশেপাশের গ্রামগুলোতে অল্প বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায়।এছাড়াও খাল ভরাট করতে গিয়ে তারা মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ লঙ্ঘন করে পাশের ফসলি জমি কেটে নাল কে ডুবা করায় হুমকির মুখে পড়ছে আশেপাশের জমিগুলো। অভিযানকালে অবৈধ দখলদারদের কাউকে না পেয়ে খালের উপর থাকা অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করে দুইপাশের খালের মাঝে থাকা মাটি ভেকু দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়।

নবীনগর সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা জাহান এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন,জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, ইউএনও অফিসের সি এ কামরুল ইসলাম ভূইয়া , ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন,এস আই মিশন বিশ্বাস ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

এবিষয়ে নবীনগর সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা জাহান জানান,নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক স্যারের নির্দেশক্রমে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সরকারি খাল উদ্ধার করা হয়েছে।

এবিষয়ে নবীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক জানান, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ফসলি জমির স্বার্থে সরকারি খাল পানি চলাচলের উপযোগী করতে এই উদ্ধার অভিযান করা হয়। এধরণের অভিযান চলমান থাকবে।

Facebook Comments Box
ট্যাগস :
জনপ্রিয়

নবীনগরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারী খাল উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, প্রতিদিনের পোস্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের জিনদপুর-কড়ইবাড়ি নামক স্থানে দুই পাশে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে ভূ’মিদুস্যু সিন্ডেকেটের দখলে থাকা সরকারি খাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খাল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে খালের মাঝে থাকা মাটি ভেকু দিয়ে সরিয়ে খাল উদ্ধার করেন। এ সময় খালের আশেপাশের ভুক্তভোগী উৎসব জনতা আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায়।

জানা যায়, এলাকার কিছু চিহ্নিত ভুমিদুস্যু নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের দুইপাশের সরকারি খাল সংলগ্ন ফসলি জমি ক্রয় করে। ওই ক্রয়কৃত ফসলী জমি বেশী দামে বিক্রী করার লক্ষ্যে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে জমির সামনের অংশে থাকা সরকারী খাল ভরাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

ভূ’মিদুস্যু সিন্ডিকেট এর সদস্য উপজেলার মালাই গ্রামের যুবলীগ নেতা ভূমিদস্যু বিল্লাল হোসেন ও জিনদপুর গ্রামের হাসান উদ্দিন, হুরুয়া গ্রামের আবুল বাশার,আলামিন, নজরুল ইসলামসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খাল ভরাটকৃত অংশসহ সংলগ্ন ফসলি জমি প্রতি শতাংশ ৩ লক্ষ টাকা করে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওই সড়কের পাশে সরকারি খাল ভরাট করার ফলে জিনদপুর, কড়ইবাড়ি, লাউরফতেহপুর, বাড়িখলা সহ আশেপাশের শত শত একর ফসলি জমি শুঁকনো মৌসুমে সেচের অসুবিধায় অনাবাদি থেকে যায়। এবং বর্ষা মৌসুমে বর্ষার পানির সাথে পলি মাটি না আসতে পারায় জমিগুলোর উর্বরতা হারিয়ে যাওয়াসহ খাল ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আশেপাশের গ্রামগুলোতে অল্প বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায়।এছাড়াও খাল ভরাট করতে গিয়ে তারা মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ লঙ্ঘন করে পাশের ফসলি জমি কেটে নাল কে ডুবা করায় হুমকির মুখে পড়ছে আশেপাশের জমিগুলো। অভিযানকালে অবৈধ দখলদারদের কাউকে না পেয়ে খালের উপর থাকা অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করে দুইপাশের খালের মাঝে থাকা মাটি ভেকু দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়।

নবীনগর সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা জাহান এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন,জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, ইউএনও অফিসের সি এ কামরুল ইসলাম ভূইয়া , ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন,এস আই মিশন বিশ্বাস ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

এবিষয়ে নবীনগর সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা জাহান জানান,নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক স্যারের নির্দেশক্রমে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সরকারি খাল উদ্ধার করা হয়েছে।

এবিষয়ে নবীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক জানান, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ফসলি জমির স্বার্থে সরকারি খাল পানি চলাচলের উপযোগী করতে এই উদ্ধার অভিযান করা হয়। এধরণের অভিযান চলমান থাকবে।

Facebook Comments Box