নবীনগরে চাচার কব্জি বিচ্ছিন্ন: তিন সপ্তাহেও অধরা আসামিরা, আতঙ্কে আদালতের দ্বারস্থ পরিবার
- প্রকাশের সময় : ০২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

নবীনগর প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ভাতিজার হাতে চাচার কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো নৃশংস ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের লাগাতার হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ তুলে এবং নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার এখন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।
গত ২৬ জুন নবীনগর উপজেলার চড়িলাম গ্রামে এই পাশবিক হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন (২৭ জুন) আহত রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ বায়জিদ ইসলামসহ আসামিরা এখনো অধরা থাকায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবারটি।
মামলার বাদী মোঃ আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অতর্কিত হামলা করা হয়েছিল। এখন মামলা করায় আসামিরা আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এখন আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, পুলিশের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ১৩ই জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(গ) ধারায় আরেকটি মামলা (পি-১২১৩) দায়ের করেছেন। আরিফুলের একটাই দাবি প্রশাসন যেন দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
ঘটনার দিনের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে আহতের স্ত্রী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আমি রান্না করছিলাম আর আমার স্বামী ফসলের মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাসুর শফিকুল ইসলাম তার মাথায় কোপ দেয়। শফিকুলের স্ত্রী মুক্তা ইসলাম আমার হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলে এবং হাঁড়ি থেকে মরিচের গুঁড়া তুলে আমার মুখে ছুড়ে মারে। ঠিক তখনই তাদের ভাতিজা বায়জিদ এক কোপে আমার স্বামীর হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।”
হামলার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ও রফিকুল ইসলামের ভাগ্নে গোলাম রব্বানী জানান, “মামা বাড়িতে ঢুকতেই এক নারী তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারে এবং প্রায় সাথে সাথেই মামাতো ভাই বায়জিদ দা দিয়ে কোপ দেয়। আমি দেখি, মামার কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে আর তিনি মাটিতে ছটফট করছেন।”
ভুক্তভোগীর আর্তনাদ তিনি বলেন, “ওরা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি, কিন্তু আমার হাতটা আর নেই। আমি আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব না। আমি শুধু এই পাশবিকতার ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মামলার পরও আসামিরা বাদীপক্ষকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে পুরো চড়িলাম গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর ইসলাম বলেন, “আমরা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”


















