ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে বারি সরিষা-১৮ আবাদে লাভবান কৃষক

মো. আলমগীর খন্দকার
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি: প্রতিদিনের পোস্ট

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বারি সরিষা-১৮ আবাদে লাভবান হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষকরা।

এ উপজেলায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমি এবং সেচ সুবিধার অভাবে বিস্তৃর্ন জমিতে সরিষা, ধনিয়া আবাদ হয়। পরবর্তীতে বর্ষার শুরুতে বোনা আমন আবাদ করা হয়। উপজেলার রছুল্লাবাদ, রতনপুর ইউনিয়ন অন্যতম।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষি বিভাগের অন্যতম কার্যক্রম হচ্ছে জাত পরিবর্তন। দেশীয় যেসকল তেল ফসল উৎপাদন হয় তারমধ্যে ফলন যেমন বেশি গুণে মানে উৎকৃষ্ট হচ্ছে বারি সরিষা ১৮। অপেক্ষাকৃত সময় বেশি লাগে, তাই কৃষকদের অনাগ্রহ ছিলো।
নবীনগরে_বারি_সরিষা-১৮_আবাদে_লাভবান_কৃষক

উল্লিখিত ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের সরিষা কর্তনের পর জমিগুলো এক থেকে দেড় মাস পতিত পরে থাকে, তারপর বর্ষার শুরুতে স্থানীয় জাতের বোনা আমন আবাদ করা হয়। প্যাটার্ন সুবিধা কাজে লাগাতে গতবছর থেকেই রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে ১৫ জন কৃষকদের নিয়ে একসাথে সমলয় আকারে স্থানীয় সরিষা জাত এবং বারি সরিষা ১৪ জাত পরিবর্তন করে বারি সরিষা ১৮ জাত আবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশনায় কাজটি বাস্তবায়ন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা রোকেয়া আক্তার।

রতনপুর গ্রামের কৃষক মুখলেস মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এই জাতের আবাদ বৃদ্ধির জন্য আমাদেরকে বীজ, সার, পরামর্শ প্রদান করা হয়। আমরা বিঘাপ্রতি ৭ মন সরিষা পেয়েছি, অন্য জাতের চেয়ে ২ থেকে ২.৫ মন বেশি।

উপসহকারী কৃষি অফিসার সৈয়দা রোকেয়া আক্তার জানান, একসাথে চাষাবাদ করলে সহজে একটি প্রযুক্তি বা জাত সম্প্রসারণ কৃষকদের বিশ্বাসযোগ্য এবং সহজবোধ্য করা যায়। ২০ বিঘা জমিতে আবাদ করার জন্য ১৫ জন কৃষকদের দেওয়া হয় ডিএপি, এমওপি এবং জিপসাম।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, বারি-১৮ বিঘাপ্রতি ফলন বেশি এবং প্রচলিত সরিষার চেয়ে তেলের পরিমাণ অন্তত দুই শতাংশ বেশি। প্রচলিত সরিষার ইউরেসিক এসিডের হার আড়াই শতাংশের উপরে থাকায় অনেকে ভোজ্যতেল হিসেবে সরিষাকে পরিহার করেন। কিন্তু বারি-১৮ জাতের সরিষার তেলে ইউরেসিক এসিডের হার পয়েন্ট পাঁচ শতাংশের নীচে। এ কারণে এ তেল স্বাস্থ্যসম্মত। ফ্যাটি এসিডের হার কম থাকায় হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের জন্যে মোটেই ক্ষতিকর নয়। আমাদের লক্ষ্য যেসকল জমিতে সেচের অভাবে বোরো আবাদ হয়না, সেখানে বারি সরিষা ১৮ সম্প্রসারণ।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

x

নবীনগরে বারি সরিষা-১৮ আবাদে লাভবান কৃষক

প্রকাশের সময় : ১২:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বারি সরিষা-১৮ আবাদে লাভবান হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষকরা।

এ উপজেলায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমি এবং সেচ সুবিধার অভাবে বিস্তৃর্ন জমিতে সরিষা, ধনিয়া আবাদ হয়। পরবর্তীতে বর্ষার শুরুতে বোনা আমন আবাদ করা হয়। উপজেলার রছুল্লাবাদ, রতনপুর ইউনিয়ন অন্যতম।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষি বিভাগের অন্যতম কার্যক্রম হচ্ছে জাত পরিবর্তন। দেশীয় যেসকল তেল ফসল উৎপাদন হয় তারমধ্যে ফলন যেমন বেশি গুণে মানে উৎকৃষ্ট হচ্ছে বারি সরিষা ১৮। অপেক্ষাকৃত সময় বেশি লাগে, তাই কৃষকদের অনাগ্রহ ছিলো।
নবীনগরে_বারি_সরিষা-১৮_আবাদে_লাভবান_কৃষক

উল্লিখিত ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের সরিষা কর্তনের পর জমিগুলো এক থেকে দেড় মাস পতিত পরে থাকে, তারপর বর্ষার শুরুতে স্থানীয় জাতের বোনা আমন আবাদ করা হয়। প্যাটার্ন সুবিধা কাজে লাগাতে গতবছর থেকেই রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে ১৫ জন কৃষকদের নিয়ে একসাথে সমলয় আকারে স্থানীয় সরিষা জাত এবং বারি সরিষা ১৪ জাত পরিবর্তন করে বারি সরিষা ১৮ জাত আবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশনায় কাজটি বাস্তবায়ন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা রোকেয়া আক্তার।

রতনপুর গ্রামের কৃষক মুখলেস মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এই জাতের আবাদ বৃদ্ধির জন্য আমাদেরকে বীজ, সার, পরামর্শ প্রদান করা হয়। আমরা বিঘাপ্রতি ৭ মন সরিষা পেয়েছি, অন্য জাতের চেয়ে ২ থেকে ২.৫ মন বেশি।

উপসহকারী কৃষি অফিসার সৈয়দা রোকেয়া আক্তার জানান, একসাথে চাষাবাদ করলে সহজে একটি প্রযুক্তি বা জাত সম্প্রসারণ কৃষকদের বিশ্বাসযোগ্য এবং সহজবোধ্য করা যায়। ২০ বিঘা জমিতে আবাদ করার জন্য ১৫ জন কৃষকদের দেওয়া হয় ডিএপি, এমওপি এবং জিপসাম।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, বারি-১৮ বিঘাপ্রতি ফলন বেশি এবং প্রচলিত সরিষার চেয়ে তেলের পরিমাণ অন্তত দুই শতাংশ বেশি। প্রচলিত সরিষার ইউরেসিক এসিডের হার আড়াই শতাংশের উপরে থাকায় অনেকে ভোজ্যতেল হিসেবে সরিষাকে পরিহার করেন। কিন্তু বারি-১৮ জাতের সরিষার তেলে ইউরেসিক এসিডের হার পয়েন্ট পাঁচ শতাংশের নীচে। এ কারণে এ তেল স্বাস্থ্যসম্মত। ফ্যাটি এসিডের হার কম থাকায় হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের জন্যে মোটেই ক্ষতিকর নয়। আমাদের লক্ষ্য যেসকল জমিতে সেচের অভাবে বোরো আবাদ হয়না, সেখানে বারি সরিষা ১৮ সম্প্রসারণ।