ঢাকা , রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

নবীনগরে মাথাগোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশি ১শ গৃহহীন পরিবার

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রতিদিনের পোস্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নির্মিত চতুর্থ পর্যায়ে ৪টি ইউনিয়নের ১০০টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ সেমিপাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সকল পরিবারের মধ্যে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি রহমান, নবীনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান মনির খন্দকার, আল ইমরান, রবিউল আওয়াল রবি, নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, সাংবাদিক আবু কাউসার, যুগান্তর প্রতিনিধি সাফিউল আলম, বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর হোসেন, শুভেন্দ্র চক্রবর্তী শুভ প্রমূখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চতুর্থ পর্যায়ে উপজেলায় ১০০ জন গৃহহীন ও ভূমিহীনকে বিনামূল্যে জমি ও রঙিন টিন দিয়ে আধাপাকা ঘর করে দিচ্ছে সরকার।

ইতোমধ্যে ৬২০টি পরিবারের মধ্যে জমির উপহারের ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১০০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহারের ঘরে থাকছে ২টি থাকার কক্ষ, ১টি রান্না ঘর, ১টি করে উন্নত টয়লেট ও ১টি বারান্দা। প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে আশ্রয় পেয়ে আবেগাপ্লুত
নাটঘর ইউনিয়নের মো. আলম জানান, সারাজীবন অভাব-অনটনের সংসারে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। পাকাবাড়ি বানানোর চিন্তা কোনোদিন করেননি। তাই বিনামূল্যে জমি ও ঘর পেয়ে আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি।

কাইতলা ইউনিয়নের উপকারভোগী নাজমা বেগম বলেন, বিগত কোনো সরকার বিনামূল্যে জায়গাসহ রঙিন টিনে পাকাঘর পাওয়ার এমন স্বপ্ন দেখাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। তার জন্য মন থেকে দোয়া করেন তিনি।

কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেন, জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধান্মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে সরকারি খরচে মাথা গোজার আশ্রয়স্থল গড়ে দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করে চলেছেন তিনি। নির্দেশনায় আমার ইউনিয়নে প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়ন করে নিয়মমাফিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কোনো রকম অনিয়ম হয়নি।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন রয়েছেন তাদেরকে ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে।

চতুর্থ পর্যায়ে নবীনগর উপজেলায় ১০০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গুণগতমান বজায় রেখে দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ঘরগুলোর নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে যারা উপকারভোগী আছেন তাদের সাথেও মতবিনিময় করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহহীনদের একটা মানসম্মত ও টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য আমরা সবসময় তদারকি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এই ঘরগুলো করতে পেরে আমরা নিজেরাও তৃপ্ত।

Facebook Comments Box
ট্যাগস :

জীবনের শেষ ভোরেও সংবাদপত্র তুলে দিয়েছেন চৌধুরী

নবীনগরে মাথাগোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশি ১শ গৃহহীন পরিবার

প্রকাশের সময় : ১১:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩

মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রতিদিনের পোস্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নির্মিত চতুর্থ পর্যায়ে ৪টি ইউনিয়নের ১০০টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ সেমিপাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সকল পরিবারের মধ্যে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি রহমান, নবীনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান মনির খন্দকার, আল ইমরান, রবিউল আওয়াল রবি, নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, সাংবাদিক আবু কাউসার, যুগান্তর প্রতিনিধি সাফিউল আলম, বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর হোসেন, শুভেন্দ্র চক্রবর্তী শুভ প্রমূখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চতুর্থ পর্যায়ে উপজেলায় ১০০ জন গৃহহীন ও ভূমিহীনকে বিনামূল্যে জমি ও রঙিন টিন দিয়ে আধাপাকা ঘর করে দিচ্ছে সরকার।

ইতোমধ্যে ৬২০টি পরিবারের মধ্যে জমির উপহারের ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১০০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহারের ঘরে থাকছে ২টি থাকার কক্ষ, ১টি রান্না ঘর, ১টি করে উন্নত টয়লেট ও ১টি বারান্দা। প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে আশ্রয় পেয়ে আবেগাপ্লুত
নাটঘর ইউনিয়নের মো. আলম জানান, সারাজীবন অভাব-অনটনের সংসারে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। পাকাবাড়ি বানানোর চিন্তা কোনোদিন করেননি। তাই বিনামূল্যে জমি ও ঘর পেয়ে আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি।

কাইতলা ইউনিয়নের উপকারভোগী নাজমা বেগম বলেন, বিগত কোনো সরকার বিনামূল্যে জায়গাসহ রঙিন টিনে পাকাঘর পাওয়ার এমন স্বপ্ন দেখাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। তার জন্য মন থেকে দোয়া করেন তিনি।

কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেন, জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধান্মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে সরকারি খরচে মাথা গোজার আশ্রয়স্থল গড়ে দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করে চলেছেন তিনি। নির্দেশনায় আমার ইউনিয়নে প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়ন করে নিয়মমাফিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কোনো রকম অনিয়ম হয়নি।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন রয়েছেন তাদেরকে ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে।

চতুর্থ পর্যায়ে নবীনগর উপজেলায় ১০০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গুণগতমান বজায় রেখে দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ঘরগুলোর নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে যারা উপকারভোগী আছেন তাদের সাথেও মতবিনিময় করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহহীনদের একটা মানসম্মত ও টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য আমরা সবসময় তদারকি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এই ঘরগুলো করতে পেরে আমরা নিজেরাও তৃপ্ত।

Facebook Comments Box