ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নবীনগর পৌর এলাকায় শতবর্ষী দিঘী ভরাট চেষ্টা: ১ টি ড্রেজার মেসিন জব্দ

মোঃ আলমগীর খন্দকার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আলমগীর হোসেন, নবীনগর প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং গ্রামের স্মৃতি চিহ্ন জমিদারের ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাট চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সমর দাসের ভাতিজা সুমন দাসের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহামুদা জাহান। সরজমিনে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করেন। এসময় ১ টি ড্রেজার মেসিন জব্দ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে, নবীনগর সদর বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমর দাস স্বল্প মূল্যে ভোলাচং গ্রামের জমিদার প্রয়াত মলিন্দ্র রায় ওরফে কেটু বাবুর কাছ থেকে দিঘীটি নাম মাত্র মূল্যে ক্রয় করেন। দিঘীটি ক্রয় করার পর একাধিকবার বালু দিয়ে ভরাট করতে চেষ্টা করেন সমর দাস গংরা।

স্থানীয়রা আরো জানান, নবীনগর সদর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায় সমর দাস এলাকার সাধারণ মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। সমর দাসের অনুপস্থিতিতে তার ভাতিজা সুমন দাস দিঘীটি ভরাট করতে এলাকার প্রভাবশালীদের মোটা অংঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পুনরায় দিঘীটি ভরাট করতে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে বরাট কার্যক্রম চালিয়েছে। এছাড়াও এর পাশে থাকা সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গাও দখল করার পায়তারা করছেন।

এলাকাবাসী প্রতিদিনের পোস্টকে আরো জানান, এর আগেও গত কয়েক বছর আগে সমর দাস এই দিঘীটি ভরাট করতে চেয়েছিলো, কিন্তু এলাকাবাসীর তুপের মুখে ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঐ সময়ে ভরাট পক্রিয়া বন্ধ হয়। প্রায় ১০ বিঘার উপর দিঘীটি ভরাট হলে এলাকার শতশত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে যাবে। এত দুর্ভোগে পড়বে পুরো এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমর দাসের ভাতিজা সুমন দাস জানান, দিঘীটি আমরা এলাকার জমিদার মনিন্দ্র রায় ওরফে (কেটু বাবু) কাছ থেকে ক্রয় করেছি। বর্তমানে দিঘীটির অধিকাংশ জায়গায়ই ভরাট হয়েছে। দিঘীটির পাসে অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে, তারাও চাচ্ছে এটি ভরাট করতে। দিঘীটি ভরাটের বিষয়ে কথা বলতে আমরা এমপি (এবাদুল করিম বুলবুল) সাহেবের বাড়িতে আসছি।

নবীনগর পৌর মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দীঘি ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জনকল্যানে দীঘিটি আবারো খনন করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির ফরহাদ শামীম প্রতিদিনের পোস্টকে জানান, ভোলাচং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাট বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় দিঘী ভরাটের কাজে নিয়োজিত অবৈধ ডেজারটিকেও জব্দ করা হয়েছে। খাসের জায়গায় আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও জানান এসব অবৈধ ভাবে জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নবীনগর পৌর এলাকায় শতবর্ষী দিঘী ভরাট চেষ্টা: ১ টি ড্রেজার মেসিন জব্দ

প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মোঃ আলমগীর হোসেন, নবীনগর প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং গ্রামের স্মৃতি চিহ্ন জমিদারের ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাট চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সমর দাসের ভাতিজা সুমন দাসের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহামুদা জাহান। সরজমিনে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করেন। এসময় ১ টি ড্রেজার মেসিন জব্দ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে, নবীনগর সদর বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমর দাস স্বল্প মূল্যে ভোলাচং গ্রামের জমিদার প্রয়াত মলিন্দ্র রায় ওরফে কেটু বাবুর কাছ থেকে দিঘীটি নাম মাত্র মূল্যে ক্রয় করেন। দিঘীটি ক্রয় করার পর একাধিকবার বালু দিয়ে ভরাট করতে চেষ্টা করেন সমর দাস গংরা।

স্থানীয়রা আরো জানান, নবীনগর সদর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায় সমর দাস এলাকার সাধারণ মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। সমর দাসের অনুপস্থিতিতে তার ভাতিজা সুমন দাস দিঘীটি ভরাট করতে এলাকার প্রভাবশালীদের মোটা অংঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পুনরায় দিঘীটি ভরাট করতে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে বরাট কার্যক্রম চালিয়েছে। এছাড়াও এর পাশে থাকা সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গাও দখল করার পায়তারা করছেন।

এলাকাবাসী প্রতিদিনের পোস্টকে আরো জানান, এর আগেও গত কয়েক বছর আগে সমর দাস এই দিঘীটি ভরাট করতে চেয়েছিলো, কিন্তু এলাকাবাসীর তুপের মুখে ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঐ সময়ে ভরাট পক্রিয়া বন্ধ হয়। প্রায় ১০ বিঘার উপর দিঘীটি ভরাট হলে এলাকার শতশত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে যাবে। এত দুর্ভোগে পড়বে পুরো এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমর দাসের ভাতিজা সুমন দাস জানান, দিঘীটি আমরা এলাকার জমিদার মনিন্দ্র রায় ওরফে (কেটু বাবু) কাছ থেকে ক্রয় করেছি। বর্তমানে দিঘীটির অধিকাংশ জায়গায়ই ভরাট হয়েছে। দিঘীটির পাসে অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে, তারাও চাচ্ছে এটি ভরাট করতে। দিঘীটি ভরাটের বিষয়ে কথা বলতে আমরা এমপি (এবাদুল করিম বুলবুল) সাহেবের বাড়িতে আসছি।

নবীনগর পৌর মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দীঘি ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জনকল্যানে দীঘিটি আবারো খনন করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির ফরহাদ শামীম প্রতিদিনের পোস্টকে জানান, ভোলাচং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাট বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় দিঘী ভরাটের কাজে নিয়োজিত অবৈধ ডেজারটিকেও জব্দ করা হয়েছে। খাসের জায়গায় আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও জানান এসব অবৈধ ভাবে জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।