ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে মাহফিলে কমলার হালি ৫০ হাজার, খেজুর কেজি ৩০ হাজার কালীগঞ্জে ক্যাফে শীতলক্ষ্যা ফুড পার্কের শুভ উদ্বোধন হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত ধামইরহাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবসিক কোয়াটারে দুঃসাহসিক চুরি  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক বিদ্যাকুটে বশির সমর্থকদের বিশাল মিছিল, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা নবীনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

নাচতে এসে নৌকায় গণধর্ষণের শিকার দুই নৃত্যশিল্পী

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০২:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 110 বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে কিশোরীসহ দুই নারী নৃত্যশিল্পী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহাবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা পেশাগতভাবে বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের ফেসবুক পেজ থেকে যোগাযোগ নম্বর নিয়ে রাকিব মিয়া নামের এক যুবক শাহাবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহাবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান।

পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে দুই নারীকে আসামিরা পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এজাহার অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে নৌকার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। এরপর আইনি সহায়তা পেতে তারা প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার অধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

  1. সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নাচতে এসে নৌকায় গণধর্ষণের শিকার দুই নৃত্যশিল্পী

প্রকাশের সময় : ০২:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে কিশোরীসহ দুই নারী নৃত্যশিল্পী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহাবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা পেশাগতভাবে বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের ফেসবুক পেজ থেকে যোগাযোগ নম্বর নিয়ে রাকিব মিয়া নামের এক যুবক শাহাবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহাবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান।

পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে দুই নারীকে আসামিরা পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এজাহার অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে নৌকার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। এরপর আইনি সহায়তা পেতে তারা প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার অধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

  1. সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।