ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিজ মেয়েকে নির্যাতনকারী বাবাকে গনধোলাই

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৬৭ বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে চাচাতো বোনকে ধর্ষণ ও নিজ মেয়েকে নির্যাতনকারী মাসুককে বিক্ষুদ্ধ জনতার গনপিটুনির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ মামলায় সুমন ও বিল্লাল নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মাসুক মিয়ার (৪৮) স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৫)। এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের রানীমুরা গ্রামে আপন মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবাদ সভা শেষে মাসুকের বাড়ীতে হামলা চালায়।
এসময় তার বাড়ি-ঘর ভাঙ্গচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুরের পর মাসুক মিয়াকে ঘর থেকে বের করে পাশের জমিতে ফেলে গণপিটুনি দেয় জনতা। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এলাকাবাসী সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের বীরগোগালী (রানীমুরা) গ্রামের বাসিন্দা মৃত তবদুল হোসেনের পুত্র মাসুক মিয়া (৪৯)। এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে মাসুক নিজ বাড়ীতে ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা করে আসছে। ইয়াবাসহ সে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাবা মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন মেয়ে মাহমুদা আক্তার ফাহিমা (১৭)। নিজ বাবা কতৃক মেয়ের নির্যাতনের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী গত রবিবার রানীমুড়া এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। প্রতিবাদ সভা শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা মাসুকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা মাসুক মিয়াকে গনপিটুনি দিয়ে পাশের জমিতে ফেলে রাখে। পরে জুড়ী থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এছাড়া গতবছরের ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী চাচাতো বোনকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে মাশুক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে জুড়ী থানা পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর আপন বড় ভাই বাদী হয়ে জুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার মাসুক মিয়া জেলও খেটেছেন। মামলাটির বিচারাধীন আদালতে এখনও চলমান আছে।

জুড়ী থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাসুক মিয়ার উপর হামলা, বাড়ী ভাঙচুরের ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মাসুক মিয়ার (৪৮) স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৫)। এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের রানীমুড়া গ্রামের জয়নাল হোসেনের ছেলে
আনোয়ার হোসেন (৪০), জাকির হোসেন (৪২), কাউছার (২৮), মৃত আলতাব আলীর ছেলে শহিদ মিয়া (৫০), মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মানিক মিয়া (৪০),
হানিফ মিয়া (৩৫), মোঃ বিল্লাল (৩২), আ: আব্দুল আজিজের ছেলে এবাদুর রহমান (২৮), উত্তর সাগরনাল গ্রামের আব্দুল্লাহ আল- মামুন, রানীমুড়া গ্রামের তাজেল মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম (৩২), রানীমুড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আজিজ (৫২), রানীমুড়া বীরগুগালী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে হাবীব (২৪), মৃত মনসুর আলীর ছেলে রাজা নিয়া (৫০), পশ্চিম কাশীনগর গ্রামের মুতুল হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন (৩২), সাখায়াত (২৫), কাসকিত্তা গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে ইসান (২৩), মনতৈল গ্রামের সেনে আলীর ছেলে সুমন (৩০), ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা বাজার গ্রামের আজন মিয়ার ছেলে ইসলাম সুহেল (৩৬), জায়ফরনগর ইউনিয়নের বজিটিলা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আসুক (২৮), উত্তর ভবানীপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে সাইদুর রহমান (২৮),উত্তর ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল হাসিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন (২৮), চম্পকলতা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮)। এ মামলায় দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন,‌ এ মামলায় ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

x

নিজ মেয়েকে নির্যাতনকারী বাবাকে গনধোলাই

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে চাচাতো বোনকে ধর্ষণ ও নিজ মেয়েকে নির্যাতনকারী মাসুককে বিক্ষুদ্ধ জনতার গনপিটুনির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ মামলায় সুমন ও বিল্লাল নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মাসুক মিয়ার (৪৮) স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৫)। এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের রানীমুরা গ্রামে আপন মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবাদ সভা শেষে মাসুকের বাড়ীতে হামলা চালায়।
এসময় তার বাড়ি-ঘর ভাঙ্গচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুরের পর মাসুক মিয়াকে ঘর থেকে বের করে পাশের জমিতে ফেলে গণপিটুনি দেয় জনতা। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এলাকাবাসী সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের বীরগোগালী (রানীমুরা) গ্রামের বাসিন্দা মৃত তবদুল হোসেনের পুত্র মাসুক মিয়া (৪৯)। এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে মাসুক নিজ বাড়ীতে ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা করে আসছে। ইয়াবাসহ সে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাবা মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন মেয়ে মাহমুদা আক্তার ফাহিমা (১৭)। নিজ বাবা কতৃক মেয়ের নির্যাতনের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী গত রবিবার রানীমুড়া এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। প্রতিবাদ সভা শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা মাসুকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা মাসুক মিয়াকে গনপিটুনি দিয়ে পাশের জমিতে ফেলে রাখে। পরে জুড়ী থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এছাড়া গতবছরের ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী চাচাতো বোনকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে মাশুক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে জুড়ী থানা পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর আপন বড় ভাই বাদী হয়ে জুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার মাসুক মিয়া জেলও খেটেছেন। মামলাটির বিচারাধীন আদালতে এখনও চলমান আছে।

জুড়ী থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাসুক মিয়ার উপর হামলা, বাড়ী ভাঙচুরের ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মাসুক মিয়ার (৪৮) স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৫)। এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের রানীমুড়া গ্রামের জয়নাল হোসেনের ছেলে
আনোয়ার হোসেন (৪০), জাকির হোসেন (৪২), কাউছার (২৮), মৃত আলতাব আলীর ছেলে শহিদ মিয়া (৫০), মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মানিক মিয়া (৪০),
হানিফ মিয়া (৩৫), মোঃ বিল্লাল (৩২), আ: আব্দুল আজিজের ছেলে এবাদুর রহমান (২৮), উত্তর সাগরনাল গ্রামের আব্দুল্লাহ আল- মামুন, রানীমুড়া গ্রামের তাজেল মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম (৩২), রানীমুড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আজিজ (৫২), রানীমুড়া বীরগুগালী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে হাবীব (২৪), মৃত মনসুর আলীর ছেলে রাজা নিয়া (৫০), পশ্চিম কাশীনগর গ্রামের মুতুল হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন (৩২), সাখায়াত (২৫), কাসকিত্তা গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে ইসান (২৩), মনতৈল গ্রামের সেনে আলীর ছেলে সুমন (৩০), ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা বাজার গ্রামের আজন মিয়ার ছেলে ইসলাম সুহেল (৩৬), জায়ফরনগর ইউনিয়নের বজিটিলা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আসুক (২৮), উত্তর ভবানীপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে সাইদুর রহমান (২৮),উত্তর ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল হাসিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন (২৮), চম্পকলতা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮)। এ মামলায় দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন,‌ এ মামলায় ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।