ঢাকা , শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের বাঙ্গি চাষি লােকসানের মুখে

এস কে রাজু, ফরিদপুর
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
  • / ১৫০ বার পড়া হয়েছে

ছবি: প্রতিদিনের পোস্ট

ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যাপকভাবে চাষ হয় লালমি জাতের বাঙ্গি। এ বছর রোজার শুরুতে বাজারে উঠাতে না পারায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকটি জেলায় অল্প পরিসরে এ বাঙ্গি চাষ হলেও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এটি ফরিদপুর জেলার ফসল। এ বাঙ্গির চাষ এ জেলায়ই বেশি হয়।

জানা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলে পবিত্র রমজান মাসের কথা চিন্তা করেই বাঙ্গি চাষ করা হয়। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে সময়মতাে গাছ হয়নি, হয়নি ফলনও। সবই হয়েছে দেরীতে। প্রতি বছর এ বাঙ্গি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও এ বছর লােকসান হতে পারে চাষিদের। গত বছর মৌসুমের শুরুতে মাঝারি সাইজেরর ১০০ বাঙ্গি বিক্রি হয়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। যা এ বছর সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দাম পাচ্ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার কৃষ্ণপুর থেকে সদরপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বাঙ্গি জমা করে রেখেছেন চাষিরা। পরে পাইকাররা এসে রাস্তা থেকেই কিনে নিয়ে যান। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রমজান শেখ, মাকসুদ, নেছার, রোকসানাসহ চাষিরা প্রতিদিনের পোস্টকে জানান, তারা প্রতি বছরই বাঙ্গি চাষ করেন। তাদের টার্গেট থাকে রমজান মাসের শুরুতেই যেন তােলা যায়। কিন্তু এ বছর শীত ও কুয়াশার কারণে সময়মতো চাষ করা যায়নি। গাছও সময়মতো হয়নি। তাই এ বছর বাজারে উঠতে দেরী হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর বাঙ্গি চাষ হয়েছে ৮০২ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে লালমি জাতের ৫৩২ হেক্টরই। এ জাতের বাঙ্গি বেশি চাষ হয় সদরপুর উপজেলায়। এ বছর ছােট সাইজের লালমি প্রতি ১০০ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ এবং বড় সাইজটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

সদরপুরের কাটাখালীর চাষি সবুর মোল্লা প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, রােজার শুরুতে লালমি (বাঙ্গি) উঠলে দাম ও চাহিদা বেশি থাকে। এ বছর লালমি কারাে উঠেছে ৬ রােজার পর। বেশিরভাগেরই উঠেছে ১০ রােজার পর। তখন এমনিতেই দাম নেমে যায়। আবার সারাদেশের লালমিও বাজারে ওঠে। সব মিলিয়ে দাম পাওয়া যায় না।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাে. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, লালমিকে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ফল বলা যেতে পারে। এটি আশপাশের জেলায় কিছুটা চাষ হলেও খুব অল্প। এ বছর শীতের কারণে ফলন আসতে দেরী হয়েছে। যাতে হয়তাে কিছুটা লােকসান হবে। আগামীতে আরও আগে চাষ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে উঁচু ও চরের জমিতে চাষ করতে হবে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ফরিদপুরের বাঙ্গি চাষি লােকসানের মুখে

প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যাপকভাবে চাষ হয় লালমি জাতের বাঙ্গি। এ বছর রোজার শুরুতে বাজারে উঠাতে না পারায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকটি জেলায় অল্প পরিসরে এ বাঙ্গি চাষ হলেও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এটি ফরিদপুর জেলার ফসল। এ বাঙ্গির চাষ এ জেলায়ই বেশি হয়।

জানা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলে পবিত্র রমজান মাসের কথা চিন্তা করেই বাঙ্গি চাষ করা হয়। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে সময়মতাে গাছ হয়নি, হয়নি ফলনও। সবই হয়েছে দেরীতে। প্রতি বছর এ বাঙ্গি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও এ বছর লােকসান হতে পারে চাষিদের। গত বছর মৌসুমের শুরুতে মাঝারি সাইজেরর ১০০ বাঙ্গি বিক্রি হয়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। যা এ বছর সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দাম পাচ্ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার কৃষ্ণপুর থেকে সদরপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বাঙ্গি জমা করে রেখেছেন চাষিরা। পরে পাইকাররা এসে রাস্তা থেকেই কিনে নিয়ে যান। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রমজান শেখ, মাকসুদ, নেছার, রোকসানাসহ চাষিরা প্রতিদিনের পোস্টকে জানান, তারা প্রতি বছরই বাঙ্গি চাষ করেন। তাদের টার্গেট থাকে রমজান মাসের শুরুতেই যেন তােলা যায়। কিন্তু এ বছর শীত ও কুয়াশার কারণে সময়মতো চাষ করা যায়নি। গাছও সময়মতো হয়নি। তাই এ বছর বাজারে উঠতে দেরী হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর বাঙ্গি চাষ হয়েছে ৮০২ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে লালমি জাতের ৫৩২ হেক্টরই। এ জাতের বাঙ্গি বেশি চাষ হয় সদরপুর উপজেলায়। এ বছর ছােট সাইজের লালমি প্রতি ১০০ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ এবং বড় সাইজটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

সদরপুরের কাটাখালীর চাষি সবুর মোল্লা প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, রােজার শুরুতে লালমি (বাঙ্গি) উঠলে দাম ও চাহিদা বেশি থাকে। এ বছর লালমি কারাে উঠেছে ৬ রােজার পর। বেশিরভাগেরই উঠেছে ১০ রােজার পর। তখন এমনিতেই দাম নেমে যায়। আবার সারাদেশের লালমিও বাজারে ওঠে। সব মিলিয়ে দাম পাওয়া যায় না।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাে. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, লালমিকে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ফল বলা যেতে পারে। এটি আশপাশের জেলায় কিছুটা চাষ হলেও খুব অল্প। এ বছর শীতের কারণে ফলন আসতে দেরী হয়েছে। যাতে হয়তাে কিছুটা লােকসান হবে। আগামীতে আরও আগে চাষ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে উঁচু ও চরের জমিতে চাষ করতে হবে।