ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

বড়লেখার হত্যা মামলার ২আসামি বি-বাড়ীয়ায় গ্রেপ্তার

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারে বড়লেখায় ডেকোরেটার্স শ্রমিক জাবলু আহমদ (২২) হত্যা মামলার আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গুটমা-গুচ্ছগ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা জাবলু হত্যা মামলার এজাহার নামীয় তিন নম্বর আসামি উজ্জল মিয়া (২৫) ও চার নম্বর আসামি তার বাবা মনু মিয়া (৬০)।
গত ৯ মার্চ ছেলে হত্যার অভিযোগে নিহত জাবলুর বাবা শহীদ আহমদ উপজেলার মহদিকোনা আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা কাজল মিয়া, সজল মিয়া, উজ্জল মিয়া ও তাদের বাবা মনু মিয়া এবং মহদিকোনা গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আলী আহমদ ও জবরিল মিয়ার নামোল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বাড়ি নাসিরনগরের গুটমা-গুচ্ছগ্রামে হলেও বর্তমানে তারা বড়লেখা উপজেলার মহদিকোনা আশ্রয়ণকেন্দ্রে বসবাস করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত জাবলু আহমদ পেশায় দিনমজুর। মামলার ২ নম্বর আসামি সজল মিয়া জাবলুর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডেকোরেশনের কাজ করতেন। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার মহদিকোনা আশ্রয় কেন্দ্রের সামনে কাজের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সজলের সঙ্গে জাবলুর কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সজলের ভাই কাজল, উজ্জল ও তাদের বাবা মনু মিয়া জাবলুর ওপর হামলা চালান। তখন কাজল মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে জাবলুর বুকে আঘাত করেন। একইভাবে সজল মিয়া ধারালো চাকু দিয়ে জাবলুর পেটে আঘাত করেন। এসময় অপর আসামি উজ্জল মিয়া, মনু মিয়া, আলী আহমদ, জবরিল মিয়া লাঠি দিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবলুকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে জাবলু মাটিতে পড়ে গেলেও আসামিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে জাবলুর চিৎকারে স্থানীয়রা আসামিদের কবল থেকে জাবলুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাবলুকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর আবারও জাবলুর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পুনরায় সিলেট এমএজিওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ মার্চ রাত ১০টায় জাবলু মারা যান। এই ঘটনায় নিহত জাবলুর বাবা শহীদ আহমদ থানায় ছয় জনের নামোল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৩মার্চ) ভোর ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুটমা-গুচ্ছগ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি উজ্জল মিয়া ও তার বাবা মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, দিনমজুর জাবলুকে হত্যার অভিযোগে তার বাবার দায়ের করা মামলায় আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments Box
ট্যাগস :

জীবনের শেষ ভোরেও সংবাদপত্র তুলে দিয়েছেন চৌধুরী

বড়লেখার হত্যা মামলার ২আসামি বি-বাড়ীয়ায় গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৩:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারে বড়লেখায় ডেকোরেটার্স শ্রমিক জাবলু আহমদ (২২) হত্যা মামলার আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গুটমা-গুচ্ছগ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা জাবলু হত্যা মামলার এজাহার নামীয় তিন নম্বর আসামি উজ্জল মিয়া (২৫) ও চার নম্বর আসামি তার বাবা মনু মিয়া (৬০)।
গত ৯ মার্চ ছেলে হত্যার অভিযোগে নিহত জাবলুর বাবা শহীদ আহমদ উপজেলার মহদিকোনা আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা কাজল মিয়া, সজল মিয়া, উজ্জল মিয়া ও তাদের বাবা মনু মিয়া এবং মহদিকোনা গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আলী আহমদ ও জবরিল মিয়ার নামোল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বাড়ি নাসিরনগরের গুটমা-গুচ্ছগ্রামে হলেও বর্তমানে তারা বড়লেখা উপজেলার মহদিকোনা আশ্রয়ণকেন্দ্রে বসবাস করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত জাবলু আহমদ পেশায় দিনমজুর। মামলার ২ নম্বর আসামি সজল মিয়া জাবলুর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডেকোরেশনের কাজ করতেন। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার মহদিকোনা আশ্রয় কেন্দ্রের সামনে কাজের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সজলের সঙ্গে জাবলুর কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সজলের ভাই কাজল, উজ্জল ও তাদের বাবা মনু মিয়া জাবলুর ওপর হামলা চালান। তখন কাজল মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে জাবলুর বুকে আঘাত করেন। একইভাবে সজল মিয়া ধারালো চাকু দিয়ে জাবলুর পেটে আঘাত করেন। এসময় অপর আসামি উজ্জল মিয়া, মনু মিয়া, আলী আহমদ, জবরিল মিয়া লাঠি দিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবলুকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে জাবলু মাটিতে পড়ে গেলেও আসামিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে জাবলুর চিৎকারে স্থানীয়রা আসামিদের কবল থেকে জাবলুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাবলুকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর আবারও জাবলুর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পুনরায় সিলেট এমএজিওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ মার্চ রাত ১০টায় জাবলু মারা যান। এই ঘটনায় নিহত জাবলুর বাবা শহীদ আহমদ থানায় ছয় জনের নামোল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৩মার্চ) ভোর ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুটমা-গুচ্ছগ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি উজ্জল মিয়া ও তার বাবা মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, দিনমজুর জাবলুকে হত্যার অভিযোগে তার বাবার দায়ের করা মামলায় আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments Box