ঢাকা , শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ডাকাতের হাতে ডাকাত খুন, গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে
ছয় বছর পূর্বে ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মজিবর আকন টেক্কা (৪৯) ও তার অন্য দুই সহযোগী রুহুল আমিন লেদু (৪৩) ও সামিম হোসেন (৩৩) এর হাতে তাদের ডাকাত দলের সদস্য আজাহার আজাদ (৩৩) নির্মমভাবে খুন হয়। পরবর্তীতে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সাভারের তুরাগ নদীতে ফেলে দেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সঙ্গে জড়িত আসামি ডাকাত সর্দার মজিবর আকন টেক্কা ও তার অপর এক সহযোগী সামিম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা।
সোমবার (১০ জুন) পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলেন ধরেন পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।
পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ভিকটিম কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হলেও পরবর্তীতে বাসায় না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই শাজাহান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানার মামলা দায়ের করে। পিবিআই ঢাকা জেলা টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয় বছর পূর্বের হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনসহ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। সাভার এবং আশুলিয়া এলাকার তুরাগ নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ ডাকাতি করে আসছিল। ভিকটিম নিজেও ডাকাত দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিল। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ট্রলারযোগে তুরাগ নদীর গাবতলী ঘাট এলাকা ডাকাতি শেষে প্রাপ্ত টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ধারালো বড় কাঁচি দিয়ে পিছন থেকে ভিকটিমের মাথায় ও বুকে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। লাশ গুম করার জন্য তুরাগ নদীতে ফেলে আসামিরা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার মজিবর আকন টেক্কার বিরুদ্ধে নয়টি ও রুহুল আমিন লেদুর বিরুদ্ধে তিনটি মামলাসহ একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছে। তাদের ডাকাতির টাকায় বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিশাল মাছের খামার ও ডুপ্লেক্স বাড়ি। তাছাড়া তুরাগ নদীর সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর অংশে বিভিন্ন মালবাহী ট্রলার, বালুবাহী ভলগেট ও অন্যান্য নৌ-যানে দীর্ঘদিন ধরেই ডাকাতি ও চাঁবাবাজি করে আসছিল। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই রাতের বেলা তার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবল সহ ঐসকল ট্রলারে ডাকাতি করতেন।
ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ডাকাতের হাতে ডাকাত খুন, গ্রেফতার ২

প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪
ছয় বছর পূর্বে ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মজিবর আকন টেক্কা (৪৯) ও তার অন্য দুই সহযোগী রুহুল আমিন লেদু (৪৩) ও সামিম হোসেন (৩৩) এর হাতে তাদের ডাকাত দলের সদস্য আজাহার আজাদ (৩৩) নির্মমভাবে খুন হয়। পরবর্তীতে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সাভারের তুরাগ নদীতে ফেলে দেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সঙ্গে জড়িত আসামি ডাকাত সর্দার মজিবর আকন টেক্কা ও তার অপর এক সহযোগী সামিম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা।
সোমবার (১০ জুন) পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলেন ধরেন পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।
পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ভিকটিম কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হলেও পরবর্তীতে বাসায় না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই শাজাহান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানার মামলা দায়ের করে। পিবিআই ঢাকা জেলা টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয় বছর পূর্বের হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনসহ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। সাভার এবং আশুলিয়া এলাকার তুরাগ নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ ডাকাতি করে আসছিল। ভিকটিম নিজেও ডাকাত দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিল। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ট্রলারযোগে তুরাগ নদীর গাবতলী ঘাট এলাকা ডাকাতি শেষে প্রাপ্ত টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ধারালো বড় কাঁচি দিয়ে পিছন থেকে ভিকটিমের মাথায় ও বুকে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। লাশ গুম করার জন্য তুরাগ নদীতে ফেলে আসামিরা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার মজিবর আকন টেক্কার বিরুদ্ধে নয়টি ও রুহুল আমিন লেদুর বিরুদ্ধে তিনটি মামলাসহ একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছে। তাদের ডাকাতির টাকায় বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিশাল মাছের খামার ও ডুপ্লেক্স বাড়ি। তাছাড়া তুরাগ নদীর সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর অংশে বিভিন্ন মালবাহী ট্রলার, বালুবাহী ভলগেট ও অন্যান্য নৌ-যানে দীর্ঘদিন ধরেই ডাকাতি ও চাঁবাবাজি করে আসছিল। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই রাতের বেলা তার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবল সহ ঐসকল ট্রলারে ডাকাতি করতেন।