ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যাত্রী রেখে পুলিশকে না নেওয়ায় অটোচালককে ‘থাপ্পড়’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ১৪১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || যাত্রী রেখে পুলিশকে না নেওয়ায় অটোচালককে ‘থাপ্পড়’।

সারা দেশে ‘পুলিশ সপ্তাহ’ উপলক্ষে পুলিশের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকারি সংস্থাটি। অথচ পুলিশের বিরুদ্ধেই বিনা অপরাধে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, এক অটোচালক কেন যাত্রী রেখে পুলিশ কর্মকর্তাকে পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছে দিলেন না; সেই ‘অপরাধে’ জনসম্মুখে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। 

অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী অটোচালক থাপ্পড় খেয়ে ক্যাম্পপ্রধান নূরুল ইসলামের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে, তিনিও উল্টো বকাঝকা করেন বলেও অভিযোগ।

ভুক্তভোগী নুরুল আমীন বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে। 

অভিযোগ করে নুরুল আমীন বলেন, ‘সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চম্পকনগর বাজার থেকে যাত্রী নিয়েছি। যাত্রী ছিল হেলাল উদ্দীন ও আলাল মিয়া। এমন সময় হেলাল বাজারে কী যেন আনতে গেয়েছিল। আলাল অটোতেই ছিলেন। এমন সময় এক জন এসে বললেন, সামনে দিয়ে আসতে। আমি বললাম, যাত্রী আছে পারব না। একথা শুনে ওই ব্যক্তি আরও দুজনকে নিয়ে আসলেন। তাদের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল। তখন বুঝলাম, যিনি একটু আগে এসেছেন তিনিও পুলিশ। কারণ সিভিল পোশাকে ছিল, এজন্য চিনিনি। পরে আমার গাড়ি তল্লাশি শুরু করলো। দেখার পর আমি বললাম শেষ হয়েছে কিনা। একথা বলতেই থাপ্পড় মেরে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। অপরাধ না করেও কেন চড় খেলাম বুঝতেই পারিনি।’ 

প্রত্যক্ষদর্শী অটোযাত্রী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গন্তব্যে পৌঁছে দেয়নি, এই রাগে আমাদের গাড়িটি চেক করিয়েছে। পরে কিছু না পেয়ে চালককে থাপ্পড় দিলো। কেন থাপ্পড় দিলো— এই অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পপ্রধানের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম থাপ্পড় দেওয়া কনস্টবল ফারুকের বিচার না করে আমাদের বকাঝকা করলেন। পুলিশই যদি সাধারণদের এমন হয়রানি করে, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়।’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, উপজেলার থানা একটি, দুটি ফাঁড়ি, একটি ক্যাম্প। প্রত্যেকটি থানা ও ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা একাধিকবার বদলি হয়েছেন। তবে চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নূরুল ইসলাম অনেকদিন এক জায়গায় থাকার ফলে আইনের অপব্যবহার করছেন। কর্মকর্তার বেশি কথা বলা ও মুখের ভাষা খারাপ হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই বিরক্ত। উপজেলার অনেকেরই প্রশ্ন— পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম এতদিন এক জায়গায় কীভাবে থাকেন! 

এ ব্যাপারে চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেগুলোকে দেখলেই নেশাখোর লাগে। তারা গাড়িতে বড়ই গাছের ডাল রাখবে কেন? ডাল দিয়ে তারা কী করে। আর আপনি সাংবাদিক, ছোটখাটো ব্যাপারে কল দিলেন কেন। আপনাকে সাংবাদিকতা কে শিখিয়েছেন?’ 

‘থাপ্পড় দেওয়া ছোট বিষয়’— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগে সাংবাদিকতা শিখুন’। ‘অভিযুক্তদের ভিডিও আছে’— এমন তথ্য জানানো হলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে দেখান, কোনও সমস্যা নেই। আপনি সাংবাদিককেও আমি দেখবো’ বলে কল কেটে দেন।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহম্মেদ জানান, বিষয়টি তিনি খবর নেবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন রেজাকে ‘অপরাধ ছাড়া পুলিশ কাউকে থাপ্পড় দিতে পারেন কিনা’ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপারেশন) জয়নাল আবেদীদের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ

এই নিউজটি শেয়ার করুন

যাত্রী রেখে পুলিশকে না নেওয়ায় অটোচালককে ‘থাপ্পড়’

প্রকাশের সময় : ০৪:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || যাত্রী রেখে পুলিশকে না নেওয়ায় অটোচালককে ‘থাপ্পড়’।

সারা দেশে ‘পুলিশ সপ্তাহ’ উপলক্ষে পুলিশের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকারি সংস্থাটি। অথচ পুলিশের বিরুদ্ধেই বিনা অপরাধে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, এক অটোচালক কেন যাত্রী রেখে পুলিশ কর্মকর্তাকে পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছে দিলেন না; সেই ‘অপরাধে’ জনসম্মুখে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। 

অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী অটোচালক থাপ্পড় খেয়ে ক্যাম্পপ্রধান নূরুল ইসলামের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে, তিনিও উল্টো বকাঝকা করেন বলেও অভিযোগ।

ভুক্তভোগী নুরুল আমীন বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে। 

অভিযোগ করে নুরুল আমীন বলেন, ‘সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চম্পকনগর বাজার থেকে যাত্রী নিয়েছি। যাত্রী ছিল হেলাল উদ্দীন ও আলাল মিয়া। এমন সময় হেলাল বাজারে কী যেন আনতে গেয়েছিল। আলাল অটোতেই ছিলেন। এমন সময় এক জন এসে বললেন, সামনে দিয়ে আসতে। আমি বললাম, যাত্রী আছে পারব না। একথা শুনে ওই ব্যক্তি আরও দুজনকে নিয়ে আসলেন। তাদের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল। তখন বুঝলাম, যিনি একটু আগে এসেছেন তিনিও পুলিশ। কারণ সিভিল পোশাকে ছিল, এজন্য চিনিনি। পরে আমার গাড়ি তল্লাশি শুরু করলো। দেখার পর আমি বললাম শেষ হয়েছে কিনা। একথা বলতেই থাপ্পড় মেরে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। অপরাধ না করেও কেন চড় খেলাম বুঝতেই পারিনি।’ 

প্রত্যক্ষদর্শী অটোযাত্রী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গন্তব্যে পৌঁছে দেয়নি, এই রাগে আমাদের গাড়িটি চেক করিয়েছে। পরে কিছু না পেয়ে চালককে থাপ্পড় দিলো। কেন থাপ্পড় দিলো— এই অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পপ্রধানের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম থাপ্পড় দেওয়া কনস্টবল ফারুকের বিচার না করে আমাদের বকাঝকা করলেন। পুলিশই যদি সাধারণদের এমন হয়রানি করে, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়।’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, উপজেলার থানা একটি, দুটি ফাঁড়ি, একটি ক্যাম্প। প্রত্যেকটি থানা ও ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা একাধিকবার বদলি হয়েছেন। তবে চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নূরুল ইসলাম অনেকদিন এক জায়গায় থাকার ফলে আইনের অপব্যবহার করছেন। কর্মকর্তার বেশি কথা বলা ও মুখের ভাষা খারাপ হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই বিরক্ত। উপজেলার অনেকেরই প্রশ্ন— পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম এতদিন এক জায়গায় কীভাবে থাকেন! 

এ ব্যাপারে চম্পকনগর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেগুলোকে দেখলেই নেশাখোর লাগে। তারা গাড়িতে বড়ই গাছের ডাল রাখবে কেন? ডাল দিয়ে তারা কী করে। আর আপনি সাংবাদিক, ছোটখাটো ব্যাপারে কল দিলেন কেন। আপনাকে সাংবাদিকতা কে শিখিয়েছেন?’ 

‘থাপ্পড় দেওয়া ছোট বিষয়’— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগে সাংবাদিকতা শিখুন’। ‘অভিযুক্তদের ভিডিও আছে’— এমন তথ্য জানানো হলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে দেখান, কোনও সমস্যা নেই। আপনি সাংবাদিককেও আমি দেখবো’ বলে কল কেটে দেন।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহম্মেদ জানান, বিষয়টি তিনি খবর নেবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন রেজাকে ‘অপরাধ ছাড়া পুলিশ কাউকে থাপ্পড় দিতে পারেন কিনা’ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপারেশন) জয়নাল আবেদীদের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ