ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীদের ভীড়, আয় ৭লাখ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ১২৫ বার পড়া হয়েছে

নাসিম আজাদ।। নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় তৈলবীজ হিসেবে বপন করা সূর্যমুখী বাগান এখন হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্র।এরফলে একদিকে কৃষকরা তৈলবীজের পাশাপাশি বাগানে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও পাচ্ছেন বাড়তি আয়।এতে খুশি কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

দেশে আদর্শ মানের ভোজ্য তেল হিসেবে সূর্যমূখী বাগানের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি এটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা। আর কৃষকরাও সূর্যমূখী বাগান থেকে ভোজ্যতেলের পাশাপাশি বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও বারতি আয় হচ্ছে। আর নরসিংদীর চরসিন্দুরের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত সেতুর উত্তর পাশে বিশালাকার চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে সূর্যমুখী কর্ণার। এখানে প্রায় হাজার বিঘা চরের জমি বছরের একটি সময় পতিত পড়ে থাকে।

তাই এই জমিকে কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম নামে কৃষি বিভাগের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই এলাকায় গত বছর প্রথমবারের মতো ৫বিঘা জমিতে চাষ করেন সূর্যমূখীর। বর্তমানে যা ২০ বিঘারও উপরে। এই বাগানে ফুল ফোটার সাথে সাথেই আসতে শুরু করেছে দর্শনার্থী।

তাই বাগান রক্ষা ও দর্শনার্থীদের উপভোগের জন্য বাগানে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই সূর্যমূখী বাগান করে একদিকে কমপুজিতে বেশী লাভ, অপরদিকে বাগানগুলো বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হওয়ায় আসছে বাড়তি আয়। আর এই বাগান ঘুরতে এসে খুশি ভ্রমন পিপাষুরাও।

কৃষিবিদ মো: মাজহারুল হক জানান, তাঁর পরিবারের ৫জন সদস্য কৃষি বিভাগের সাথে জড়িত। তিনি দুই বছর হয় অবসরে এসেছেন। অবসরে এসেই দুই বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে নরসিংদীতে সূর্যমূখীর বাগান করেছেন। সেখানে তিনি বাগান করে সফলতাও পেয়েছেন। তাই গত বছর নিজ এলাকা পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরে এসে দেখেন শীতলক্ষ্যার পাড়ে গড়ে উঠা বিশালাকার চড় পতিত পড়ে আছে। তিনি এই জমিগুলো কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এখানে জমি ভাড়া নিয়ে প্রথমবার ৫বিঘা ও বর্তমানে ২০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন সূর্যমূখীর বাগান। বাগান থেকে তৈলবীজ সংগ্রহের আশায় গড়ে তোলা হলেও এখন স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সকল বয়সের নারী পুরুষ এখানে ঘুরতে ছুুটে আসেন দলবেধে।

বাগান ঘুরে নিজের মোবাইল দিয়ে ছবিও তুলেন দর্শনার্থীরা। এবার ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। তার মূল লক্ষ ছিল এই সূর্যমূখীর বাগান দেখে যেনো আগামীতে এই চরে সকলেই সূর্যমূখীর বাগান করে। প্রতিদিন ১হাজার থেকে ১২শত কোন কোন দিন এর চেয়ে বেশিও দর্শনার্থী আশে।টিকেটের মুল্য ২০ টাকা, এক মাসে আমার আয় হবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা।

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীদের ভীড়, আয় ৭লাখ

বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুরুতে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি ক্লাস চালু না হওয়ায় বাড়িতে এক ঘেয়েমি সময়টাকে পার করার জন্য এই সূর্যমূখীর বাগান ঘুরতে আসেন বলে জানান শিক্ষার্থী ও দর্শনাথীরা। তারা বাগান ঘুরে ছুবি তুলে কিছুটা হলেও আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারেন বলে জানান তারা।

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সুলতানপুরের ফয়জুল করিম পাঠান জানান, এই বাগান দেখে যেনো চরের অন্যান্য কৃষকরাও আগামীতে সূর্যমূখীর বাগান করবেন বলে আশা করি।কলেজ বন্ধ থাকায় বিকেলের এই সময়টা এখানে কাটাতে এলাম।খুব সুন্দর, মন জুড়িয়ে গেছে।

বাগানে ঘুরতে আসা পলাশ থানা সেনট্রাল কলেজের প্রভাষক সহিদুল হক সুমন বলেন,আমাদের পলাশ উপজেলায় এটিই প্রথম সূর্যমুখী বাগান। যা আগে কখনো এই অঞ্চলে দেখিনি। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। সময় পেলেই চলে আসি।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদির এস এ ছিদ্দিকি জানান, সূর্যমুখীর বীজের মাধ্যমে যে পরিশোধিত তৈল পাওয়া যায় তা স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর যার ফলে বাজারে এর চাহিদা প্রচুর রয়েছে। সূর্যমূখীর বীজ থেকে যে তৈল পাওয়া যায় তাতে মানব দেহের ক্ষতিকর কোন বিষয় থাকেনা। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানীকৃত তৈল যে শতভাগ বিশুদ্ধ তাও কিন্তু বলা যাচ্ছেনা। তাই শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে সূর্যমূখীর বীজ থেকে পাওয়া তৈল মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যকর। যার ফলে মানুষ কিন্তু এখন সয়াবিন তৈল থেকেও সরে আসছে। সরিষার তেলের পাশাপাশি সূর্যমূখীর তেলও ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এই তৈলটা পর্যাপ্ত পরিমানে না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষকে সরিষা বা সয়াবিন ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এছাড়া বর্তমানে এটাকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয় ভ্রমন পিপাষুরা। তবে এর চাষাবাদ নরসিংদীতে ব্যাপক না হলেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যমূখী বাগান করে ভোজ্য তেলের পাশাপাশি স্থানীয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ভ্রমন পিয়াষুদের আনন্দ দানের মাধ্যমে কৃষকের অতিরিক্ত অর্থ আয় হবে। এমনটাই মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীদের ভীড়, আয় ৭লাখ

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৩

নাসিম আজাদ।। নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় তৈলবীজ হিসেবে বপন করা সূর্যমুখী বাগান এখন হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্র।এরফলে একদিকে কৃষকরা তৈলবীজের পাশাপাশি বাগানে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও পাচ্ছেন বাড়তি আয়।এতে খুশি কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

দেশে আদর্শ মানের ভোজ্য তেল হিসেবে সূর্যমূখী বাগানের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি এটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা। আর কৃষকরাও সূর্যমূখী বাগান থেকে ভোজ্যতেলের পাশাপাশি বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও বারতি আয় হচ্ছে। আর নরসিংদীর চরসিন্দুরের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত সেতুর উত্তর পাশে বিশালাকার চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে সূর্যমুখী কর্ণার। এখানে প্রায় হাজার বিঘা চরের জমি বছরের একটি সময় পতিত পড়ে থাকে।

তাই এই জমিকে কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম নামে কৃষি বিভাগের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই এলাকায় গত বছর প্রথমবারের মতো ৫বিঘা জমিতে চাষ করেন সূর্যমূখীর। বর্তমানে যা ২০ বিঘারও উপরে। এই বাগানে ফুল ফোটার সাথে সাথেই আসতে শুরু করেছে দর্শনার্থী।

তাই বাগান রক্ষা ও দর্শনার্থীদের উপভোগের জন্য বাগানে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই সূর্যমূখী বাগান করে একদিকে কমপুজিতে বেশী লাভ, অপরদিকে বাগানগুলো বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হওয়ায় আসছে বাড়তি আয়। আর এই বাগান ঘুরতে এসে খুশি ভ্রমন পিপাষুরাও।

কৃষিবিদ মো: মাজহারুল হক জানান, তাঁর পরিবারের ৫জন সদস্য কৃষি বিভাগের সাথে জড়িত। তিনি দুই বছর হয় অবসরে এসেছেন। অবসরে এসেই দুই বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে নরসিংদীতে সূর্যমূখীর বাগান করেছেন। সেখানে তিনি বাগান করে সফলতাও পেয়েছেন। তাই গত বছর নিজ এলাকা পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরে এসে দেখেন শীতলক্ষ্যার পাড়ে গড়ে উঠা বিশালাকার চড় পতিত পড়ে আছে। তিনি এই জমিগুলো কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এখানে জমি ভাড়া নিয়ে প্রথমবার ৫বিঘা ও বর্তমানে ২০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন সূর্যমূখীর বাগান। বাগান থেকে তৈলবীজ সংগ্রহের আশায় গড়ে তোলা হলেও এখন স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সকল বয়সের নারী পুরুষ এখানে ঘুরতে ছুুটে আসেন দলবেধে।

বাগান ঘুরে নিজের মোবাইল দিয়ে ছবিও তুলেন দর্শনার্থীরা। এবার ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। তার মূল লক্ষ ছিল এই সূর্যমূখীর বাগান দেখে যেনো আগামীতে এই চরে সকলেই সূর্যমূখীর বাগান করে। প্রতিদিন ১হাজার থেকে ১২শত কোন কোন দিন এর চেয়ে বেশিও দর্শনার্থী আশে।টিকেটের মুল্য ২০ টাকা, এক মাসে আমার আয় হবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা।

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীদের ভীড়, আয় ৭লাখ

বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুরুতে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি ক্লাস চালু না হওয়ায় বাড়িতে এক ঘেয়েমি সময়টাকে পার করার জন্য এই সূর্যমূখীর বাগান ঘুরতে আসেন বলে জানান শিক্ষার্থী ও দর্শনাথীরা। তারা বাগান ঘুরে ছুবি তুলে কিছুটা হলেও আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারেন বলে জানান তারা।

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সুলতানপুরের ফয়জুল করিম পাঠান জানান, এই বাগান দেখে যেনো চরের অন্যান্য কৃষকরাও আগামীতে সূর্যমূখীর বাগান করবেন বলে আশা করি।কলেজ বন্ধ থাকায় বিকেলের এই সময়টা এখানে কাটাতে এলাম।খুব সুন্দর, মন জুড়িয়ে গেছে।

বাগানে ঘুরতে আসা পলাশ থানা সেনট্রাল কলেজের প্রভাষক সহিদুল হক সুমন বলেন,আমাদের পলাশ উপজেলায় এটিই প্রথম সূর্যমুখী বাগান। যা আগে কখনো এই অঞ্চলে দেখিনি। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। সময় পেলেই চলে আসি।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদির এস এ ছিদ্দিকি জানান, সূর্যমুখীর বীজের মাধ্যমে যে পরিশোধিত তৈল পাওয়া যায় তা স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর যার ফলে বাজারে এর চাহিদা প্রচুর রয়েছে। সূর্যমূখীর বীজ থেকে যে তৈল পাওয়া যায় তাতে মানব দেহের ক্ষতিকর কোন বিষয় থাকেনা। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানীকৃত তৈল যে শতভাগ বিশুদ্ধ তাও কিন্তু বলা যাচ্ছেনা। তাই শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে সূর্যমূখীর বীজ থেকে পাওয়া তৈল মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যকর। যার ফলে মানুষ কিন্তু এখন সয়াবিন তৈল থেকেও সরে আসছে। সরিষার তেলের পাশাপাশি সূর্যমূখীর তেলও ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এই তৈলটা পর্যাপ্ত পরিমানে না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষকে সরিষা বা সয়াবিন ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এছাড়া বর্তমানে এটাকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয় ভ্রমন পিপাষুরা। তবে এর চাষাবাদ নরসিংদীতে ব্যাপক না হলেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যমূখী বাগান করে ভোজ্য তেলের পাশাপাশি স্থানীয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ভ্রমন পিয়াষুদের আনন্দ দানের মাধ্যমে কৃষকের অতিরিক্ত অর্থ আয় হবে। এমনটাই মনে করছেন কৃষি বিভাগ।