ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ ব্রয়লার ও ডিমের বাজার অস্থির

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট.কম
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

তিনদিন আগেও যারা কিনেছেন ব্রয়লার মুরগি কিংবা ফার্মের ডিম, শুক্রবার সকালে বাজার এসে চমকে যেতে পারে তাদের পিলে। কারণ, এ সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম ৩০ টাকা ও ডিম ডজনে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা।

এখন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ থেকে বেড়ে ১৮০-১৮৫ টাকা হয়েছে। আর ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকা। যা আগে ছিল ১২৫ টাকা।

হুট করে ব্রয়লার ও ডিমের এ দামবৃদ্ধি অস্থিরতা তৈরি করেছে বাজারে। দোকানে দোকানে দাম নিয়ে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার বাগবিতণ্ডা। শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: যেকোনো মূল্যে খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে

শান্তিনগর বাজারে ডিমের দরদাম করছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দা নিয়ামত উল্লাহ্‌। নির্দিষ্ট দোকান থে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম কেনেন তিনি। এদিন সকালে ডিম কিনতে এসে তিনি জানতে পারেন দামবৃদ্ধির কথা। বিক্রেতা পরিচিত হলেও তিনি তাকে সাফ বলে দিলেন, ‘মগের মুল্লুক নাকি’!

নিয়ামত উল্লাহ্‌ প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, সোমবারও ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ টাকায় কিনেছি। এখন বলছে ১৮৫ টাকা। আশ্চর্য লাগছে। মাঝে তিনদিনে কীভাবে এতো বাড়ে। আমাদের জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।

শিমু আক্তার নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, ডিমের দাম এই বাড়ে তো, এই কমে। আগে ১১০ টাকায় এক ডজন ডিম পাওয়া যেতো। এরপর একবার ১৫০ টাকা হলো। তারপর কমে আবার ১২০ টাকায় নেমেছে। এখন আবার ডজনে ১৫ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। বাজার থেকে যদি এই দামে কিনতে হয়, পাড়া-মহল্লার দোকানে নিশ্চয়ই আরও বেশি দামে কিনতে হবে। আর কাল কী হবে সেটা কীভাবে বলবেন?

আরও পড়ুন: ইলিশ আসছে শনিবার, বাজারে উচ্ছ্বাস

কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও রামপুরা বাজার ঘুরেও ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিমের বাড়তি দামের তথ্য পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা সরবরাহের সংকট না থাকলেও আড়তে ডিমের দাম বাড়ছে বলে জানান।

কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সাকিল আহমেদ প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, হুট করে ডিমের দাম বেড়ে গেল। তিনদিন ধরে এ দামবৃদ্ধি। আজকে এক রকম তো কাল আরেক রকম। প্রতিদিন ডজনে ৫ টাকা করে বাড়তি কিনতে হচ্ছে। জানিনা এ দাম কোথায় ঠেঁকবে।

অন্যদিকে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান থেকে ডিম কিনলে গুনতে হচ্ছে তার চেয়ে কয়েক টাকা বেশি। কোথাও কোথাও ডিম ৫০ টাকা হালি বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফার্মের মুরগির সাদা ডিম একটু কমে, প্রতি হালি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারভেদে হাঁসের ডিমের হালি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩০০-৩২০ টাকা পর্যন্ত। এ সময়ের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সাইদুল আলম বলেন, মাঝে মুরগির দাম অনেক বেড়েছিল। তারপর আবার অনেকটা কমেছিলো। কিন্তু এখন আবার বাড়তির দিকে। তবে দাম বাড়ছে এবার অস্বাভাবিক হারে।

তিনি বলেন, কাঁচামালের দাম মাঝেমধ্যে হেরফের হয়। শীতের সময় ব্রয়লারের চাহিদা বাড়ে, সরবরাহ কমে যায়। তবে হুট করে কেন এমন হলো সেটা জানা নেই।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় খামারিদের সংগঠন পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি  বলেন, খামারেই ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। খামারে মুরগি ১৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম কয়েকদিনে বেড়েছে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: “ফসল সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী”

এ বিষয়ে সুমন হাওলাদার বলেন, আমাদের এ বাজারে করপোরেট কোম্পানিগুলোর শক্ত সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা ১০ দিনে ১০ টাকার বাচ্চা ৪৩ টাকা করেছে। গত বছরের আগস্টের পর থেকে দফায় দফায় ফিডের দাম বাড়িয়েছে। যার প্রভাবে টিকতে না পেরে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তারাই (করপোরেট কোম্পানি) বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের আগস্টের পর থেকে ফিড ও বাচ্চার অস্বাভাবিক বাজার নিয়ে আমরা বারবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যাচ্ছি। সরকারের উচ্চ মহলও এটি নিয়ন্ত্রণে একমাসের মধ্যে কৌশলপত্র তৈরি করতে বলেছে। কিন্তু সেটা তারা করেনি। দুমাসের বেশি সময় আমরা ঘুরছি। তাদের কোনো প্রকার আগ্রহ নেই। সেটা কেন জানি না।

তারপরও তিনদিনের ব্যবধানে এ অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন সাধারণ খামারিদের কাছে মুরগি নেই। যেগুলো আছে সেগুলো চড়া দামের ফিড খাওয়া। অন্যদিকে করপোরেট কোম্পানি সিন্ডিকেট করছে, তাদের কাছে মুরগি আছে। তারা দাম বাড়াচ্ছে। যখন খামারিদের মুরগি থাকে তখন তারা দাম দেয় না। মুরগি শেষ হলে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দেয়। এসব আমরা সরকারের বিভিন্ন মহলকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ /প্রতিদিনের পোস্ট

এই নিউজটি শেয়ার করুন

x

হঠাৎ ব্রয়লার ও ডিমের বাজার অস্থির

প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

তিনদিন আগেও যারা কিনেছেন ব্রয়লার মুরগি কিংবা ফার্মের ডিম, শুক্রবার সকালে বাজার এসে চমকে যেতে পারে তাদের পিলে। কারণ, এ সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম ৩০ টাকা ও ডিম ডজনে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা।

এখন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ থেকে বেড়ে ১৮০-১৮৫ টাকা হয়েছে। আর ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকা। যা আগে ছিল ১২৫ টাকা।

হুট করে ব্রয়লার ও ডিমের এ দামবৃদ্ধি অস্থিরতা তৈরি করেছে বাজারে। দোকানে দোকানে দাম নিয়ে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার বাগবিতণ্ডা। শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: যেকোনো মূল্যে খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে

শান্তিনগর বাজারে ডিমের দরদাম করছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দা নিয়ামত উল্লাহ্‌। নির্দিষ্ট দোকান থে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম কেনেন তিনি। এদিন সকালে ডিম কিনতে এসে তিনি জানতে পারেন দামবৃদ্ধির কথা। বিক্রেতা পরিচিত হলেও তিনি তাকে সাফ বলে দিলেন, ‘মগের মুল্লুক নাকি’!

নিয়ামত উল্লাহ্‌ প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, সোমবারও ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ টাকায় কিনেছি। এখন বলছে ১৮৫ টাকা। আশ্চর্য লাগছে। মাঝে তিনদিনে কীভাবে এতো বাড়ে। আমাদের জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।

শিমু আক্তার নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, ডিমের দাম এই বাড়ে তো, এই কমে। আগে ১১০ টাকায় এক ডজন ডিম পাওয়া যেতো। এরপর একবার ১৫০ টাকা হলো। তারপর কমে আবার ১২০ টাকায় নেমেছে। এখন আবার ডজনে ১৫ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। বাজার থেকে যদি এই দামে কিনতে হয়, পাড়া-মহল্লার দোকানে নিশ্চয়ই আরও বেশি দামে কিনতে হবে। আর কাল কী হবে সেটা কীভাবে বলবেন?

আরও পড়ুন: ইলিশ আসছে শনিবার, বাজারে উচ্ছ্বাস

কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও রামপুরা বাজার ঘুরেও ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিমের বাড়তি দামের তথ্য পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা সরবরাহের সংকট না থাকলেও আড়তে ডিমের দাম বাড়ছে বলে জানান।

কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সাকিল আহমেদ প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, হুট করে ডিমের দাম বেড়ে গেল। তিনদিন ধরে এ দামবৃদ্ধি। আজকে এক রকম তো কাল আরেক রকম। প্রতিদিন ডজনে ৫ টাকা করে বাড়তি কিনতে হচ্ছে। জানিনা এ দাম কোথায় ঠেঁকবে।

অন্যদিকে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান থেকে ডিম কিনলে গুনতে হচ্ছে তার চেয়ে কয়েক টাকা বেশি। কোথাও কোথাও ডিম ৫০ টাকা হালি বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফার্মের মুরগির সাদা ডিম একটু কমে, প্রতি হালি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারভেদে হাঁসের ডিমের হালি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩০০-৩২০ টাকা পর্যন্ত। এ সময়ের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সাইদুল আলম বলেন, মাঝে মুরগির দাম অনেক বেড়েছিল। তারপর আবার অনেকটা কমেছিলো। কিন্তু এখন আবার বাড়তির দিকে। তবে দাম বাড়ছে এবার অস্বাভাবিক হারে।

তিনি বলেন, কাঁচামালের দাম মাঝেমধ্যে হেরফের হয়। শীতের সময় ব্রয়লারের চাহিদা বাড়ে, সরবরাহ কমে যায়। তবে হুট করে কেন এমন হলো সেটা জানা নেই।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় খামারিদের সংগঠন পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি  বলেন, খামারেই ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। খামারে মুরগি ১৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম কয়েকদিনে বেড়েছে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: “ফসল সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী”

এ বিষয়ে সুমন হাওলাদার বলেন, আমাদের এ বাজারে করপোরেট কোম্পানিগুলোর শক্ত সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা ১০ দিনে ১০ টাকার বাচ্চা ৪৩ টাকা করেছে। গত বছরের আগস্টের পর থেকে দফায় দফায় ফিডের দাম বাড়িয়েছে। যার প্রভাবে টিকতে না পেরে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তারাই (করপোরেট কোম্পানি) বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের আগস্টের পর থেকে ফিড ও বাচ্চার অস্বাভাবিক বাজার নিয়ে আমরা বারবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যাচ্ছি। সরকারের উচ্চ মহলও এটি নিয়ন্ত্রণে একমাসের মধ্যে কৌশলপত্র তৈরি করতে বলেছে। কিন্তু সেটা তারা করেনি। দুমাসের বেশি সময় আমরা ঘুরছি। তাদের কোনো প্রকার আগ্রহ নেই। সেটা কেন জানি না।

তারপরও তিনদিনের ব্যবধানে এ অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন সাধারণ খামারিদের কাছে মুরগি নেই। যেগুলো আছে সেগুলো চড়া দামের ফিড খাওয়া। অন্যদিকে করপোরেট কোম্পানি সিন্ডিকেট করছে, তাদের কাছে মুরগি আছে। তারা দাম বাড়াচ্ছে। যখন খামারিদের মুরগি থাকে তখন তারা দাম দেয় না। মুরগি শেষ হলে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দেয়। এসব আমরা সরকারের বিভিন্ন মহলকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ /প্রতিদিনের পোস্ট