ঢাকা , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুরে গ্যাস সিলেন্ডার মজুদ জরিমানা ১ লাখ ৫০ হাজার কমলগঞ্জে প্রবাসীর অর্থায়নে ও এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঁচা সড়ক সংস্কার মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতা নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট সেবা দিচ্ছে থিমবিক্রয় ডটকম সংগঠনের জন্য ওয়েবসাইট সেবা দিচ্ছে থিমবিক্রয় ডটকম

নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি পেল জিআই স্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৬২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

৬৮

এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। মিষ্টিটি আকারে বালিশের মতো বড় নয়। তবে দেখতে অনেকটা বালিশের মতো এবং এর ওপরে ক্ষীরের প্রলেপ থাকাতে একটি আবরণীসমেত বালিশের মতো দেখা যায়। এই মিষ্টি গয়ানাথের বালিশ নামেও পরিচিত।

প্রায় ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এটি তৈরি করেন। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের আগে তৎকালীন কালীগঞ্জ শহরে এটি দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। স্বাদ, মান ও গুণে অতুলনীয় হওয়ায় মানুষ এখনো উদ্ভাবক গয়নাথ ঘোষের নামেই এই মিষ্টি চেনে।

গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’

বালিশ মিষ্টি বানাতে প্রয়োজন পড়ে দুধ, চিনি ও ছানা। দুধ থেকে তৈরি করা হয় ছানা, তারপর ছানা ও ময়দা দিয়ে মণ্ড তৈরি হয়, মণ্ড দিয়েই বানানো হয় বালিশ। সব শেষে চিনির রসে ভেজানো হয় এবং পরিবেশনের সময় দুধের ঘন মালাই প্রলেপ দেওয়া হয়।

স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বালিশ ২-৩ দিন ভালো থাকে। শীতকালে ভালো থাকে ৭-৮ দিন পর্যন্ত। বর্তমানে শীতকালে ১-২ দিন স্থায়ী হয়।

আকার অনুযায়ী বালিশের দাম সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা, সর্বনিম্ন ৩০ টাকা। এটি প্রথমে মাত্র ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হতো।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, ‘নেত্রকোনার নাম শুনলেই বালিশ মিষ্টি সবার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। আমরা সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। অনুমোদন হয়ে গেছে। অফিশিয়াল চিঠি পাওয়ার পর জিআই সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছি আমরা।’

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি পেল জিআই স্বীকৃতি

প্রকাশের সময় : ০৮:২০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৬৮

এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। মিষ্টিটি আকারে বালিশের মতো বড় নয়। তবে দেখতে অনেকটা বালিশের মতো এবং এর ওপরে ক্ষীরের প্রলেপ থাকাতে একটি আবরণীসমেত বালিশের মতো দেখা যায়। এই মিষ্টি গয়ানাথের বালিশ নামেও পরিচিত।

প্রায় ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এটি তৈরি করেন। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের আগে তৎকালীন কালীগঞ্জ শহরে এটি দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। স্বাদ, মান ও গুণে অতুলনীয় হওয়ায় মানুষ এখনো উদ্ভাবক গয়নাথ ঘোষের নামেই এই মিষ্টি চেনে।

গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’

বালিশ মিষ্টি বানাতে প্রয়োজন পড়ে দুধ, চিনি ও ছানা। দুধ থেকে তৈরি করা হয় ছানা, তারপর ছানা ও ময়দা দিয়ে মণ্ড তৈরি হয়, মণ্ড দিয়েই বানানো হয় বালিশ। সব শেষে চিনির রসে ভেজানো হয় এবং পরিবেশনের সময় দুধের ঘন মালাই প্রলেপ দেওয়া হয়।

স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বালিশ ২-৩ দিন ভালো থাকে। শীতকালে ভালো থাকে ৭-৮ দিন পর্যন্ত। বর্তমানে শীতকালে ১-২ দিন স্থায়ী হয়।

আকার অনুযায়ী বালিশের দাম সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা, সর্বনিম্ন ৩০ টাকা। এটি প্রথমে মাত্র ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হতো।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, ‘নেত্রকোনার নাম শুনলেই বালিশ মিষ্টি সবার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। আমরা সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। অনুমোদন হয়ে গেছে। অফিশিয়াল চিঠি পাওয়ার পর জিআই সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছি আমরা।’