ঢাকা , শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ৬০৩ টি বিদ্যালয়ে নেই “শহিদ মিনার”

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারে ৬০৩ টি বিদ্যালয়ে নেই”শহিদ মিনার”

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারে ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহিদ মিনার নেই। ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলেও জেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে নেই কোন শহিদ মিনার, এসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার না থাকায় কোমলমতি শিশুরা ভাষা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রের বরাতে জানা যায়, জেলায় ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৪৪৮টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার আছে এবং ৬০৩টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ে কৃত্রিমভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

যেসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই এসব এলাকার স্থানীয়রা জানান, শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলার বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার না থাকায় এ দিনটিতে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয় ভিন্নভাবে। অনেক বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে কলাগাছ ও বাঁশ-কাগজ দিয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করে তাতেই শ্রদ্ধা জানানো হয়। আবার কেউ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন।

জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। তবে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনেক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। কেউ অস্থায়ীভাবে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহিদ ও সংগ্রামীদের স্মরণ করেন।

বেসরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সজিব বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কোমলমতি শিশুদেরকে শুরু থেকেই ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজন। সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার স্থাপন করা খুবই প্রয়োজন।

কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে বলেন, আমার বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত পাইনি। ব্যক্তি উদ্যোগেও কেউ তৈরি করে দেননি। একটি শহিদ মিনার খুবই প্রয়োজন।

মৌলভীবাজার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। আমরা নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাবো প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য তা শহিদের বিষয়ে এবং ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরী।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারে ৬০৩ টি বিদ্যালয়ে নেই “শহিদ মিনার”

প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজারে ৬০৩ টি বিদ্যালয়ে নেই”শহিদ মিনার”

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারে ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহিদ মিনার নেই। ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলেও জেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে নেই কোন শহিদ মিনার, এসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার না থাকায় কোমলমতি শিশুরা ভাষা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রের বরাতে জানা যায়, জেলায় ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৪৪৮টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার আছে এবং ৬০৩টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ে কৃত্রিমভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

যেসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই এসব এলাকার স্থানীয়রা জানান, শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলার বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার না থাকায় এ দিনটিতে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয় ভিন্নভাবে। অনেক বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে কলাগাছ ও বাঁশ-কাগজ দিয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করে তাতেই শ্রদ্ধা জানানো হয়। আবার কেউ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন।

জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। তবে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনেক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। কেউ অস্থায়ীভাবে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহিদ ও সংগ্রামীদের স্মরণ করেন।

বেসরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সজিব বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কোমলমতি শিশুদেরকে শুরু থেকেই ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজন। সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার স্থাপন করা খুবই প্রয়োজন।

কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে বলেন, আমার বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত পাইনি। ব্যক্তি উদ্যোগেও কেউ তৈরি করে দেননি। একটি শহিদ মিনার খুবই প্রয়োজন।

মৌলভীবাজার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। আমরা নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাবো প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য তা শহিদের বিষয়ে এবং ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরী।