ঢাকা , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুরে গ্যাস সিলেন্ডার মজুদ জরিমানা ১ লাখ ৫০ হাজার কমলগঞ্জে প্রবাসীর অর্থায়নে ও এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঁচা সড়ক সংস্কার মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতা নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট সেবা দিচ্ছে থিমবিক্রয় ডটকম সংগঠনের জন্য ওয়েবসাইট সেবা দিচ্ছে থিমবিক্রয় ডটকম

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে লিখিত;মির্জা ফখরুল

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ৮৭ বার পড়া হয়েছে
১২৫

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে লিখিত;মির্জা ফখরুল

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের একটি অংশ সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ২৬ জন সদস্য স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সমন্বয়হীনতা, আর্থিক অনিয়ম এবং তৃণমূলের মতামত উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অনাস্থাপত্রটি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং মহাসচিবের দপ্তর থেকে তা গ্রহণ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূনকে আহ্বায়ক করে ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও শুরুতে কোনো সদস্য সচিব পদ রাখা হয়নি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম নাসের রহমানের অনুরোধে সদস্য সচিব পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং একজন সিনিয়র নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়। তবে পরে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির তুলনামূলক জুনিয়র নেতা আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের একটি অংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এ মনোনয়নের প্রতিবাদে জেলা সদরে মিছিল–সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয় এবং জেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আহ্বায়ক কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য শুরুতে তা বয়কট করেন।

সাম্প্রতিক আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সদস্য সচিবের কর্মকাণ্ডে দলীয় ঐক্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব কারণে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অনাস্থাপত্রের সঙ্গে বেশ কয়েকটি আলোকচিত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী নেতারা দাবি করেছেন, এসব ছবিতে আব্দুর রহিম রিপনকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ নেতা–মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানসহ একাধিক নেতার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এসব ছবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তারা অনাস্থা আবেদনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের শেষদিকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছেও আরেকটি আবেদন দেওয়া হয়েছিল। ওই আবেদনে আব্দুর রহিম রিপনের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন বিতর্কের কথা উল্লেখ করে তাকে সদস্য সচিব পদে নিয়োগ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ও ওয়াটসসাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে রয়েগেছেন।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে লিখিত;মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
১২৫

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে লিখিত;মির্জা ফখরুল

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের একটি অংশ সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ২৬ জন সদস্য স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সমন্বয়হীনতা, আর্থিক অনিয়ম এবং তৃণমূলের মতামত উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অনাস্থাপত্রটি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং মহাসচিবের দপ্তর থেকে তা গ্রহণ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূনকে আহ্বায়ক করে ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও শুরুতে কোনো সদস্য সচিব পদ রাখা হয়নি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম নাসের রহমানের অনুরোধে সদস্য সচিব পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং একজন সিনিয়র নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়। তবে পরে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির তুলনামূলক জুনিয়র নেতা আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের একটি অংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এ মনোনয়নের প্রতিবাদে জেলা সদরে মিছিল–সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয় এবং জেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আহ্বায়ক কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য শুরুতে তা বয়কট করেন।

সাম্প্রতিক আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সদস্য সচিবের কর্মকাণ্ডে দলীয় ঐক্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব কারণে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অনাস্থাপত্রের সঙ্গে বেশ কয়েকটি আলোকচিত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী নেতারা দাবি করেছেন, এসব ছবিতে আব্দুর রহিম রিপনকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ নেতা–মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানসহ একাধিক নেতার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এসব ছবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তারা অনাস্থা আবেদনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের শেষদিকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছেও আরেকটি আবেদন দেওয়া হয়েছিল। ওই আবেদনে আব্দুর রহিম রিপনের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন বিতর্কের কথা উল্লেখ করে তাকে সদস্য সচিব পদে নিয়োগ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ও ওয়াটসসাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে রয়েগেছেন।