দৈনিক সময়ের আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক সাব্বির আহমেদ দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় মহাখালীর তিতুমীর কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাব্বির আহমেদ এবং ঘটনাস্থলে থাকা তার বন্ধুদের অভিযোগ, তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মদদে কতিপয় উশৃংখল সদস্যের হামলার শিকার হয়েছেন। আহত সাব্বিরকে মহাখালীর লাইফ লাইন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সাব্বিরের উপর হামলার ঘটনার খবর জেনে হাসপাতালে ছুটে যান দৈনিক সময়ের আলোর সহকর্মীরা, তার বন্ধুবান্ধব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন।
এ রিপোর্ট লেখাকালে আহত সাব্বিরকে দেখতে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন দৈনিক সময়ের আলোর হেড অব নিউজ আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন সহকর্মী।
আহত সাব্বিরের বরাত দিয়ে সময়ের আলোর হেড অব নিউজ আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার তিতুমীর কলেজের ২০-৫০ জন সাবেক শিক্ষার্থীসহ একসঙ্গে ইফতার আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন সাব্বির আহমেদ। ইফতার শেষ করে তিতুমীর কলেজের হলের পাশের গেট দিয়ে বেরিয়ে মূল রাস্তায় উঠতেই হকস্টিক বা রড জাতীয় কিছু নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সাব্বিরকে আহত করে সেখান থেকে দ্রুত সটকে পড়ে। এরপর খবর পেয়ে বন্ধুরা এসে সাব্বিরকে উদ্ধার করে মহাখালীর লাইফ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করে।
সাব্বিরের অভিযোগ, তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের নেতা এস এম ইমরুল রুদ্রর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তার উপর এই হামলা চালায়। ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক জুয়েল সাংবাদিক সাব্বিরের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। সাব্বির তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি।
সাব্বিরের বন্ধুরা জানান, সন্ত্রাসীরা সাব্বিরকে বেদম মারধরের পর তার পকেটে থাকা মানিব্যাগ, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মানিব্যাগে ৭ হাজার টাকা, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ছিল।
বনানী থানার ওসি কাজী সাহান হক বলেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে সময়ের আলো পরিবারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
হামলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে অবগত করা হলে তারা বলেন, যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের তিতুমীর কলেজ সভাপতি রিপন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে বলেন, তিনি এ বিষেয়ে কিছুই জানেন না। কে বা কারা হামলা করেছে সে সম্পর্কে তিনি জানেন না।