বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সহযোগিতা পরিধি ও গভীরতা—উভয় দিক থেকেই বৃদ্ধি পেয়ে দেশ দুটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
এছাড়া গত ৩৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। তিনি বলেন, এই নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তার শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে বাংলাদেশ স্থায়ী শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বর্তমান চিত্র
মালদ্বীপে বর্তমানে লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত আছেন — সরকারি হিসাবে বৈধভাবে নিবন্ধিত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখের বেশি, তবে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী অনিয়মিতসহ মোট সংখ্যা ২ লাখের কাছাকাছি বলেও ধারণা করা হয়। মাত্র ৫ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ মালদ্বীপে এত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির উপস্থিতি দুই দেশের শ্রমবাজার সম্পর্কের গভীরতাই প্রমাণ করে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রী আলী ইহুসান জানিয়েছেন, শ্রমের বিদ্যমান ও প্রত্যাশিত চাহিদার কারণে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বর্তমান সীমা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মালদ্বীপ সরকার। বর্তমান আইন অনুযায়ী দেশটিতে সর্বোচ্চ এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক আনার সীমা রয়েছে, যা শিথিল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর ঘোষিত এই সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মপরিবেশ, মজুরি নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা আরও উন্নত করার উদ্যোগ এগিয়ে নেবে দেশটির সরকার।
ব্যাংকিং চ্যানেল: এখনো প্রতীক্ষার প্রহর
রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে মালদ্বীপ প্রবাসীদের জন্য এখনো পুরোপুরি সহজ ও সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেল চালু হয়নি — এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ব্যাংক অব মালদ্বীপের (বিএমএল) মধ্যে বৈঠকে মালদ্বীপি মুদ্রা রুফিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর ও স্থানান্তরের একটি সহজ রেমিট্যান্স উইন্ডো চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, (Bangladesh Sangbad Sangstha) যদিও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আংশিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রবাসীদের বড় অংশ এখনো ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মালে’তে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশি প্রবাসী বলেন, “আমরা চাই সরাসরি একটা সহজ ব্যাংকিং সিস্টেম থাকুক, যাতে কষ্টের টাকা কম খরচে ও দ্রুত দেশে পাঠাতে পারি। এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুবিধাজনক ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় অনেককে বিকল্প পথ খুঁজতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। আশা করি দুই সরকারের নতুন এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান হবে।”
প্রবাসী কল্যাণ বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সরকারের মধ্যকার এই ধরনের কূটনৈতিক উষ্ণতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল প্রতিষ্ঠা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা—এই তিন ক্ষেত্রেই বাস্তব অগ্রগতি আশা করা যায়।