রাত তখন প্রায় ১০টা। চারপাশে আতঙ্ক আর চিৎকার। কী করা উচিত সেটি ভাবারও সময় পাননি সেখানে থাকা পুলিশ সদস্য অমিত হাসান। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে মুহূর্তেই নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। সাঁতরে গিয়ে উদ্ধার করেন আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই তরুণীকে।
এই সাহসিকতা ও মানবিকতার জন্য এখন প্রশংসায় ভাসছেন নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের কৃতী সন্তান অমিত হাসান। সে বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে কর্মরত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার শেখ হাসিনা সড়কের প্রথম ব্রিজে ঘটে ঘটনাটি।
জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগৎসার গ্রামের ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরিবারের সঙ্গে শিমরাইল কান্দি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি। পারিবারিক নানা কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কনস্টেবল অমিত হাসান বলেন, চাকরি জীবনে এটি আমার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোর একটি। আমরা চার বন্ধু মিলে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, একজন নারী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা চিৎকার করে স্থানীয়দের তাকে বাঁচানোর জন্য বলি। কিন্তু অনেক মানুষ জড়ো হলেও কেউ পানিতে নামছিলেন না। তখন আর একমুহূর্ত দেরি করার সুযোগ ছিল না। নিজের জীবনের কথা না ভেবে প্রায় ৪০ হাত ওপর থেকে নদীতে ঝাঁপ দিই। সাঁতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আল্লাহর রহমতে তাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পেরেছি।
অমিত আরও বলেন, একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। এমন একটি মহৎ কাজের অংশ হতে পেরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। এ কাজে আমার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের সহযোগিতার জন্য আমি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ওই তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পুলিশ সদস্য অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য হিসেবে বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার দায়িত্বের অংশ হলেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল নিঃসন্দেহে সাহসিকতার। তার এই মানবিক ভূমিকা শুধু পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধাই বাড়ায়নি, বরং বিপদের মুহূর্তে মানবিকতার শক্তিও নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে।
হাতিয়ার সন্তান অমিত হাসানের এই সাহসিকতার গল্প এখন ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মুখে মুখে। প্রশংসা করছেন সহকর্মী, স্থানীয় মানুষ এবং ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যরাও।