জমি নিয়ে বিরোধ। এরপর হামলা, হুমকি আর গুজব ছড়িয়ে লোকজন জড়ো করার অভিযোগ।
‎রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকায় একটি জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। তাঁদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি দখলে নিতে প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে একাধিকবার হামলার পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সর্বশেষ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে অতর্কিত হামলায় নারী-পুরুষসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‎রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা ও গুজব ছড়িয়ে মব তৈরির অভিযোগ উঠেছে শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’ এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।


‎ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে দুবাইপ্রবাসী নওশের আলম সুমনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মহাদেবপুর পশ্চিমপাড়ায় মসজিদ নির্মাণের জন্য কেনা জমি দখলের চেষ্টা এবং এ বিরোধকে কেন্দ্র করে নওশের আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে।

‎পরিবারটির দাবি, গত বছরের ২২ জুন পাগলাপীরের আলোয়াকুড়ি এলাকায় নওশের আলম সুমনের ওপর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এর পাঁচ দিন পর ২৭ জুন রাতে গুজব ছড়িয়ে তাঁর বাড়িতে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। ওই সময় পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁদের। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

‎ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জমি-সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে যাওয়ার পরও মসজিদের জন্য কেনা জমির পাশের অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।

‎এদিকে শাহিনুর বেগমের বোনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি গাঁজাসহ র‌্যাব-৯ গ্রেপ্তার করেছিল বলে দাবি করেছে পরিবারটি। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান জমি বিরোধের কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা প্রতিবেদকের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে নওশের আলম সুমনের স্ত্রী রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে লোকজন জড়ো করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।

‎এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা, হামলার ঘটনা এবং মব তৈরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহিনুর বেগম, রায়হান খান ও সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।