পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের পুরাতন বাজার হাসপাতাল গেটসংলগ্ন দুটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে অভিনব কায়দায় ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মানতাশা ফার্মেসিকে ৩০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে মতিন ফার্মেসিকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী। এ সময় পাবনা জেলা ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা মিঠুন সাহা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, মানতাশা ফার্মেসিতে একটি ওষুধের বক্সের গায়ে অন্য ওষুধের লেবেল লাগিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল। এছাড়া সেখানে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধও পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড করা হয়।
অন্যদিকে, মতিন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ওষুধ ব্যবসায় এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। একটি ওষুধের বক্সে অন্য ওষুধের লেবেল লাগিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে ওই ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ পাওয়া গেছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাবনা জেলা ড্রাগ সুপার মিঠুন সাহা বলেন, ওষুধ ব্যবসায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এমনকি ভুল ওষুধ ব্যবহারে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযানে চাটমোহর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, চাটমোহর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলালুর রহমান জুয়েল, জেলা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন।