‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে তাসফিয়া আক্তার শাপলা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উরখুলিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া আক্তার শাপলার সঙ্গে পাশের মনিপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে হৃদয়ের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। পরে হৃদয় মিয়া জীবিকার উদ্দেশ্যে বিদেশে চলে যান। এ সময় শাপলা বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।

‎এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শাপলা বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে বিয়ের আগের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বামী ও দেবর ফোনে বিভিন্নভাবে দুর্ব্যবহার ও মানসিকভাবে হয়রানি করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথাবার্তাও বলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট শাপলা স্বামীর বাড়িতে গেলে তাঁর দেবর সত্তর মিয়াসহ কয়েকজন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং লোকজনের সামনে অপমান ও হেয় করেন। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশে থাকা স্বামী ফোনে তাঁকে মানসিকভাবে চাপ দেন এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো কথা বলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

‎এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, শাপলার দেবর সত্তর মিয়া ও ৩ নং আসামি আব্দুল গফুর ও ৪ নং আসামি নোয়াব মিয়া শাপলাকে দুশ্চরিত্রা,নষ্টা আখ্যায়িত করে হাতে কেরির বড়ি গোজে দেন। রাগ ক্ষোভ ঘৃনায় শাপলা রাস্তায় বেড়িয়ে কেরির বড়ি খেয়ে ফেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাপলা তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে জানান বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

‎নিহতের বাবা শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, আসামিদের অপমান, মানসিক নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণেই তাঁর মেয়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদুল আলম বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার ঘটনায় কাজ করছি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।