পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি মো. আখিনুরকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আখিনুর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার মো. বুলেটের ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত আখিনুর একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৭ মে রাতে বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই কিশোরীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় তিনি ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারে পরিবার।

পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে কিশোরী আখিনুরের সঙ্গে জোরপূর্বক মেলামেশার বিষয়টি জানায়। স্থানীয়ভাবে ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, তার বাবা ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ এবং মা প্রতিবন্ধী। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আখিনুর ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পর আসামির পরিবারের লোকজন তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তবে আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি দাবি করেন, আখিনুরের জন্ম ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ১৪ বছর ৭ মাস। অথচ মামলার এজাহারে বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদরাসাটির সুপার হাবিবুর জানান, আখিনুর তাদের মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপর সে অনেকদিন মাদরাসায় আসেনি। ভুক্তভোগী কিশোরীও ওই মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানান তিনি।

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পর কিশোরীর জবানবন্দি শোনা হয়েছে। পরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।