নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ফের ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে ২১ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে সুমাইয়া (১৪), রিহান (১২), সাকিব (১২), ছায়েম (১৩), আরক দেবী (১৪), আরাফাত হোসেন (১৪), লাইজু (১৩) ও ঐশী (১৩), ফরিদা আক্তার (১৩) সহ আরো অনেকে রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বিমান চন্দ্র আশ্চার্য বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ২১ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসা একজন অভিভাবক ও হাসপাতালের একজন স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না, তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তবে এর সঙ্গে পরিবেশগত বা মানসিক কোনো বিষয় থাকতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও আড্ডা বেড়ে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের আশপাশে মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয় এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর আমি হাসপাতালে এসেছি। বিষয়টি বারবার কেন ঘটছে, তা চিকিৎসাবিষয়ক তদন্তের পাশাপাশি এখানে ফৌজদারি কোনো অপরাধ আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।