মা নেই। তিন মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন আয়েশা বেগম। মায়ের শূন্যতা বুঝে ওঠার আগেই পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল তার তিন বছরের সন্তান আব্দুর রহমানের। স্ত্রীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোট ছেলেকে হারিয়ে পাথর হয়ে গেছেন বাবা আব্দুল কাদের। একসঙ্গে দুই মৃত্যুতে যেন নিভে গেল একটি পরিবারের হাসি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সকদিরামপুর গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে । নিহত আব্দুর রহমান ওই গ্রামের বাসিন্দা ও সরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল কাদেরের ছেলে। তার মা আয়েশা বেগমও গোবারচিত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
স্বজনেরা জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে আব্দুর রহমান ছিল সবার ছোট। মায়ের মৃত্যুর পর বাড়িতে তাকে দেখাশোনার মতো কেউ ছিল না। তাই বাবার কর্মস্থলই হয়ে উঠেছিল আপন ঠিকানা। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও বাবার সঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল ছোট্ট আব্দুর রহমান। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবার অজান্তে সে পড়ে যায় পাশের পুকুরে।
পরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় বাবার পৃথিবী। যে সন্তানকে মায়ের মমতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর নিজের বুকের কাছে আগলে রাখছিলেন, সেই সন্তানই আজ তাকে ছেড়ে চলে গেল।
মাত্র তিন মাস আগে স্ত্রী আয়েশা বেগমকে হারিয়েছেন আব্দুল কাদের। সেই শোক এখনো তার হৃদয়ে তাজা। স্ত্রীর স্মৃতি আর ছোট ছেলেকে ঘিরে বেঁচে থাকার যে সামান্য আশাটুকু ছিল, মর্মান্তিক এই ঘটনায় তাও যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
আব্দুর রহমানের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মায়ের কবরের মাটি শুকানোর আগেই সন্তানের নিথর দেহ, এমন নির্মম বাস্তবতা কোনো বাবার জীবনে নেমে আসুক, তা কেউই চায় না।