কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলের অনুমতি পেলে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভেড়ামারায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, উনি একজন সংসদ সদস্য এবং আমিও একজন সংসদ সদস্য। প্রত্যেকেরই মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। একজন নারীকে সম্মান দিয়ে কথা বলা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ভদ্রতা ও আচরণের অংশ। এর বাইরে আমরা যেতে পারি না।

জনপ্রতিনিধিদের আচরণের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধিদের আচার-আচরণের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অথচ কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা তাকে ও তার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে অত্যন্ত অপ্রীতিকর মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিরোধী ও সরকারি দল মিলেমিশে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি একজন বয়স্ক নারী। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংরক্ষিত আসনের ৩৭ জন নারীকে। জেনেশুনেও উনি কেন এ ধরনের কটূক্তি করার স্পর্ধা দেখান? সবাইকে সম্মান করতে হবে।

নিজ দলের ওপর ঘটনার বিচারভার ছেড়ে দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তাকে ও তার দলের নেতৃত্বকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করার উপযুক্ত বিচার দাবি করছেন তিনি। দলের অনুমতি পেলে এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মানহানির মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যায় ভেড়ামারা উপজেলাতেও ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলায় একটি সভায় দেওয়া মুফতি আমির হামজার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই বক্তব্যে তিনি কুষ্টিয়ার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে উদ্দেশ করে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক গুরুত্ব নেই এবং তারা সরাসরি কোনো ভোট পাননি।

তিনি আরও বলেন, আমি ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোট পেয়েছি। আর আপনার তো কোনো ভোট নেই। আপনাকে দায়িত্ব দিলেও সাংবিধানিকভাবে কোনো গুরুত্ব নেই, কোনো সিস্টেম নেই রাষ্ট্রের। এছাড়া ফরিদা ইয়াসমিনকে উদ্দেশ করে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করারও অভিযোগ রয়েছে।

ওই বক্তব্যে কুষ্টিয়ার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন মুফতি আমির হামজা। তিনি দাবি করেন, ডিসি কার্যালয়ে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পাশ কাটিয়ে বিশেষ কোনো পক্ষকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের পছন্দের মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে নিয়ে এলাকা পরিচালনার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, মুফতি আমির হামজা দাবি করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।