ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা। অভিনয়ে এখন অনেকটাই বিরতিতে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের ভাবনা ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় ভাগ করে নেন ভক্তদের সঙ্গে। এবার সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তা দীর্ঘস্থায়ী করার উপায় নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানালেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বর্ষা লিখেছেন, কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সেখানে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে সেই বিনিয়োগকে শুধু অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চান না তিনি। বর্ষার ভাষ্য, সম্পর্কের প্রকৃত বিনিয়োগ হলো সময়, যত্ন, ব্যবহার এবং আন্তরিকতা।

তিনি লিখেছেন, ‘যেকোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে সেই সম্পর্কে ইনভেস্ট করতে হবে। আর এই ইনভেস্টমেন্ট বলতে শুধু টাকা-পয়সা বোঝায় না।’ জীবনের প্রয়োজন মেটাতে অর্থ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটিই সবচেয়ে বড় বিষয় নয় বলে মনে করেন বর্ষা।

তাঁর মতে, প্রিয় মানুষটির জন্য সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং ভালো ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিজের পারিবারিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করাও সম্পর্ককে গভীর করে। বর্ষা মনে করেন, কোনো মানুষকে যদি সত্যিই জীবনের দীর্ঘ পথের সঙ্গী হিসেবে দেখতে হয়, তাহলে তাকে শুধু নিজের জীবনের নয়, পরিবারেরও অংশ করে নেওয়া প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের সঙ্গে যখন পরিবারের সামাজিকতা, সম্মান, মায়া, দায়বদ্ধতা ও আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন সেই বন্ধন আর কেবল দুজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্য মানুষগুলোর কথাও ভাবতে হয়।’

বর্ষার পরামর্শ, পছন্দের মানুষটিকে পরিবারের বড়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পারিবারিকভাবে আপন করে নেওয়া উচিত। কারণ একটি সম্পর্ক যত বেশি পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত হয়, ততই সেখানে মায়া, সম্মান ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয় বলে মনে করেন তিনি।

দাম্পত্য জীবনে এক যুগেরও বেশি সময় পার করেছেন বর্ষা ও চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। ২০১১ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে পথ চলার কারণে শোবিজে তাদের দাম্পত্য প্রায়ই আলোচনায় এসেছে। গত বছর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন বর্ষা। এরপর নতুন কোনো কাজে তাকে দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্পর্ক নিয়ে নিজের বক্তব্যের শেষাংশে বর্ষা স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন সময়, যত্ন, সম্মান, সুন্দর ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং পারিবারিক বন্ধনের সমন্বয়।