নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || নারায়ণগঞ্জের সমাবেশ দিয়ে জবাব দিতে চায় আ.লীগ|
জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েত ঘটানোর প্রস্তুতি চলছে নারায়ণগঞ্জে। দলটির লক্ষ্য, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে বিএনপির যে সমাবেশ হয়েছে এবং আজ খুলনায় যে সমাবেশ হবে, এগুলোর চেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটানো হবে এ সম্মেলনে।
এটাকে স্মরণকালের সেরা সম্মেলন হিসেবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। ফলে সম্মেলনটি কেবল কমিটি গঠনের লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বিশাল গণজমায়েতের মধ্য দিয়ে বিএনপির সাম্প্রতিককালের বড় গণসমাবেশগুলোর জবাবও দিতে চায় আওয়ামী লীগ।
আগামীকাল রবিবার হবে এই সম্মেলন। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ইসদাইর এলাকায় ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে বানানো হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
সম্মেলন সফল করার জন্য ইতোমধ্যে সাজসজ্জা থেকে শুরু করে ব্যাপক প্রচার-প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সম্মেলনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলাব্যাপী
চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর দুই দিন পর ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার হবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দুটি সম্মেলন ঘিরে জেলা ও মাহনগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে কারা আসছেন- এ নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। সম্মেলনকে ঘিরে আছে উৎসাহ ও উদ্দীপনাও।
নারায়নগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তির জের ধরে নানা সময়ে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এবারের সম্মেলনে সেই বিভাজনের ছাপ দেখা গেলে সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য।
সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিএনপির মহাসমাবেশের চেয়ে আমাদের যে কোনো জেলা সম্মেলনেই বেশি লোক হয়। এ জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্মেলন দেখার জন্য বিএনপি নেতাদের আহ্বান জানাই। তারা তো মহাসমাবেশের নামে কিছু মানুষের সমাবেশ ঘটিয়েই আনন্দে আত্মহারা। এ নিয়ে তারা অনেক স্বপ্নও দেখছেন। কিন্তু মানুষের দল আওয়ামী লীগ। এই দলের জেলা সম্মেলনে কী পরিমাণ মানুষ হয়, তা দেখার পরই যেন তাদের আশা-উচ্চাশার কথা বলেন।’
নতুন কমিটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা : এদিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কমিটি গঠন নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। সম্ভাব্য কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আলোচনায় আছেন নারায়ণগঞ্জের হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দ। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। তাদের মধ্যে শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুকে নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের আরও অনেক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। তবে শামীম ওসমানের সমর্থক অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, জেলার চাইতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাদায়ন করা হোক তাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফতুল্লা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, এতদিন পর আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে শামীম ওসমানকে নিয়ে আলোচনা হবে কেন? তাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হোক। তিনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে হাল ধরেছেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে সব সময় সুসংগঠিত রেখেছেন। এ ছাড়া তারা পরিবারের সব সদস্যই আওয়ামী লীগের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করে গেছেন। তাই তাকে জেলার চেয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্র্ভুক্তি এখন সময়ের দাবি।
জেলার তৃণমূলের নেতারা মনে করেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবিলায় আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরীক্ষিত, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতাদের হাতে যাক এমনটাই চাওয়া তাদের। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল। তাদের পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন অনেকে। আর পরিবর্তন ঘটলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। এক্ষেত্রে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি করা হতে পারে।
সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, স্মরণকালে অন্যতম সফল সম্মেলন হবে এটি।’ তিনি বলেন, তৃণমূল হলো দলের অক্সিজেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান- ত্যাগীদের যেন মূল্যায়ন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি শেষ। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশার প্রতিফলন ঘটবে।’ খোকন সাহা বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের প্রস্তুতিমূলক সভা হচ্ছে। কর্মীদের মাঝে প্রাণোচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।’
কেন্দ্রীয় সূত্র বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজপথের কঠিন সময়কে সামনে রেখে এবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এবং ২০১৬ সালে জেলা কমিটি করা হয়
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট