নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || আওয়ামী লীগের আচরণ অগণতান্ত্রিক:নজরুল ইসলাম|
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ চাইলে জনসভা করবে, আমরা করতে চাইলে বাধা দেবে। এটা হতে হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এটি গ্রহণযোগ্য না। আওয়ামী লীগের এ আচরণ অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী। আমরা এর নিন্দা জানাই। তারা আমাদের সহকর্মীদের যে অবর্ণনীয় কষ্ট দিলেন সেজন্য তাদের অভিযুক্ত করছি।
রাজশাহীতে ৩ ডিসেম্বর শনিবার গণসমাবেশ করে বিএনপি। এ উপলক্ষে রোববার বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
গণসমাবেশে সহযোগিতা করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রাজশাহীতে কোনো ধর্মঘট হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ধর্মঘট ছিল। বিএনপির গণসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হলেই তিন দিন আগে থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। আর আমাদের সমাবেশ শেষ হওয়ামাত্র কোনো আলোচনা এবং দাবি আদায় ছাড়াই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি বলেন, বাস বন্ধের কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা নৌকায় আসার চেষ্টা করলে নৌকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষ সাঁতরে নদী পার হয়ে জনসভায় এসেছেন। বাস বন্ধ, মানুষ ভ্যানে করে এসেছেন। ভ্যান বন্ধ করা হয়েছে, নেতাকর্মীরা সাইকেলে ও মোটরসাইকেলে এসেছেন। মানুষ হেঁটে এসেছেন। মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। কিন্তু গণসমাবেশ বন্ধ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বেগম খালেদা জিয়াকে কষ্ট দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করবেন। সরকারের নির্যাতন আর অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ঠ। অচিরেই নির্যাতনকারী এ সরকারের পতন ঘটবে।
মতাবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। রাস্তায় মিছিল ও মিটিং করেছি। কিন্তু ডিসি-এসপির কাছে পারমিশন নিইনি। আমরা পথসভা করেছি। ডিসি-এসপির পারমিশন লাগেনি। কিন্তু এখন পরাধীনের চাইতেও বেশি পরাধীন হয়ে আছি আমরা। এখন যা করতে যাব, সবই ডিসি-এসপির পারমিশন লাগবে। উনারা মালিক, আর আমরা প্রজা হয়ে গেছি। এই রকম একটা অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি।
তিনি বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে আমরা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের কথা বলেছি। উনারা (আওয়ামী লীগ) তো একদলীয় শাসন গ্রহণ করেছিলেন। ওই বাকশাল নামটা নাই, কিন্তু বাকশালের চেয়েও এখন অবস্থা আরও খারাপ। আজকে পুলিশ-প্রশাসনকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেকটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গণসমাবেশের আগে তিন দিন আমাদের কর্মীরা অনেক কষ্ট করেছেন। এটা প্রমাণ করে বিএনপির কর্মীরা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন। এখানে কিন্তু বিএনপির খালি কর্মীরা আসেননি, সাধারণ মানুষও এসেছেন। কেন এসেছেন? আজকে বাংলাদেশের যে অবস্থা। ব্যাংক হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। সেই জায়গা থেকে সব খালি হয়ে গেছে। আমাদের গণতন্ত্র নাই, যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম।
মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেদ, ওবায়দুর রহমান চন্দন। এছাড়া রাজশাহীতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা মতবিনিময়ে অংশ নেন।
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট