২৭ দিন লড়াইয়ের পর শিশু হুজাইফার মৃত্যু, এলাকায় শোক
- প্রকাশের সময় : ০১:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনান (১২) দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হুজাইফার চাচা শওকত আলী জানান, সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ পরিবারের কাছে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি সবার কাছে হুজাইফার জন্য দোয়া কামনা করেন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা আফনান। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে ১৩ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মস্তিষ্কে প্রবেশ করা গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
চিকিৎসকরা জানান, ঝুঁকির কারণে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে শিশুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এবং ছোড়া গুলি এসে পড়ছে বসতবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।
হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।




















