ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরে নাসের রহমানের ডিও গ্ৰামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত আহত শ্রীমঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযানে ৫জন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

শুরু হয়েছে সুমিষ্ট খেজুরের রস আহরণের মহোৎসব

খন্দকার মো. আলমগীর হোসেন
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ২৮২ বার পড়া হয়েছে
৭০

শীতকালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেজুরের রস। শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে খেজুরের রস পানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় এই রস দিয়ে বানানো গুড়-পাটালির পিঠা-পায়েস। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দেশের দক্ষিণ- পূর্বাঅঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। শীতের আগমনে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছিদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
Khandakar IT Ad

নবীনগর উপজেলার বিটঘর এবং টিয়ারা গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি খেজুরগাছ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য নলি তৈরির কাজ করতে দেখা যায় কয়েকজন গাছিকে।

গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতের শুরুতে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের জন্য কাটার কাজ শুরু হয়। এভাবে কয়েক দিন রেখে দেওয়া হয়। ১০ থেকে ১৫ দিন পর কাটা অংশে চোখ বা নলি তৈরি করা হয়। এই নলি দিয়ে রস ঝোলানো মাটির হাঁড়িতে গিয়ে পড়ে। যেদিন হাঁড়ি ঝোলানো হয়, পরের দিন সকালে গিয়ে রসসহ হাঁড়ি নামিয়ে আনেন গাছিরা।

এই গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকার অনেক লোকজন গাছতলা থেকেই পানের জন্য রস খেয়ে যান এবং সাথে করে কিনে নিয়ে যান।

গাছি মোঃ সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, ‘কিছুদিন হলো খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছি। শুরুর দিকে হওয়ায় এখন রস পড়ছে কম। শীত একটু জেঁকে বসলে রস ভালো পড়বে। তখন রস মিষ্টিও হবে বেশি।’ আমাদের এখানে কয়েক ধাপে সেফটিও রাখা হয়েছে।

নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের গাছি সাইদুল ইসলাম ও তাঁর ভাই আল আমিন এবার ২০ থেকে ২২টি খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করবেন। এবং এতে ৭০ থেকে ৮০ লিটার রস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার বাবার আমল থেকেই দেখে আসছি শীতকাল এলেই খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে। এখন আমরা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করি।

নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামের আরেক চাষি কাউছার মিয়া এবার ৫ থেকে ৭টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবেন। তিনি প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, আগের মতো তাঁদের এলাকায় খেজুরগাছ পাওয়া যায় না। অনেক মালিক গাছ কেটে ফেলেছেন। তবে সেই পরিমাণ নতুন করে গাছ লাগানো হয়নি। শীতের সময় রস পাওয়া ছাড়া গাছগুলো থেকে তেমন কিছু হয় না। এ কারণে অনেকে খেজুরগাছ রাখেন না। আবার অনেকে গাছ কেটে মাটির বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করেন। তাঁরা বলেন, মানুষের এত পরিমাণের চাহিদা সে অনুযায়ী আমরা রস দিতে পারি না। রাত হলে কয়েকটি গাছ থেকে রস চুরি হয়ে যায়। সকালে বিভিন্ন দূর এলাকা থেকে রস খাওয়ার জন্য ভিড় করে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে। এরজন্য বাড়িতে আরো বেশ কিছু খেজুরের চারা লাগিয়েছি।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

শুরু হয়েছে সুমিষ্ট খেজুরের রস আহরণের মহোৎসব

প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪
৭০

শীতকালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেজুরের রস। শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে খেজুরের রস পানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় এই রস দিয়ে বানানো গুড়-পাটালির পিঠা-পায়েস। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দেশের দক্ষিণ- পূর্বাঅঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। শীতের আগমনে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছিদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
Khandakar IT Ad

নবীনগর উপজেলার বিটঘর এবং টিয়ারা গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি খেজুরগাছ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য নলি তৈরির কাজ করতে দেখা যায় কয়েকজন গাছিকে।

গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতের শুরুতে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের জন্য কাটার কাজ শুরু হয়। এভাবে কয়েক দিন রেখে দেওয়া হয়। ১০ থেকে ১৫ দিন পর কাটা অংশে চোখ বা নলি তৈরি করা হয়। এই নলি দিয়ে রস ঝোলানো মাটির হাঁড়িতে গিয়ে পড়ে। যেদিন হাঁড়ি ঝোলানো হয়, পরের দিন সকালে গিয়ে রসসহ হাঁড়ি নামিয়ে আনেন গাছিরা।

এই গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকার অনেক লোকজন গাছতলা থেকেই পানের জন্য রস খেয়ে যান এবং সাথে করে কিনে নিয়ে যান।

গাছি মোঃ সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, ‘কিছুদিন হলো খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছি। শুরুর দিকে হওয়ায় এখন রস পড়ছে কম। শীত একটু জেঁকে বসলে রস ভালো পড়বে। তখন রস মিষ্টিও হবে বেশি।’ আমাদের এখানে কয়েক ধাপে সেফটিও রাখা হয়েছে।

নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের গাছি সাইদুল ইসলাম ও তাঁর ভাই আল আমিন এবার ২০ থেকে ২২টি খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করবেন। এবং এতে ৭০ থেকে ৮০ লিটার রস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার বাবার আমল থেকেই দেখে আসছি শীতকাল এলেই খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে। এখন আমরা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করি।

নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামের আরেক চাষি কাউছার মিয়া এবার ৫ থেকে ৭টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবেন। তিনি প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, আগের মতো তাঁদের এলাকায় খেজুরগাছ পাওয়া যায় না। অনেক মালিক গাছ কেটে ফেলেছেন। তবে সেই পরিমাণ নতুন করে গাছ লাগানো হয়নি। শীতের সময় রস পাওয়া ছাড়া গাছগুলো থেকে তেমন কিছু হয় না। এ কারণে অনেকে খেজুরগাছ রাখেন না। আবার অনেকে গাছ কেটে মাটির বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করেন। তাঁরা বলেন, মানুষের এত পরিমাণের চাহিদা সে অনুযায়ী আমরা রস দিতে পারি না। রাত হলে কয়েকটি গাছ থেকে রস চুরি হয়ে যায়। সকালে বিভিন্ন দূর এলাকা থেকে রস খাওয়ার জন্য ভিড় করে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে। এরজন্য বাড়িতে আরো বেশ কিছু খেজুরের চারা লাগিয়েছি।