“অবৈধ ৮৭ মানি চেঞ্জার আইনের জালে”
- প্রকাশের সময় : ০৪:১৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
- / ৪৪২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || অবৈধ ৮৭ মানি চেঞ্জার আইনের জালে|
দেশে ডলার সংকটের পর থেকে অর্থ পাচারের সবগুলো চ্যানেলে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। মানি চেঞ্জারগুলোকেও আনা হয়েছে বিশেষ নজরদারির আওতায়। বৈধ ও অবৈধ শতাধিক মানি চেঞ্জারের অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।”
এর মধ্যে অবৈধ ৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসাবে অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের জবানবন্দি গ্রহণ, সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ এবং বক্তব্য প্রদানের জন্য নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় আনার এটি প্রথম ধাপ। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে মামলা করবে সিআইডি। এজন্য সংস্থাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।”
সিআইডির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মানি চেঞ্জারের অনিয়ম অনুসন্ধানে প্রধানত পাঁচ ধরনের অপরাধ পেয়েছেন তারা। এগুলো হলো-ডলারের মূল্য বাড়াতে কারসাজি, বিদেশে অর্থ পাচার, নগদ অর্থ লেনদেনের হিসাবে কারচুপি, লাইসেন্স ছাড়া অবৈধ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং অনুমোদন ছাড়া একাধিক শাখা পরিচালনা। বিএফআইইউ ও সিআইডির পৃথক অনুসন্ধানে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে দুই সংস্থার তালিকাতেই কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম আছে। সবমিলিয়ে আইনের জালে আসছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮৭। তবে এই তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। কারণ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত মানি চেঞ্জারগুলোর মধ্যে বর্তমানে ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে বৈধ-অবৈধ, বেআইনি শাখা মিলে মানি চেঞ্জারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০০টির মতো। এ হিসাবে অবৈধ মানি চেঞ্জার বা শাখা রয়েছে ৯৬৫টি। এছাড়া আদালতে মামলা দায়ের করে বিচার চলমান থাকায় ১৩টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের তালিকাও রয়েছে সিআইডির হাতে।”
জানতে চাইলে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) হুমায়ুন কবির বলেন, অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় আনতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে আমরা তাদের নোটিশ পাঠাই। এরপর তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সেখানে তাদের কার্যক্রমের সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের হিসাব জানতে চাই। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। চূড়ান্তভাবে অপরাধের প্রমাণ হাতে পেলে আমরা মামলা করি। অবৈধ মানি চেঞ্জারগুলোর ক্ষেত্রে আমরা এই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করছি।”
সিআইডি সূত্র জানায়, অবৈধ ৮৭টি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টির সম্পদের হিসাব চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ১২টি প্রতিষ্ঠানের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এদের বাইরে আরও ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে জানাতে নেটিশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে অর্থ পাচারে জড়িত সন্দেহে ২৮টি মানি চেঞ্জারের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ। ২০টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিআইডিকে চিঠি দিয়েছে। আর লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশি মুদ্রা লেনদেন করায় ১১টি এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া বিএফআইইউর তদন্তে ১৩টি মানি চেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে হুন্ডির অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
অবৈধ মানি চেঞ্জারের তালিকায় যারা : তালিকায় যেসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে প্রায় সবগুলোই ঢাকায় অবস্থিত। ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৮০ ভাগই মতিঝিল, গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা, মোহাম্মদপুর ও পল্টন এলাকার। এর বাইরে যশোরের তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আইনের জালে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ওয়াইএমসি মানি চেঞ্জার, সানশাইন মানি চেঞ্জার, সিএমসি মানি চেঞ্জার, কেএমসি মানি চেঞ্জার, কসমিক মানি চেঞ্জার। তালিকায় আরও আছে-এমবি মানি এক্সচেঞ্জ, আল মদিনা মানি চেঞ্জার কোং লি., মিম মানি চেঞ্জার, ডব্লিউএমএফ মানি চেঞ্জার, এইচএম ট্রাভেলস, নাইটেঙ্গেল মানি চেঞ্জার, এমএম মানি চেঞ্জার। এদের প্রত্যেকে জবানবন্দি প্রদান করেছে। এদের সম্পদের হিসাবও চাওয়া হয়েছে। ইস্টল্যান্ড মানি চেঞ্জার ও আরিয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সম্পদের তথ্য চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রদান করা হয়েছে-দোহার মানি এক্সচেঞ্জ, ওয়েলকাম মানি একচেঞ্জ, খান অ্যান্ড চৌধুরী মানি চেঞ্জার, সোনারগাঁও ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল, এ জে মানি চেঞ্জারস লি. ও গুলশান-২ এর প্লাডিয়াম মার্কেটের নিচতলার নামহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে। এখানে উল্লেখিত সবগুলো নাম বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনে এসেছে।’
এর বাইরে নোটিশ পাঠানো হয়েছে-আনন্দ মানি চেঞ্জার, খান এন্টারপ্রাইজ, তৃষা মানি চেঞ্জার, রাজ মানি এক্সচেঞ্জ, মির্জা মানি এক্সচেঞ্জ, গ্যালাক্সি মানি এক্সচেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল, আবিয়া মানি এক্সচেঞ্জ, জে.এম মানি চেঞ্জার, অ্যাঞ্জেলস মানি চেঞ্জার, এস.কে মানি চেঞ্জার ও মেঘা মানি চেঞ্জার। তালিকায় আরও নাম আছে- কে.টি মানি এক্সচেঞ্জ, কে অ্যান্ড কে এক্সচেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল, আলম অ্যান্ড ব্রাদার্স মানি এক্সচেঞ্জ, প্রাইম ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ, গোল্ডেন মানি এক্সচেঞ্জ, আলম মানি এক্সচেঞ্জ ও তানিয়া মানি এক্সচেঞ্জের। তালিকায় থাকা যশোরের তিন প্রতিষ্ঠান হলো-ভাই ভাই স্টোর, রিপন স্টোর ও ওয়াহিদুল স্টোর। স্বর্ণা মানি একচেঞ্জ, তৈমুর মানি চেঞ্জার, রিলায়েবল মানি একচেঞ্জ, ইস্পা মানি চেঞ্জারস, হাসান মানি চেঞ্জার, সোবাহানবাগের নাইটঙ্গেল মানি একচেঞ্জ, হক মানি এক্সচেঞ্জ, এসএস মানি চেঞ্জার, জে এম মানি চেঞ্জার, আইডিয়াল মানি এক্সচেঞ্জ, জে এন্ড জে মানি এক্সচেঞ্জ, এম কে মানি চেঞ্জার, এয়ার ম্যাগন্টে টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস।
সিআইডির গোয়েন্দা অনুসন্ধানে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকার আরও নাম আছে-টাইম মানি এক্সচেঞ্জ, নবারুন মানি এক্সচেঞ্জ, আশাহি মানি এক্সচেঞ্জ, তাহসিনা মানি এক্সচেঞ্জ, গুলশান-১ এর এমবি মানি এক্সচেঞ্জ, সন্তু মানি চেঞ্জার, তোন্না মানি এক্সচেঞ্জ, রহমান মানি চেঞ্জার, শাপশা মানি এক্সচেঞ্জ, গুলশান-১ এর গুলশান শপিং সেন্টারের দ্বিতীয়তলার একটি প্রতিষ্ঠান (মালিক : সিহাব)। বি.এন.কে, টিপু মানি চেঞ্জার, কর্নিকা মানি চেঞ্জার, ময়মনসিংহ মানি চেঞ্জার, রিয়েল মানি চেঞ্জার, সিয়াম মানি চেঞ্জার, খাদিজা মানি চেঞ্জার, সানজিদ মানি চেঞ্জার, রিলাইস মানি চেঞ্জার, সানসিটি মানি চেঞ্জার, সারা মানি চেঞ্জার রয়েছে তালিকায়। অবৈধ মানি চেঞ্জারের মধ্যে আরও আছে-ভৈরব মানি চেঞ্জার, কপোতাক্ষ মানি চেঞ্জার, মিরপুর-১০ এর এমবি মানি চেঞ্জার, ই.পি মানি এক্সচেঞ্জ, আমির মানি এক্সচেঞ্জ, মানি মাস্টার এক্সচেঞ্জ, রিলায়েন্স মানি এক্সচেঞ্জ, লিগ্যাল মানি এক্সচেঞ্জ, এস.এম.টি মানি এক্সচেঞ্জ ও টাইম মানি এক্সচেঞ্জ।
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট






















