ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরে নাসের রহমানের ডিও গ্ৰামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত আহত শ্রীমঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযানে ৫জন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

মনোহরদীতে ভূল চিকিৎসায় জীবন বিপন্ন

সিনিয়র রিপোর্টার, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৭৭ বার পড়া হয়েছে
৭৮

সিনিয়র রিপোর্টার, প্রতি:- মনোহরদীতে ভূল চিকিৎসায় জীবন বিপন্ন।

নরসিংদীর মনোহরদীতে হাতুরে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ প্রয়োগে বাচ্চু মিয়া নামে এক ব্যক্তির জীবন আজ বিপন্ন। অসুস্থ বাচ্চু মিয়া পেশায় একজন গাড়ী চালক। তিনি চালাকচর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে।

হাতুড়ে চিকিৎসক চালাকচর বাজারের নিউ অনন্যা ফার্সেমীর সত্বাধীকারী নারায়ণ চন্দ্র মোদক ও তার সহযোগী মাসুদ। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীর স্ত্রী সেলিনা বেগম।
অভিযোগে জানা

যায়, তিনমাস আগে বাচ্চু মিয়ার পায়ে চুলকানী দেখা দেয়। পরে ওষুধ আনতে চালাকচর বাজারের নিউ অনন্যা ফার্মেসীতে যান তিনি। সেখানে কথিত চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র মোদকের পরামর্শে তার সহযোগী মাসুমকে দেখালে তিনি কিছু ওষুধ লিখে দেন। এতে প্রতিকার না পেয়ে এক সপ্তাহ পর পুনরায় সেখানে যান বাচ্চু মিয়া। কোন পরীক্ষা ছাড়াই নারায়ণ চন্দ্র মোদক তার নিজস্ব ব্যবস্থাপত্রে নতুন করে ইঞ্জেকশনসহ কিছু ওষুধ লিখে দেন। সেগুলো প্রয়োগের পর তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে বাচ্চু মিয়ার শরীরের চামড়া পুড়তে থাকে। হাতের নখ, মাথার চুল ও পশম ঝড়তে শুরু করে। এরপর বাচ্চুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তার স্বজনরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি ওই মেডিক্যালের সহকারী অধ্যাপক এটিএম আসাদুজ্জামানের তত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেনত বাচ্চু মিয়া অপচিকিৎসার শিকার। ভূল ওষুধ প্রয়োগ করায় তার শরীর ঝলসে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কথিত চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র মোদক চালাকচর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে। তার ভূল চিকিৎসায় সহজ-সরল রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র মোদকের সঙ্গে কথা বলতে তার নিউ অনন্যা ফার্সেসীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলের দাবি তার বাবা এই চিকিসা দেননি।
মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন, এমনটি ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম কাসেম বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মনোহরদীতে ভূল চিকিৎসায় জীবন বিপন্ন

প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২২
৭৮

সিনিয়র রিপোর্টার, প্রতি:- মনোহরদীতে ভূল চিকিৎসায় জীবন বিপন্ন।

নরসিংদীর মনোহরদীতে হাতুরে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ প্রয়োগে বাচ্চু মিয়া নামে এক ব্যক্তির জীবন আজ বিপন্ন। অসুস্থ বাচ্চু মিয়া পেশায় একজন গাড়ী চালক। তিনি চালাকচর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে।

হাতুড়ে চিকিৎসক চালাকচর বাজারের নিউ অনন্যা ফার্সেমীর সত্বাধীকারী নারায়ণ চন্দ্র মোদক ও তার সহযোগী মাসুদ। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীর স্ত্রী সেলিনা বেগম।
অভিযোগে জানা

যায়, তিনমাস আগে বাচ্চু মিয়ার পায়ে চুলকানী দেখা দেয়। পরে ওষুধ আনতে চালাকচর বাজারের নিউ অনন্যা ফার্মেসীতে যান তিনি। সেখানে কথিত চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র মোদকের পরামর্শে তার সহযোগী মাসুমকে দেখালে তিনি কিছু ওষুধ লিখে দেন। এতে প্রতিকার না পেয়ে এক সপ্তাহ পর পুনরায় সেখানে যান বাচ্চু মিয়া। কোন পরীক্ষা ছাড়াই নারায়ণ চন্দ্র মোদক তার নিজস্ব ব্যবস্থাপত্রে নতুন করে ইঞ্জেকশনসহ কিছু ওষুধ লিখে দেন। সেগুলো প্রয়োগের পর তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে বাচ্চু মিয়ার শরীরের চামড়া পুড়তে থাকে। হাতের নখ, মাথার চুল ও পশম ঝড়তে শুরু করে। এরপর বাচ্চুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তার স্বজনরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি ওই মেডিক্যালের সহকারী অধ্যাপক এটিএম আসাদুজ্জামানের তত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেনত বাচ্চু মিয়া অপচিকিৎসার শিকার। ভূল ওষুধ প্রয়োগ করায় তার শরীর ঝলসে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কথিত চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র মোদক চালাকচর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে। তার ভূল চিকিৎসায় সহজ-সরল রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র মোদকের সঙ্গে কথা বলতে তার নিউ অনন্যা ফার্সেসীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলের দাবি তার বাবা এই চিকিসা দেননি।
মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন, এমনটি ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম কাসেম বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’