ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরে নাসের রহমানের ডিও গ্ৰামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত আহত শ্রীমঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযানে ৫জন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

“খুলনায় সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রকাশ”

রিপু
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৫৮ বার পড়া হয়েছে
৮০

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || খুলনায় সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রকাশ|

গণপরিবহন বন্ধ করে খুলনায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তারা।’

গণসংহতি আন্দোলনের মিরপুর জোনের আহ্বায়ক মাহবুব রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নূর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন প্রমুখ।’

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা ভোট ডাকাত, চোর, লুটেরা; এরা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) এই গণবিরোধী সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে চাই।’

মান্না বলেন, ‘খেতে না পারা মানুষ প্রতিদিন সরকারকে গালি দিচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রাখব। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করব। আমরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের খোলনলচে পাল্টে ফেলব।’

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভোট ডাকাতির সরকার লুটপাট, ডলার পাচার, রিজার্ভ চুরি করে বাংলাদেশকের দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই মানুষের জীবন নাকাল, সেই নাকাল জীবনকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার। কারণ সরকার নিজেই সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গণ আন্দোলনের ভয়ে নার্ভাস সরকার গত দুই মাসে পাঁচজন নাগরিককে মিছিল সমাবেশে গুলি করে হত্যা করেছে। তবুও মানুষের ঢল রুখতে না পেরে আজ তার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমাবেশ পণ্ড করতে পরিবহন বন্ধ কর অঘোষিত হরতাল করছে এই সরকার। এটা আওয়ামী লীগের পরাজয় ছাড়া আর কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘এখন এই আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করতে চাই। সংবিধান সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা, শাসনতান্ত্রিক সংস্কারসহ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ৭ দফা উত্থাপন করেছি। গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে না আসলে ভারত বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থেকে এবং হামলা-মামলা কিংবা গুলি করে শেষ রক্ষা হবে না, গদি রক্ষা হবে না। আমরা সরকার পতনের লড়াইয়ের সূচনা করেছি। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগই পরিত্যক্ত হচ্ছে।’

এ সময় গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নূর বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, সরকার কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না। কৃষি-উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, সার, জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষক ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, খাদ্যঘাটতি প্রকট হবে। এই সরকার গুলি করে, পারলে কামান-ট্যাংক দিয়ে জনবিক্ষোভকে বা বিরোধী মতকে দমন করার চেষ্টা করছে। কামান-ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়েও যদি দেশকে রক্ষা করা না যায় তাহলে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব বিলিন হয়ে যাবে।’

সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা মাহবুব রতন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই; দেশে যাতে আইনের শাসন থাকে সে-রকম একটি সমাজ নির্মাণ করতে চাই। তখনকার রাষ্ট্র, তখনকার সমাজ এই লুটেরা সরকারের বিচার করবে।’

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট

এই নিউজটি শেয়ার করুন

“খুলনায় সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রকাশ”

প্রকাশের সময় : ০৪:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২
৮০

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || খুলনায় সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রকাশ|

গণপরিবহন বন্ধ করে খুলনায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তারা।’

গণসংহতি আন্দোলনের মিরপুর জোনের আহ্বায়ক মাহবুব রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নূর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন প্রমুখ।’

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা ভোট ডাকাত, চোর, লুটেরা; এরা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) এই গণবিরোধী সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে চাই।’

মান্না বলেন, ‘খেতে না পারা মানুষ প্রতিদিন সরকারকে গালি দিচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রাখব। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করব। আমরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের খোলনলচে পাল্টে ফেলব।’

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভোট ডাকাতির সরকার লুটপাট, ডলার পাচার, রিজার্ভ চুরি করে বাংলাদেশকের দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই মানুষের জীবন নাকাল, সেই নাকাল জীবনকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার। কারণ সরকার নিজেই সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গণ আন্দোলনের ভয়ে নার্ভাস সরকার গত দুই মাসে পাঁচজন নাগরিককে মিছিল সমাবেশে গুলি করে হত্যা করেছে। তবুও মানুষের ঢল রুখতে না পেরে আজ তার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমাবেশ পণ্ড করতে পরিবহন বন্ধ কর অঘোষিত হরতাল করছে এই সরকার। এটা আওয়ামী লীগের পরাজয় ছাড়া আর কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘এখন এই আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করতে চাই। সংবিধান সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা, শাসনতান্ত্রিক সংস্কারসহ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ৭ দফা উত্থাপন করেছি। গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে না আসলে ভারত বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থেকে এবং হামলা-মামলা কিংবা গুলি করে শেষ রক্ষা হবে না, গদি রক্ষা হবে না। আমরা সরকার পতনের লড়াইয়ের সূচনা করেছি। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগই পরিত্যক্ত হচ্ছে।’

এ সময় গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নূর বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, সরকার কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না। কৃষি-উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, সার, জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষক ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, খাদ্যঘাটতি প্রকট হবে। এই সরকার গুলি করে, পারলে কামান-ট্যাংক দিয়ে জনবিক্ষোভকে বা বিরোধী মতকে দমন করার চেষ্টা করছে। কামান-ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়েও যদি দেশকে রক্ষা করা না যায় তাহলে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব বিলিন হয়ে যাবে।’

সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা মাহবুব রতন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই; দেশে যাতে আইনের শাসন থাকে সে-রকম একটি সমাজ নির্মাণ করতে চাই। তখনকার রাষ্ট্র, তখনকার সমাজ এই লুটেরা সরকারের বিচার করবে।’

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট