“৪০০ বছরের ঐতিহ্যে বহমান ‘ঢাকা কেন্দ্র’”
- প্রকাশের সময় : ০৮:০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২
- / ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক।। “৪০০ বছরের ঐতিহ্যে বহমান ‘ঢাকা কেন্দ্র’”।
পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ রোডের দিকে অগ্রসর হলেই হাতের বাঁ পাশে মোহিনী দাস লেন। এখানে দেখা মিলবে একটি চৌকোণা ভবন। নাম ‘ঢাকা কেন্দ্র’। রাজধানী ঢাকার হাজারো ইতিহাস-ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র।
ঢাকার চারশ বছরের ইতিহাস যেখানে হাজারটি বইয়ে লিপিবদ্ধ। সেখানে ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের নানা জিনিসপত্র আদি ঢাকার সোনালি অতীতকে মনে করিয়ে দেয় এই ঢাকা কেন্দ্র। পাশাপাশি এটি ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ঐতিহ্যের এই কেন্দ্র যেন স্মৃতি চাদরে মিশে আছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দোতলা এই ভবনের নিচতলায় মাওলা বখশ চক্ষু হাসপাতাল। যেখানে রয়েছে মাত্র ১০ টাকায় চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থা। রয়েছে শিশুদের ছবি আকার আর্ট স্কুল। দোতলায় রয়েছে সর্দার পরিবারের ব্যবহৃত নানারকম মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র। উপরের একটি অংশে রয়েছে গ্রন্থাগার ও সুপরিসর পাঠকক্ষ। অপর অংশে রয়েছে সংগ্রহশালা, অডিটোরিয়াম, সুদৃশ্য বাগান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ভাস্কর্য।
এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রে রয়েছে মাওলা বখশ সরদার পারিবারিক গ্যালারি, পঞ্চায়েত গ্যালারি, ঢাকাবিষয়ক বই বিক্রয়কেন্দ্র, কমরেড ওসমান গনি মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, সাহিত্যিক ও লেখক মুনতাসীর মামুন ঢাকা কর্নার, ঢাকা কেন্দ্র প্রকাশনা কর্নার, বিলকিছ বানু স্মৃতি মিলনায়তন, বিজয় চত্বর, ফজলুল করিম তারা সংস্কৃতি চত্বর, সুদৃশ্য বাগান, মিলি শিশু চত্বর, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন স্মৃতি চত্বর ইত্যাদি। ঢাকাকেন্দ্র বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
ঢাকা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এটির লাইব্রেরি। যেখানে রয়েছে প্রায় ছয় হাজার বই। লাইব্রেরিতে আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’, আবু যোহা নূর আহমদের ঊনিশ শতকের ‘ঢাকার সমাজজীবন’, কেদারনাথ মজুমদারের ‘ঢাকার বিবরণ ও ঢাকা ব্রাহ্ম সমাজের ইতিহাস’, নাজির হোসেনের ‘কিংবদন্তীর ঢাকা’, নির্মল গুপ্তের ‘ঢাকার কথা’, যতীন্দ্রমোহন রায়ের ‘ঢাকার ইতিহাস’, রফিকুল ইসলামের ‘ঢাকার কথা’, সত্যেন সেনের ‘শহরের ইতিকথা’, হরিদাস বসুর ‘ঢাকার কথা’ বইয়ের মতো অসংখ্য বিখ্যাত বই রয়েছে ঢাকা কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে।
ঢাকার অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে চর্চা বা গবেষণা করতে গেলে অনেকের কাছেই প্রিয় জায়গা ঢাকা কেন্দ্র। এছাড়া এখানে ঢাকাবিষয়ক তথ্যসংবলিত পত্রিকা, সাময়িকী বা এ সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য একত্রে সন্নিবেশ করা রয়েছে। এরূপ ৫০টির মতো পেপার ক্লিপিং ভলিউম রয়েছে।
বন্ধুদের নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রে ঘুরতে আসেন জয়নাল। তিনি বলেন, এখানে সুন্দর মনোরম পরিবেশ ও ঐতিহ্যময় একটি জায়গা রয়েছে, তা আগে জানা ছিল না। এমন সুন্দর একটা পরিবেশ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। পুরান ঢাকার কোলাহল আর ব্যস্ত অলিগলির মধ্যেও এখানে এলে আলাদা প্রশান্তি পাওয়া যায়।
লাইব্রেরিতে বই পড়তে থাকা সিদ্দিক বলেন, এখানে প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক স্মৃতি সংবলিত বই রয়েছে৷ মাঝে মাঝে অবসর সময়ে এখানে চলে আসি। বাগানে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিই৷ তাছাড়া লাইব্রেরিতে খুঁজে খুঁজে বই পড়া হয়।
ঢাকা কেন্দ্রের লাইব্রেরির তত্ত্বাবধায়ক আনিস আহমেদ বলেন, ঢাকা কেন্দ্রে শুধু ঢাকা বা বাংলাদেশের লোকজন নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঢাকার ইতিহাস জানতে সুদূর ফ্রান্স, ভারত, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া থেকেও দর্শনার্থী আসেন। এখানে যেসব বই আছে সেগুলোর অনেকটাই বাইরের লাইব্রেরিতেও নেই। বিভিন্ন গবেষণার কাজ করতে এখানে অনেকেই আসেন। বই পড়েন, নোট করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে সুদূরপ্রসারী করার লক্ষ্যে মাওলা বখশ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে ঢাকা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রের এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় মাওলা বখশ সর্দার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে। ট্রাস্টি হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন মাওলা বখশ সরদারের ছেলে ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিম বখশ।






















