ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরে নাসের রহমানের ডিও গ্ৰামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত আহত শ্রীমঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযানে ৫জন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

বরগুনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪
  • / ২০৬ বার পড়া হয়েছে

সহকারী শিক্ষক এবিএম জাকারিয়া। ছবি প্রতিদনের পোস্ট

৬৩

ঢাকার বারডেম হাসপাতালের এক নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে বরগুনার তালতলীর কচুপাত্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবিএম জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবিএম জাকারিয়া ঢাকার বারডেম হাসপাতালে এক নার্সকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নার্সের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। এরপর জোরপুর্বক ঔষধ খাইয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর ভ্রন হত্যা করে। এরপর থেকে ওই নার্সের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চলতি বছরের ১৯ মে ওই নার্স ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ স্কুল শিক্ষক এবিএম জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির মামলাটি আমলে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গন্য করার নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশ মতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করেন। গতকাল রবিবার রাতে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ আমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শিক্ষক এবিএম জাকারিয়াকে আমতলী পৌর শহরের একে স্কুল এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ জাকারিয়াকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেছেন। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির আসামী জাকারিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধর্ষক এবিএম জাকারিয়া তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামের সেকান্দার আলী হাওলাদারের পুত্র।

ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারী বলেন, এবিএম জাকারিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। এতে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাই। পরে আমাকে জোর করে ঔষধ খাইয়ে ভ্রণ হত্যা করেছে। এরপর থেকে আমার সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি লম্পট এবিএম জাকারিয়ার শাস্তি দাবী করছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় একটি ধর্ষণ মামলার আসামী এবিএম জাকারিয়াকে আমতলী পৌর শহরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের একটি ধর্ষণ মামলায় স্কুল শিক্ষক এবিএম জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশে দেন।

তালতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, এবিএম জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। তিনিই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মুকিত মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিবেদন পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪
৬৩

ঢাকার বারডেম হাসপাতালের এক নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে বরগুনার তালতলীর কচুপাত্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবিএম জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবিএম জাকারিয়া ঢাকার বারডেম হাসপাতালে এক নার্সকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নার্সের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। এরপর জোরপুর্বক ঔষধ খাইয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর ভ্রন হত্যা করে। এরপর থেকে ওই নার্সের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চলতি বছরের ১৯ মে ওই নার্স ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ স্কুল শিক্ষক এবিএম জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির মামলাটি আমলে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গন্য করার নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশ মতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করেন। গতকাল রবিবার রাতে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ আমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শিক্ষক এবিএম জাকারিয়াকে আমতলী পৌর শহরের একে স্কুল এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ জাকারিয়াকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেছেন। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির আসামী জাকারিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধর্ষক এবিএম জাকারিয়া তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামের সেকান্দার আলী হাওলাদারের পুত্র।

ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারী বলেন, এবিএম জাকারিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। এতে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাই। পরে আমাকে জোর করে ঔষধ খাইয়ে ভ্রণ হত্যা করেছে। এরপর থেকে আমার সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি লম্পট এবিএম জাকারিয়ার শাস্তি দাবী করছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় একটি ধর্ষণ মামলার আসামী এবিএম জাকারিয়াকে আমতলী পৌর শহরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের একটি ধর্ষণ মামলায় স্কুল শিক্ষক এবিএম জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশে দেন।

তালতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, এবিএম জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। তিনিই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মুকিত মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিবেদন পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।