ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরে নাসের রহমানের ডিও গ্ৰামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত আহত শ্রীমঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযানে ৫জন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

নবীনগরের ফতেহপুরে এখনো ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা

খন্দকার মোঃ আলমগীর হোসেন
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৮৩ বার পড়া হয়েছে
১১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রাম আজও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ছোঁয়া পায়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী ব্রিজ। উন্নয়নের নানা প্রচার আর “স্মার্ট বাংলাদেশ”-এর স্লোগানের আড়ালে চাপা পড়ে আছে এই গ্রামের বাস্তব চিত্র।

এই ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থী সহ কয়েক হাজার মানুষ পাড়াপাড় হতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা।

বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, শ্রমজীবী এমনকি গুরুতর অসুস্থ রোগীকেও এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই পার হতে হয়।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্বজনদের।

স্থানীয়রা জানান, একটি দুর্ঘটনাই যে কোনো সময় বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য—“আমাদের জন্মের আগেও এই বাঁশের সাঁকো ছিল, আজও তাই আছে। সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, কিন্তু ফতেহপুরবাসীর কষ্ট বদলায়নি।”

গ্রামের এক শতবর্ষী বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, জীবদ্দশায় একটি পাকা ব্রিজ দেখার আশা তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়। তাদের প্রশ্ন—ভোট কি শুধু নেওয়ার জন্য? আর উন্নয়ন কি শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

ফতেহপুরের মানুষ এখন আর নতুন কোনো আশ্বাস চায় না। তারা চায় নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী ব্রিজের বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গ্রামবাসীদের একটাই দাবি—আর নয় অবহেলা, চাই বাস্তব উন্নয়ন।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নবীনগরের ফতেহপুরে এখনো ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা

প্রকাশের সময় : ০২:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রাম আজও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ছোঁয়া পায়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী ব্রিজ। উন্নয়নের নানা প্রচার আর “স্মার্ট বাংলাদেশ”-এর স্লোগানের আড়ালে চাপা পড়ে আছে এই গ্রামের বাস্তব চিত্র।

এই ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থী সহ কয়েক হাজার মানুষ পাড়াপাড় হতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা।

বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, শ্রমজীবী এমনকি গুরুতর অসুস্থ রোগীকেও এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই পার হতে হয়।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্বজনদের।

স্থানীয়রা জানান, একটি দুর্ঘটনাই যে কোনো সময় বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য—“আমাদের জন্মের আগেও এই বাঁশের সাঁকো ছিল, আজও তাই আছে। সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, কিন্তু ফতেহপুরবাসীর কষ্ট বদলায়নি।”

গ্রামের এক শতবর্ষী বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, জীবদ্দশায় একটি পাকা ব্রিজ দেখার আশা তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়। তাদের প্রশ্ন—ভোট কি শুধু নেওয়ার জন্য? আর উন্নয়ন কি শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

ফতেহপুরের মানুষ এখন আর নতুন কোনো আশ্বাস চায় না। তারা চায় নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী ব্রিজের বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গ্রামবাসীদের একটাই দাবি—আর নয় অবহেলা, চাই বাস্তব উন্নয়ন।