শিশু সাজিদকে অশ্রুসিক্ত শেষ বিদায়ে জনতার ঢল
- প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২২২ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট মধ্যপাড়া এলাকায় দুই বছরের শিশু সাজিদকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেককিড়ি কবরস্থানের সামনের ফাঁকা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে একই কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকেই পুরো গ্রামের বাতাস ছিল ভারী। মসজিদের মাইকে একের পর এক ভেসে আসছিল ঘোষণা—কোয়েলহাট পূর্বপাড়া নিবাসী রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের শিশু সাজিদ মারা গেছে। ঘোষণা শোনামাত্রই থেমে যায় গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাপন। কেউ মাঠে যাননি, দোকানপাটও খোলেননি বেশিরভাগ মানুষ। পথের ধুলো মাড়িয়ে গ্রামের মানুষ ছুটে যান সাজিদের বাড়ির দিকে—শেষবারের মতো নিষ্পাপ সেই মুখটি দেখতে।
জানাজার মাঠে সকাল থেকেই মানুষের স্রোত নামে। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া শিশু—সবাই আসেন অশ্রুসিক্ত চোখে। সাজিদের ছোট্ট দেহটি যখন সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আনা হয়, তখন শুরু হয় কান্নার রোল। শিশুটির মা বারবার ছুটে যেতে চাইছিলেন সন্তানের দিকে; আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও থামাতে পারেননি তার কান্না।
জানাজার ইমামতি করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। জানাজা শেষে দোয়ারত হাতে সবাই সাজিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করার জন্য প্রার্থনা করেন। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা শেষে যখন সাজিদের ছোট্ট কফিনটি কবরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে চারপাশ। শুধু শোনা যাচ্ছিল স্বজনদের কান্নার শব্দ। গ্রামবাসীর অনেকেই বলেন—একটি শিশুর জানাজায় পুরো গ্রাম এমনভাবে একত্রিত হওয়া বিরল ঘটনা।
এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশু সাজিদ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টানা ৩২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ৫০ ফুট মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

















