ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইতালিতে স্বামী, দেশে ফিরে প্রেমিককে বিয়ে ৪ সন্তানের জননীর খাল পরিষ্কারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, গলাপানিতে নামলেন এমপি মালদ্বীপে বিদেশি কর্মীদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া বাধ্যতামূলক মহানবীর জীবন ও কর্ম নিয়ে বেতগাড়ী হাট স্কুলে আলোচনা প্রেমিকার জন্য বাবার টাকা চুরি, রিসোর্টে অবস্থান; উপহার দিলেন আইফোন লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন চট্টগ্রামের জিয়া ১৬ ঘণ্টা খুঁটিতে বাঁধা নারী-পুরুষ, নেপথ্যে ‘পরকীয়ার অপবাদ’ ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না’: আইনমন্ত্রী নবীনগরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরুণীকে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য অমিত

যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে স্ত্রী কারাগারে, মামলা করেছেন স্বামী

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 16 বার পড়া হয়েছে

সাধারণত যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা আদালতে দায়ের করে থাকেন স্ত্রীরা। কিন্তু রাজবাড়ীতে ঘটেছে কিছুটা ব্যতিক্রম।এখানে স্বামী করেছেন স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা। আর এ মামলায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তানিয়া রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক আরিফ হোসেন তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে মোছা. তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়।মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের সময় সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।দাবি করা টাকা না দিলে সংসার করবেন না। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে ও স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যৌতুকের টাকা ছাড়া তিনি সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন।

মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন জানান, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।

কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন। এর পর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে স্ত্রী কারাগারে, মামলা করেছেন স্বামী

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সাধারণত যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা আদালতে দায়ের করে থাকেন স্ত্রীরা। কিন্তু রাজবাড়ীতে ঘটেছে কিছুটা ব্যতিক্রম।এখানে স্বামী করেছেন স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা। আর এ মামলায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তানিয়া রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক আরিফ হোসেন তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে মোছা. তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়।মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের সময় সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।দাবি করা টাকা না দিলে সংসার করবেন না। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে ও স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যৌতুকের টাকা ছাড়া তিনি সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন।

মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন জানান, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।

কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন। এর পর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’