প্রবাসীর স্ত্রীর বাথরুমে দুই যুবক, ‘সামলাতে না পেরে’ অতঃপর…
- প্রকাশের সময় : ১১:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14 বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিওধারণ করে টাকা দাবির অভিযোগে আল আমিন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আল আমিন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।পরে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর রংপুরের সদর কম্পানি এবং র্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করছিলেন। এ সময় মামলার অপর আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। নারীটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় বাইরে থাকা আল আমিন তার গলা ধরে পুনরায় তাকে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় জনি ওই নারীর নগ্ন ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, ধর্ষণের সময় ধারণ করা ভিডিও পরে অন্যত্র স্থানান্তর করেন আসামিরা। এরপর ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়। পাশাপাশি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সবশেষ পর্যায়ে ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও ওই নারীকে দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৮। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে র্যাব।
রংপুর র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় র্যাব পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও জানান, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, ব -১-এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছ।
সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে রাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।





















